
হাতে টাকা কম থাকলেও এবার ঘুরে আসা যাবে বিদেশ থেকে। তাও উপভোগ করা যাবে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের মনোমুগ্ধকর পাহাড়, বরফঢাকা উপত্যকা আর ইতিহাসে ভরা শহরগুলো। চলুন তবে আর দেরি না করে কিভাবে পাকিস্তান ট্যুরের ভিসা পাবেন, বিমান ভাড়া, হোটেল, যাতায়াত, খরচ কত পড়বে, কোন সময় যাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত হবে এবং কোথায় কোথায় ঘুরবেন এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
শুরুতে আমরা আলোচনা করবো পাকিস্তান ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে। কারণ পাকিস্তান ট্যুর শুরু করার প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে ভিসা আবেদন করা। আপনি ঘরে বসে কিংবা যেকোনো কম্পিউটার দোকান থেকে এই আবেদনটা করতে পারেন। এক্ষেত্রে:
শুরুতেই বলে রাখি ঢাকা থেকে সরাসরি লাহোর ফ্লাইট সবচেয়ে সাশ্রয়ী। কারণ ইসলামাবাদ বা করাচির টিকিট তুলনামূলক বেশি দামী। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে লাহোর রাউন্ড টিকিট মানে যাওয়া-আসার খরচ পড়বে ৪২,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকার মতো। আর জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স হিসাবে আপনি পছন্দ করতে পারবেন Biman Bangladesh, Qatar Airways, Emirates, Air Arabia। আর হ্যাঁ আপনাকে ভিসা হাতে পাওয়ার পরই টিকিট বুক করে নিতে হবে। তাছাড়া সিজন ও তারিখ অনুযায়ী রেট ওঠানামা করে…এটাও মাথায় রাখতে হবে।
এবার আসি লাহোর থেকে ইসলামাবাদে কিভাবে যাবেন সে ব্যাপারে। লাহোরে পৌঁছে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে ব্যান্ড রোড বাস টার্মিনাল এ চলে যাবেন। সেখান থেকে ইসলামাবাদের বাস সহজেই পাবেন। ভাড়া পড়বে প্রায় ১,০০০ টাকা, এবং সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা।
ইসলামাবাদ বিশ্বের অন্যতম সুন্দর রাজধানী। এখানে সব বাজেটের হোটেল পাওয়া যায়। তবে গড়ে রুম ভাড়া পড়বে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকার মতো। এখানকার অনেক হোটেলেই ফ্রি ব্রেকফাস্ট থাকে। আর সহজে হোটেল বুক করতে ব্যবহার করতে পারেন Booking.com বা Agoda অ্যাপে। যদি আপনার সাথে মহিলা বা শিশু থাকে, আগাম বুকিং দেওয়া উত্তম।
লাহোর বা ইসলামাবাদে পৌঁছেই টাকাকে রুপিতে কনভার্ট করে নিতে হবে। মনে রাখবেন বর্তমানে আনুমানিক রেট ১০০ টাকা পড়বে ১৯০ পাকিস্তানি রুপি। তবে মানি এক্সচেঞ্জে কিছুটা কম রেট পেতে পারেন।
ইন্টারনেট ব্যবহার ও যোগাযোগের জন্য স্থানীয় সিমের প্রয়োজন হবে। বিদেশিরা লাহোর এয়ারপোর্ট থেকেই এই ধরণের সিম নিতে পারে। আর এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি সিম হলো Zong এবং Jazz। এয়ারপোর্টে নামার সাথে সাথেই সিম কিনে ফেলবেন। এতে ভ্রমণ আরও সহজ হবে।
লাহোর বা ইসলামাবাদে যদি আপনার ১/২ দিন থাকা লাগবে তবে সেখানকার ভালো মানের রুম মাত্র ১,০০০–১,৫০০ টাকায় ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। এই ধরণের রুমে মানে ডবল বেড রুমে ৩–৪ জন একসাথে থাকতে পারবেন, এতে খরচ কমে যাবে। তাছাড়া Booking.com অ্যাপে গেলে আপনি ইজিলি বাজেট অনুযায়ী হোটেল খুঁজে নিতে পারবেন।
ইসলামাবাদ থেকেই শুরু হয় আসল পাকিস্তান ট্যুর। মনে রাখবেন এখানকার খাইবার পাখতুনখা, গিলগিট-বাল্টিস্তান, আজাদ কাশ্মীর হলো প্রধান পর্যটন অঞ্চল। এ অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গাড়ি ভাড়া করা। কারণ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট তুলনামূলক সীমিত। আর এক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া প্রতি দিন হিসাবে ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পড়বে। আর যদি ৪/৫ জন একসাথে যেতে পারেন তবে খরচ ভাগ হয়ে অনেক কমে যাবে। বড় গ্রুপে গেলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
১৫–২০ দিনের ট্যুরে একজনের গড় খরচ হিসাবে ভিসা ফি লাগবে ৩,২০০ টাকা, বিমান ভাড়া লাগবে ৪২,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা, লাহোর–ইসলামাবাদ বাসে লাগবে ২,০০০ টাকা সবশেষে হোটেল, খাবার, ঘোরাঘুরিতে লাগবে ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা। মানে মোট খরচ হবে প্রায় ৬৫,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা। তবে ৪ থেকে ৫ জন একসাথে গেলে খরচ নেমে আসবে ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকায়।
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। এখানে আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন:
পাকিস্তান ট্যুরের অফ সিজন হলো মে থেকে নভেম্বর। এই সময় গাড়ি ও হোটেলের ভাড়া অনেক কম থাকে। আর শীতকালে মানে ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারিতে হুনজা বা স্কার্দুর রাস্তা বরফে বন্ধ থাকে। তবে সোয়াতে তখন আইস স্কেটিং ও উইন্টার গেমস উপভোগ করা যায়।
মনে রাখবেন পাকিস্তান ট্যুর হলো বাজেট ফ্রেন্ডলি আর অ্যাডভেঞ্চারভরা এক অভিজ্ঞতা। যেখানে পাহাড়, নদী, বরফ, এবং বন্ধুসুলভ মানুষ সবকিছুই আপনাকে মুগ্ধ করবে। তাছাড়া এখানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় আপনি উপভোগ করতে পারবেন এমন একটি ট্যুর, যা ইউরোপের সৌন্দর্যকেও হার মানাবে। সো এখুনি প্ল্যান করে ঘুরে আসুন।