জানুন সিভি তৈরি করতে কি কি লাগে

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪
জানুন সিভি তৈরি করতে কি কি লাগে
জানুন সিভি তৈরি করতে কি কি লাগে

 

শুধুমাত্র পয়সা কামানোর জন্য হোক কিংবা প্রিয় জব পাওয়ার জন্যই হোক চাকরি পেতে কিন্তু সিভি লাগবেই। যা হতে হবে গোছানো, এবং সঠিক তথ্যের সাহায্যে সাজানো। আসুন তবে আজ জানি সাধারণত সিভি তৈরি করতে কি কি লাগে। 

 

১. ব্যাক্তিগত তথ্য

সিভির শুরুতেই আপনাকে দিতে হবে ব্যাক্তিগত তথ্য। যেখানে আপনার নাম, কন্টাক্ট ডিটেইলস, ফোন নাম্বার এবং লোকেশনসহ অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। এই সেকশনে মূলত যেসব তথ্য একেবারে যোগ না করলেই নয়: 

  • সম্পূর্ণ নাম
  • ফোন নাম্বার
  • ইমেইল এড্রেস
  • ঠিকানা বা লোকেশন
  • লিঙ্কডইন প্রোফাইল 
  • প্রফেশনাল ছবি

 

২. প্রফেশনাল ডেসক্রিপশন 

সিভির এই পার্টটি হবে সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের মতো। মনে রাখবেন ২-৩ বাক্যের বেশি হলে এই পার্টটি কোনো নিয়োগকর্তাই পড়তে চায় না। সুতরাং এই পার্টে ছোট করে ক্যারিয়ারের লক্ষ্য, দক্ষতা এবং আপনি নিয়োগকর্তাকে কী দিতে পারবেন তা তুলে ধরবেন। আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সে চাকরির সাথে যেনো এসব তথ্য বা ব্যখ্যা মিলে যায় তা নিশ্চিত করে নেবেন। 

 

৩. কাজের অভিজ্ঞতা 

এরপর আপনাকে এড করতে হবে কাজের অভিজ্ঞতা। মনে রাখবেন আপনি কিন্তু রেজুমে রেডি করছেন না। আপনি রেডি করছেন সিভি। সিভিতে কিন্তু অবশ্যই কাজের অভিজ্ঞতা এড করতে হয়। এই পার্টটি সাজাতে নিচের ফরম্যাটটি ব্যবহার করতে পারেন: 

  • পদবী
  • কোম্পানির নাম
  • কোম্পানির লোকেশন
  • কাজে যোগ দেবার তারিখ
  • মূল দায়িত্ব
  • অর্জন

 

৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা

সিভিতে কাজের অভিজ্ঞতা আগে এড করে পরবর্তীতে শিক্ষাগত যোগ্যতা এড করতে হয়। মনে রাখবেন চাকরি পেতে হলে কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার চাইতে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাইহোক সিভিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক এভাবে তুলে ধরতে পারেন: 

  • ডিগ্রির নাম
  • প্রতিষ্ঠানের নাম
  • শিক্ষাকাল
  • লোকেশন
  • গুরুত্বপূর্ণ কোর্স
  • রেজাল্ট বা অর্জন

 

৫. স্কিল বা দক্ষতা 

প্রতিটি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রেই আপনার কোনো না কোনো স্কিল থাকতে হবে। এটাই প্রমাণ করবে আপনি আদৌ সেই পজিশনের যোগ্য কিনা। চাকরির সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত দক্ষতাসহ থাকতে হবে বিভিন্ন সফটস্কিল যেমন টাইমসেন্স, ম্যানেজম্যান্ট, লিডারশিপ ইত্যাদি। ভাষা হিসাবে পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, এসকিউএল এবং টুলস হিসেবে অ্যাডোবি ফটোশপ, মাইক্রোসফট অফিস স্কিল থাকলে ভালো হয়। 

 

৬. সার্টিফিকেট

আপনার যে কোনো না কোনো স্কিল আছে বা আপনি যে কাজ জানেন তা প্রমাণ করতে হলে আপনাকে সিভিতে সার্টিফিকেট শো করাতে হবে। তাছাড়া অনেক সময় এই সার্টিফিকেট এড করার বিষয়টি সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞাপনেই ক্লিয়ার করা হয়ে থাকে। 

 

৭. ভাষাজ্ঞান 

অনেক চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একটি ভাষার উপর দক্ষ হতে হয়। সুতরাং সিভিতে আপনার যে ভাষাগুলিতে দক্ষতা রয়েছে সে ভাষাগুলি লিস্ট আকারে মেনশন করতে পারেন। পাশাপাশি লেভেল যেমন ফ্লুয়েন্ট, ইন্টারমিডিয়েট ইত্যাদি মেনশন করে দিতে পারেন। 

 

৮. প্রজেক্ট এবং ইন্টার্নশিপ নিয়ে তথ্য

আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন তার সাথে রিলেটেড প্রজেক্ট ডিটেইলস এড করতে পারেন। বিশেষ করে সেসব প্রজেক্ট এড করতে পারেন যেসব প্রজেক্ট অলরেডি সাকসেসফুল হয়েছে। সেই সাথে আগে যদি কোনো ইন্টার্নশিপ করে থাকেন এবং এটি যদি আপনার আবেদন করা ফার্স্ট জব হয় সেক্ষেত্রে সেই ইন্টার্নশিপের বিষয়টিও ছোট আকারে মেনশন করতে পারেন। 

 

৯. শখ এবং রেফারেন্স 

সিভির এই অংশে আপনার চাকরির সাথে যায় এমন শখ এবং আগ্রহ মেনশন করতে ভুলবেন না কিন্তু। এক্ষেত্রে অপশন হিসাবে রাখতে পারেন পাবলিক স্পিকিং, প্রযুক্তি বিষয়ে ব্লগিং বা লিডারশিপসহ বিভিন্ন ধরণের শখ। সবশেষে সিভিতে দরকার রেফারেন্স। আপনি ২-৩ জন রেফারেন্সের তথ্য দিতে পারলে সিভি অনেক মানসম্মত হয়ে উঠবে। 

 

মনে রাখবেন সিভিকে প্রফেশনাল লুক দিতে অ্যারিয়াল, ক্যালিব্রি বা টাইমস নিউ রোমানের মতো প্রফেশনাল ফন্ট ব্যবহার করাটা জরুরি। বডি টেক্সটের জন্য ১০-১২ পয়েন্টের মধ্যে ফন্ট সাইজ রাখতে পারেন। প্রয়োজনে বুলেট পয়েন্ট এবং বিভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করুন। ও হ্যাঁ! নির্দিষ্ট চাকরির জন্য আপনার সিভি কাস্টমাইজ করতে ভুলবেন না কিন্তু। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