সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন

সেরা মানের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরি করবেন যেভাবে

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩
পোস্ট ডিজাইন

কোনো একটি ব্র্যান্ড দাঁড় করানোর জন্য বা নিজের মার্কেটিং করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে উঠতে পারে সেরা প্ল্যাটফর্ম।

এক্ষেত্রে মানসম্মত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন প্রয়োজন। তাছাড়া অনেকেই এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করেও সার্ভিস সেলিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। 

 

মূলত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন কেমন হবে তার কোনো নির্দিষ্টতা নেই। তবে একটি ডিজাইনকে আকর্ষণীয়, মানসম্মত এবং প্রফেশনাল করতে বেশকিছু টিপস ফলো করা উচিত। মূলত সেসব টিপস নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আর্টিকেল। সুতরাং আমাদের সাথেই থাকুন। 

 

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন কি? 

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন হলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন Instagram, Facebook, TikTok, Twitter ইত্যাদি সেক্টরে আপলোড করা ভিজুয়াল কপি। প্রোফাইল ছবি, গ্রাফিক্স এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়ালসহ বিভিন্ন সেক্টরে এই ডিজাইন ব্যবহার করা হয়। 

 

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরির ১০ টি টিপস 

সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন তৈরি করার সময় ডিজাইনকে আরো প্রফেশনাল লুক দিতে নিচের টিপসগুলি ফলো করতে পারেন। আশা করি কাজে দেবে। 

 

১. ভিজুয়াল স্ট্র্যাটিজি তৈরি করুন

থিম সম্পর্কিত উদ্দেশ্য, বর্ণনা, সময় এবং অন্যান্য তথ্যগত বিষয়গুলি জোগাড় করা এবং কোথায় কি বসবে তা ঠিক করে নেওয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরির প্রথম ধাপ। এই ধাপের উপর ডিজাইন কতটা পার্ফেক্ট হবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে। 

 

মূলত প্রতিটি কোম্পানিরই একটি ব্র্যান্ড পরিচয় এবং ভিজ্যুয়াল ভাষা রয়েছে। আপনাকে তা বুঝতে হবে বা জানতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলি লক্ষ্য রেখে সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইনের ভিজুয়াল স্ট্র্যাটিজি তৈরি করে নিতে পারেন: 

 

  • অডিয়েন্স রিসার্চ: আপনার অডিয়েন্স কোন ধরণের ডিজাইন পছন্দ করবে তা রিসার্চ করুন। মূলত শিশুরা যে ধরণের ডিজাইন পছন্দ করবে, তরুণ সমাজের অডিয়েন্সরা সে ধরণের ডিজাইন পছন্দ করবে না। সুতরাং এই অডিয়েন্স রিসার্চ জরুরি। 
  • মোড বোর্ড: সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরি মোড বোর্ড হলো সাবজেক্ট, রঙ প্যালেট এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল সঠিকভাবে যোগ করার প্রস্তুতি করা। পাশাপাশি অডিয়েন্স কোন ধরণের সাবজেক্ট, রঙ প্যালেট এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল পছন্দ করে তা রিসার্চ করা। 
  • থিম: সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইনের বিভিন্ন থিম রয়েছে। যা কালার, প্ল্যাটফর্ম এবং সাবজেক্ট ইত্যাদির উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। আপনাকে এই বিষয়টি নিয়েও রিসার্চ করতে হবে। 
  • প্ল্যাটফর্ম: আপনি কোন মিডিয়াতে এই ছবি আপলোড করবেন তা ঠিক করে নিন। কারণ এর উপর ডিজাইনের সাইজ নির্ভর করবে। 

 

২. ডিজাইন বেসিক জানুন 

আপনার টপিকের সাথে ডিজাইনের বেসিক থিম মিল থাকবে হবে। তবে প্রতিটি ডিজাইনেরই কিছু বেসিক নিয়ম থাকে। যা সব ডিজাইনে একইভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন ডিজাইনে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করার বিষয়টি। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইনকে প্রফেশনাল দেখাতে যেসব ইমেইজ ব্যবহার করবেন তাতে যেনো ন্যাচারাল লাইটিং থাকে। 

 

কন্ট্রাস্ট ভারসাম্য প্রদান করে, পড়তে সহজ, কালো-সাদা পরিবেশে ভালো কাজ করে এবং কন্ট্রাস্ট পয়েন্ট ডিজাইনে রাখুন। এছাড়াও ডিজাইনকে এক নাম্বার করতে নিশ্চিত করুন যে আপনার ভিজ্যুয়াল বোঝা যাচ্ছে এবং খুব সহজেই থিম ফুটে উঠছে। পাশাপাশি রঙয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কালার মিক্সিং সম্পর্কে জানতে গুগলের সাহায্য নিন। 

