“ভাই, ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ! কোনো IELTS লাগবে না, কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্টও না। শুধু ২৫ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিলেই কাজ শেষ! এই লাইনটা যদি আপনার পরিচিত লাগে, তাহলে আপনি ইতিমধ্যেই স্কলারশিপ প্রতারণার রিস্ক জোনে আছেন।

কারণ কঠিন সত্য হলো বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন যত বড় হচ্ছে, স্কলারশিপ প্রতারণাও ঠিক ততটাই স্মার্ট হয়ে উঠছে। তাই আমাদের এই আর্টিকেলে আপনি জানবেন স্কলারশিপ প্রতারণা কীভাবে কাজ করে, কোন সাইন দেখলেই বুঝবেন এটা স্ক্যাম, বাস্তব উদাহরণসহ সত্যিকারের তথ্য এবং স্কলারশিপ প্রতারণা থেকে বাঁচার প্রমাণিত উপায়
স্কলারশিপ প্রতারণা মানে এমনসব ভুয়া অফার যেখানে স্কলারশিপের নাম করে আপনার কাছ থেকে টাকা, ডকুমেন্ট বা সময় নিয়ে নেবে। কিন্তু না হতে পারবেন ভর্তি, না পাবেন ভিসা এবং না পাবেন স্কলারশিপ। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো অনেক প্রতারণা আধা-সত্য দিয়ে শুরু হয়, তাই সহজে ধরা যায় না। তাই চলুন এবার স্কলারশিপ প্রতারণা থেকে বাঁচার কিছু ইজি সল্যুশন নিয়ে কথা বলি।
স্কলারশিপের প্রথম রেড ফ্ল্যাগ হলো এটা! মানে তারা বলবে ১০০% গ্যারান্টি স্কলারশিপ, ভিসা রিজেক্ট হলে টাকা ফেরত, আপনি না পেলেও আমরা ম্যানেজ করে দিব। অথচ সত্যটা হলো বিশ্বের কোনো ইউনিভার্সিটি বা সরকার কখনো স্কলারশিপ গ্যারান্টি দেয় না। স্কলারশিপ মানেই প্রতিযোগিতা। আর গ্যারান্টি মানেই স্ক্যাম।
আগেই টাকা চাইলে বুঝে নিন এটা বিপদ। কারণ স্কলারশিপ প্রতারণার সবচেয়ে কমন কৌশল হলো রেজিস্ট্রেশন ফি, ফাইল ওপেন চার্জ, স্কলারশিপ প্রসেসিং ফি, অফার লেটার কনফার্ম ফি। অথচ আসল স্কলারশিপে আবেদন ফ্রি অথবা খুবই মিনিমাল থাকে। বিশেষ করে সরকারি স্কলারশিপে।
স্কলারশিপে আবেদন করার সময় আরেকটা বড় ভুল হলো শুধু ফেসবুক পোস্ট, রিলস বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেখে বিশ্বাস করা। স্কলারশিপ প্রতারণা সাধারণত হয়ে থাকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া, ইমেইল ডোমেইন ছাড়া কিংবা শুধু ইনবক্স বা WhatsApp নির্ভর করে। কিন্তু সত্যিকারের স্কলারশিপে সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ডোমেইন এবং পাবলিকলি ভেরিফায়েবল তথ্য থাকে।
হ্যাঁ এ কথা সত্য যে কিছু ক্ষেত্রে IELTS ছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু তা সব প্রোগ্রামে নয়, সব দেশের জন্য নয় এবং সব স্টুডেন্টের জন্য নয়। তাই আবেদনের সময় যদি বলা হয় একদম কিছু লাগবে না, শুধু পাস হলেই চলবে তাহলে বুঝবেন এটা স্কলারশিপ নয়। বরং প্রলোভন।
স্কলারশিপে অনেক প্রতারণা হয় ভুয়া Offer Letter দিয়ে। তাই আবেদনের সময় খেয়াল করুন ইউনিভার্সিটির নাম গুগলে আছে কিনা, ইমেইল ডোমেইন @gmail.com কিনা, লেটারে স্বাক্ষর, রেফারেন্স নম্বর আছে কিনা এবং ওয়েবসাইটে আপনার প্রোগ্রাম তালিকাভুক্ত কিনা। মনে রাখবেন একটা আসল অফার লেটার ৫ মিনিট রিসার্চেই ইজিলি ধরা পড়ে।
শুরুতে বলে রাখি সব এজেন্সি স্ক্যাম না। কিন্তু সব এজেন্সিই বিশ্বাসযোগ্য এটাও ভুল। তাই স্কলারশিপ প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে আবেদনের সময় আগের স্টুডেন্টদের ভিসা প্রুফ দেখুন, লিখিত চুক্তি ছাড়া টাকা দেবেন না এবং ভাইয়ের কথা বা চেনা মানুষের কথায় কাজ করবেন না
স্কলারশিপের বাজারে যে নিজে রিসার্চ করে না সে-ই সবচেয়ে সহজ শিকার। তাই স্কলারশিপ প্রতারণা থেকে বাঁচতে অন্তত ২ থেকে ৩টি সোর্স মিলিয়ে দেখুন, ইউনিভার্সিটির অফিসিয়াল সাইট চেক করুন এবং সরকারী স্কলারশিপ হলে এম্বাসি বা অফিসিয়াল পোর্টাল দেখুন। মনে রাখবেন গুগল ব্যবহার না করলে, প্রতারক কিন্তু আপনাকেই ব্যবহার করবে।
এইটাই জীবনের শেষ সুযোগ, আজই না করলে আর পাবেন না, অন্যরা সবাই করছে এই কথাগুলো স্কলারশিপ প্রতারণার সবচেয়ে পুরনো অস্ত্র। কারণ আসল স্কলারশিপ কখনো আপনাকে এটলিস্ট তাড়া দেবে না।