
কথাই আছে যে মাস আত্মাকে রিসেট করে, জীবনকে শুদ্ধ করে সে মাসের নাম রমজান। যারা মানে করেন রমজান মানেই শুধু রোজা রাখা, ইফতারের সময় হালিম-বেগুনি আর রাত জেগে তারাবি পড়া তারা মূলত রমজানকে খুব ছোট করে দেখছেন। কারণ রমজান হলো এমন এক মাস, যে মাসে আল্লাহ নিজেই তার বান্দাকে ডাকেন।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন রমজান মাস কেন এত বিশেষ? কারণ রমজান কোনো সাধারণ মাস নয়। এটাই একমাত্র মাস যে মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, যে মাসের এক রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, যে মাসে জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ভাবুন তো এই এক মাসেই যদি এত সুযোগ থাকে, তাহলে আল্লাহ আমাদের ঠিক কতটা ভালোবাসেন!
রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব হিসাবে শুরুতে বলবো নিজেকে গড়া তোলার সুযোগের ব্যাপারে। অনেকেই ভাবে, “রোজা মানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খাওয়া। কিন্তু ইসলামে রোজার অর্থ আরও গভীর। কারণ রোজা আমাদের শেখায় ধৈর্য, আত্মসংযম, লোভ দমন এবং খারাপ কথা ও কাজে না বলা।
রাসুল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ছাড়ে না, আল্লাহর কাছে তার না খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তার মানে কী? তার মানে রোজা শুধু পেটের না, হতে হবে চরিত্রেরও।
রমজান হলো ক্ষমা পাওয়ার মাস। এই মাসে এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই মাসে সামান্য দোয়া, সামান্য কান্নাও আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। তাছাড়া এই মাসেই শয়তানকে শিকলবন্দি করা হয়। এখন যদি কেউ বলে, আমার সময় নাই, মন চায় না তাহলে সত্যি বলতে, এটা সময়ের অভাব না, অবহেলার ফল।
জীবনের ভাগ্য বদলের রাত লাইলাতুল কদর। রমজান মাসেই এই লাইলাতুল কদরের দেখা পাওয়া যায়। রমজানের শেষ দশ রাতের মধ্যে আছে এই রাত, লাইলাতুল কদর। এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি ফজিলতপূর্ণ। কারণ এই রাতে তাকদির লেখা হয়। এই রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বলুন তো এমন সুযোগ জীবনে কয়বার আসে? তাই রমজানের শেষ দশ দিনকে হালকা নেওয়া মানে নিজের ভাগ্য নিজেই অবহেলা করা।
রমজান মাস আমাদের শেখায় ক্ষুধার্তের কষ্ট কেমন, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমানো, দান-সদকা করা, অহংকার ভেঙে ফেলা, এক মাস অনুশীলন করা। মোটকথা বাকি এগারো মাস ভালো মানুষ থাকার ট্রেনিং দেয় রমজান।
মনে রাখবেন রমজান মাস শুধু ব্যক্তিগত নয় বরং সামাজিকও! রমজান মাস শুধু আপনার আর আমার জন্য না। বরং এই মাসে পরিবারের সবাই একসাথে বসে ইফতার করে, মানুষ মানুষকে সাহায্য করে, মসজিদ ভরে যায় মুসল্লিতে, মুসলমানের হৃদয় নরম হয়। তাছাড়া এই মাসটা সমাজকেও সুন্দর করে তোলে।
মনে রাখবেন রমজান এমন এক মাস যে মাসে আল্লাহ আমাদের কখনোই বলেন না, তুমি পারফেক্ট হও। বরং বলেন, তুমি চেষ্টা করো, বাকিটা আমি দেখবো। তাছাড়া যদি এই রমজানে আপনি একটু বেশি নামাজ পড়েন, একটু কম রাগ করেন, একটু বেশি ক্ষমা করেন তাহলেই আপনার রমজান মাস সার্থক। কারণ রমজান আমাদের বদলাতে আসে, আর বদলে গেলে আমাদের জীবনই বদলে যায়। রমজান মুবারক।