 

৩. ফ্রি টুলস এবং রিসোর্স ব্যবহার করুন

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরিতে অবশ্যই ভালো টুলস এবং রিসোর্স ব্যবহার করতে হবে। আপনি চাইলে এসব টুলস এবং রিসোর্স ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন। ভালো ইমেইজ পেতে সরাসরি নিজেই ছবি তুলুন অথবা পিক্সেবে থেকে সংগ্রহ করুন৷ 

 

৪. কপিরাইটের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

আপনি ডিজাইনার হোন বা মার্কেটার সবসময় ডিজাইনের কপিরাইটের জন্য সতর্ক থাকুন। আপনি যেনো কারো ডিজাইন কপি করে ব্যবহার না করেন এবং অন্য কেউও যেনো আপনার ডিজাইন কপি করতে না পারে তা নিশ্চিত করুন। 

 

বিশেষ করে যখন ইমেজ কপিরাইট বিষয় আসবে তখন বিষয়টি এক পাশে না রেখে গুরুত্ব দিন। অন্যের ইমেজ ব্যবহার না করে ফ্রিতে ইমেজ পাওয়া যায় এবং ওয়েবসাইট বা টুলসের সাহায্য নিন। মোটকথা ডিজাইন করার সময় স্টক ফটো, টেমপ্লেট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। আর যদি কপিও করেন তবে ক্রেডিট দিতে ভুলবেন না। 

 

পাশাপাশি ডিজাইন করার সময় আইডিয়া নিতে গিয়ে যেনো হুবহু কপি হয়ে না যায় সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। 

 

৫. পরিমাপে ঠিক থাকুন

সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন তৈরি করার সময় আপনাকে অবশ্যই এর সাইজ ঠিক রাখতে হবে। কারণ ভুল ইমেজ সাইজ ব্যবহার করা মানেই নিজের সার্ভিসের কোয়ালিটি কমে যাওয়া এবং বায়ারের মার্কেটিংয়ের নেগেটিভ প্রভাব পড়া। 

 

ডিজাইনে যেমন ভুল আকৃতির অনুপাত বা কম রেজোলিউশনের ছবি ব্যবহার করতে চাইছেন সেসব ছবিকে এডিট করে নিন। আর এডিট করা না গেলে তা পুরোপুরি বাদ দিন। 

 

তাছাড়া শুধুমাত্র ডিজাইনের সাইজের ব্যাপারে সতর্ক না থাকে পাশাপাশি সতর্ক থাকুন ডিজাইনের ভেতরে থাকা ইমেইজের সাইজের ব্যাপারে। 

 

মনে রাখবেন প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব স্পেসিফিকেশন রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে সাইজ ঠিক রাখতে হবে। যারা সেরা মানের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরি করতে গিয়ে কেবলমাত্র সাইজের জন্য সমস্যায় পড়ছেন তারা নিম্নোক্ত টিপসগুলি ফলো করতে পারেন: 

 

  • ডিজাইনের হোরিজোনাল স্টোরি মাথায় রাখুন
  • এমন একটি টেমপ্লেট ব্যবহার করুন যাতে মেইন ইমেজ ছোট বা বড় দেখা না যায়
  • সমস্ত ডিভাইস বিবেচনা করে ডিজাইন সাইজ ঠিক করুন
  • ব্যবহৃত ডিভাইসের উপর নির্ভর করে টেক্সট, ইমেজ এবং গ্রাফিক্সের সাইজ রাখুন
  • আপনার অডিয়েন্স কোন ডিভাইস ব্যবহার করে তা রিসার্চ করে নিন 
  • ২৫০ থেকে ৩১০ পিক্সেলের ডিজাইনে কোনো ধরণের ইমেজ না রাখার চেষ্টা করুন
  • পোস্ট করার আগে সাইজের দিক দিয়ে ডিজাইন ঠিক আছে কিনা চেক করুন

 

আশা করি সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন তৈরি করার সময় যাদের সাইজ নিয়ে সমস্যা হবে তারা এই টিপস ফলো করে ঝামেলামুক্ত থাকতে পারবেন। 

 

