
বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছেন? তবে স্টুডেন্ট ভিসা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টিউশন ফি, এবং ইংলিশ প্রফিশিয়েন্সি পরীক্ষা এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘুরছে? মনে রাখবেন এসব কাজে দেশভিত্তিক নিয়ম ও খরচ বুঝে না গেলে ভুল নিয়ে ফেলতে পারেন ভুল সিদ্ধান্ত। তাই এই আর্টিকেলে আমরা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, আমেরিকা ও কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে ডিটেইলড একটি আলোচনা করবো। যা থেকে আপনি মোটামুটি একটি আইডিয়া পেয়ে যাবেন।
শুরুতে বলে রাখি ইংল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য মিনিমাম IELTS স্কোর 6 প্রয়োজন। আর আর্থিক প্রমাণ হিসাবে আপনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। টিউশন ফি হিসাবে প্রতি বছর পে করতে হবে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা।
তাছাড়া ইংল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী টিউশন ফি এডভান্স পেমেন্ট করতে হয়। আর যদি ভিসা না হয়, টিউশন ফি ফেরত পেতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। তাই আবেদন করার আগে এই সময়ের পরিমাণ এবং ঝুঁকি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন করতে হলে IELTS স্কোর 6 আবশ্যক। আর টিউশন ফি প্রতি বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। সেই সাথে আপনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা। মনে রাখবেন অস্ট্রেলিয়াতেও টিউশন ফি এডভান্স পেমেন্ট দিতে হয়। তবে ভিসা না হলে ফেরতের প্রসেস ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে। যদিও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রেশিও ভালো। তাই সুযোগ রয়েছে।
জার্মানিতে আবেদন করতে IELTS স্কোর ৬ দরকার। টিউশন ফি লাগবে না। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা ফ্রি। যার কারণে আপনাকে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে না।
তবে এখানে ব্লক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হয়, যা মাসিক খরচ বাবদ ধীরে ধীরে রিটার্ন হয়। মনে রাখবেন জার্মানিতে ভিসা কনফার্ম হয়। কিন্তু অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আপনি জেনে খুশি হবেন যে আমেরিকায় ব্যাচেলর প্রোগ্রামে আবেদন করতে IELTS মাত্র ৫.৫ পেলেই চলে। তাছাড়া টিউশন ফি আগাম দিতে হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আছে। যদিও আবেদনের সময় আনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দেখাতে হবে।
তাছাড়া মাথায় রাখতে হবে আমেরিকায় ভিসা রেশিও প্রোফাইল অনুযায়ী অনেক কম। ভালো প্রোফাইল না থাকলে ভিসা পাওয়া চ্যালেঞ্জিং। তবে হ্যাঁ ডিপ্লোম্যাটিক বা এক্সপার্টিস সহায়তা ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
কানাডার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে আবেদন করতে IELTS 6 প্রয়োজন। তাছাড়া দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি আগাম দিতে হয় না। তবে আবেদনের আগে আপনাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট হিসাবে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দেখাতে হবে। মনে রাখবেন, কানাডার ক্ষেত্রে ডকুমেন্টেশন ঠিক থাকলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবজেক্টে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বিদেশে পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রেশিও কিন্তু ভালো। অন্যদিকে জার্মানিতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। আবার আমেরিকায় ভালো প্রোফাইল না থাকলে ভিসা পাওয়াটা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং।
মনে রাখবেন, ইমিগ্রেশন আইন খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার কারণে আমাদের আজকের এসব তথ্য তিন মাস পর সত্য নাও হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব তথ্য যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।