৬. টেক্সটে রুচিশীলতার পরিচয় দিন

ডিজাইনে যেকোনো ইমেজ, গ্রাফিক্স, স্টাইলাইজড টাইপোগ্রাফি বা টেক্সট ওভারলে ব্যবহার করার সময় রুচিশীলতার কথা মাথায় রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইনে সবসময় সুস্পষ্ট, সহজবোধ্য এবং সংক্ষিপ্ত টেক্সট রাখাটাই বেটার। 

 

ডিজাইনের যেকোনো টেক্সট ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে ওয়েব কন্টেন্ট অ্যাক্সেসিবিলিটি নির্দেশিকা বা WCGA ৪.৫ থেকে ১ এর মধ্যে থাকা কন্ট্রাস্ট ব্যবহার করুন। এতে ডিজাইন দেখতে বেশ ইউনিক এবং রুচিসম্মত দেখাবে। যাইহোক ডিজাইনের টেক্সট ঠিক রাখতে জেনে নিন: 

 

  • বানান এবং ব্যাকরণ ট্রিপল চেক দিন। আবারও বলছি ট্রিপল চেক দিন
  • টেক্সট রেডি করতে গ্রামারলি এবং Google ডক্সের মতো টুল ব্যবহার করুন
  • ফন্টগুলি সাবধানে ব্যবহার করুন অথবা মিক্স করুন
  • সবুজ এবং লাল বা নীল এবং হলুদ রঙের মিক্স এড়িয়ে চলুন
  • লাইনের দৈর্ঘ্য ছোট রাখুন
  • টেক্সট অ্যানিমেট করুন

 

৭. প্রেজেন্টেশনে সচেতন হোন

যতটা সম্ভব প্রেজেন্টেশনে সচেতন হোন। কোন বয়সী অডিয়েন্স কেমন ডিজাইন পছন্দ করবে এবং কিভাবে তা তাদের সাথে প্রেজেন্ট করতে হবে সে ব্যাপারে সচেতন হোন। এক্ষেত্রে বিহ্যান্স বা গুগলের সাহায্য নিতে পারেন। 

 

Facebook, Twitter, LinkedIn, এবং Instagram এর মতো মিডিয়াতে আপনার ডিজাইন আপলোড করার সময় এসইও ব্যবহার করুন এবং আলট্রা সেট করুন। বর্ণনামূলক অল্ট-টেক্সট লেখার জন্য সাবটাইটেল ব্যবহার করতে পারেন বা ধারণা নিতে পারেন। 

 

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরিতে যেসব টুলসের সাহায্য নিতে পারেন

আর্টিকেলের এই অংশে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করতে সহজেই ব্যবহার করা যায় এমনকিছু টুলস বা সফটওয়্যার সম্পর্কে জানবো। 

 

ক্যানভা: ক্যানভা সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। Hootsuite ড্যাশবোর্ড থেকে অন-ব্র্যান্ড ডিজাইন তৈরিতে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এই টুলস আপনাকে আপনার ক্যানভা ফোল্ডারগুলি থেকে পূর্বে তৈরি ডিজাইনগুলির সাথে ইউনিক কিছু তৈরিতেও যথেষ্ট সাহায্য করবে। 

 

ইজিলি: Easelly হলো আরো একটি ডিজাইনিং টুলস। এই টুলসের সাহায্যেও আপনি সহজেই সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন। এটি আপনাকে ফ্রিতে কয়েক মিনিটের মধ্যে সুন্দর ইনফোগ্রাফিক তৈরি করে ডিজাইনকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে। 

 

অ্যাডোবি ফটোশপ: এই টুলসের আসল নাম হলো Adobe Express। যা আপনাকে ৩৪,০০০ টিরও বেশি টেমপ্লেটের নিশ্চয়তা দেবে। এর মাধ্যমে আপনাকে ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ এডিটর ব্যবহার করে ডিজাইন কাস্টমাইজ করে নিতে হবে। 

 

Pixlr: যারা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন টেমপ্লেট খুঁজছেন তারা এই টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন। কোলাজ, ফটো ফিল্টারের মতো ফটো রিলেটেড সকল ফিচার এতে এড করা আছে। 

 

আশা করি ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন তৈরিতে আমাদের আজকের এই আলোচনা আপনাকে কিছুটা হলেও উপকৃত করবে। আর হ্যাঁ, যেকোনো ডিজাইনিং অর্ডার গ্রহণ করার সময় ব্র্যান্ড নির্দেশিকা, বিদ্যমান লোগো বা আইকন, মেসেজিং ব্রিফ ইত্যাদি সরাসরি বায়ার বা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জেনে নিন। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