
রেজাল্ট ভালো, IELTS আছে তবুও স্কলারশিপটা হলো না! এই বাক্যটা বাংলাদেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের মন ভাঙে প্রতি বছর। কিন্তু কঠিন সত্যটা হলো স্কলারশিপে চান্স শুধু মেধায় হয় না, হয় কৌশলে।
আমাদের এই লেখায় আপনি জানবেন স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় যেগুলো কেউ খোলাখুলি বলেনি বলবেও না। সেই সাথে জানবেন কোন জায়গায় বেশিরভাগ স্টুডেন্ট ভুল করে এবং কীভাবে সাধারণ প্রোফাইল দিয়েও ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়।
সবার আগে আপনাকে ভুল ধারণা ভাঙতে হবে। যেমন অনেকেই মনে করেন CGPA 3.8+ না হলে স্কলারশিপ হয় না, ইংরেজিতে খুব ভালো না হলে সুযোগ নেই। আবার অনেকেই মনে করেন শুধু টপারদের জন্য স্কলারশিপ। কিন্তু বাস্তবতা একদম উল্টো।
স্কলারশিপ কমিটি দেখে আপনি কেন এই সাবজেক্ট বেছে নিচ্ছেন, এই পড়াশোনা আপনার ক্যারিয়ারে কী ভ্যালু যোগ করবে, আপনি সমাজ বা দেশে কী পরিবর্তন আনতে পারবেন। অর্থাৎ স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় শুরু হয় সঠিক চিন্তা থেকে। চলুন তবে আর কথা না বাড়িয়ে মূল কথায় যাই!
স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় এই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক স্কলারশিপ বাছাই করা। মনে রাখবেন সব স্কলারশিপে আবেদন করা মানেই চান্স বাড়ানো নয়। বরং ভুল জায়গায় আবেদন করলে চান্স শূন্য হয়ে যায়।
স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় হলো আপনার প্রোফাইলের সাথে মিল আছে এমন স্কলারশিপ বাছাই করা, আপনার সাবজেক্ট, CGPA, অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই প্রোগ্রাম খোঁজা এবং অপ্রয়োজনীয় হাই-কম্পিটিশন স্কলারশিপ এড়িয়ে চলা
এটা আপনাকে মানতেই হবে। স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো SOP বা Statement of Purpose। অনেকের CGPA কম, কিন্তু SOP শক্তিশালী তারা কিন্তু দিনশেষে স্কলারশিপ পেয়ে যায়। আবার অনেক টপ রেজাল্টধারীর SOP দুর্বল তারা বাদ পড়ে।
আপনাকে মনে রাখতে হবে ভালো SOP মানে আপনার জীবনের গল্প, আপনার লক্ষ্য, আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আপনার পড়াশোনার পেছনের যুক্তি। তাই চেষ্টা করবেন SOP এ আবেগ নয় বরং বেশি বেশি ভিশন আর লজিক দেখানোর।
অনেক কষ্টের বিষয় হলো এটা কেউ খুব একটা বলে না! অথচ স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় ফলো করতে হয় শুধু আবেদন করার সময় না বরং আবেদন করার আগে থেকেই। সহজে স্কলারশিপ পেতে প্রোফাইল বিল্ডিং শুরু করার আগে আপনাকে ছোটখাটো অনলাইন কোর্স করে নিতে হবে। পাশাপাশি রিসার্চ বা প্রজেক্টে যুক্ত হতে পারেন, ভলান্টিয়ার কাজ করতে পারেন কিংবা নিজের সাবজেক্ট-রিলেটেড কাজ দেখাতে পারেন।
স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় হলো ভালো রেকমেন্ডার বাছাই করা। এমন একজন শিক্ষক বা সুপারভাইজার চুজ করুন যিনি আপনাকে সত্যিই চেনেন। কারণ তার লেখা Recommendation Letter একজন বিখ্যাত কিন্তু আপনাকে না চেনা মানুষের চেয়ে ১০ গুণ শক্তিশালী হবে।
এই জিনিসটা প্রয়োজনের বেশি না। তবে সঠিকটাই দরকার! অনেকেই ভাবেন IELTS 8 না হলে স্কলারশিপ হবে না। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ বর্তমানে স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় হলো যতটুকু স্কোর দরকার, ততটুকুই ঠিকভাবে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয়ভাবে IELTS নিয়ে সময় নষ্ট না করা এবং Medium of Instruction থাকলে সেটার সুযোগ নেওয়া।
মনে রাখবেন এই স্কলারশিপের ক্ষেত্রে Late মানেই Lost! এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত একটি পয়েন্ট। তাই স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় হিসাবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে ডেডলাইনের আগে আবেদন করেছেন কিনা, শেষ দিনের ভিড় এড়িয়ে চলার মতো প্রস্তুতি নিলেন কিনা। মনে রাখবেন স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আগে আবেদন করলে কমিটি বেশি মনোযোগ দেয়।
স্কলারশিপে আবেদন করার সময় গ্যাপ বা বয়স লুকাবেন না। বরং জিনিসটা ব্যাখ্যা করুন। এই গ্যাপ সময়ে কী শিখেছেন, চাকরি বা অভিজ্ঞতা কীভাবে আপনাকে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করেছে, কেন এখন পড়াশোনা সবচেয়ে জরুরি এসব সঠিক ব্যাখ্যা থাকলে বয়স কোনো সমস্যাই হবে না।
ইন্টারভিউকে ভয় না পেয়ে মনে করুন এটা হলো নিজের গল্প বলার সুযোগ। স্কলারশিপে চান্স বাড়ানোর উপায় হিসাবে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে নিজের লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত নাটক না করে কথা বলা যায়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট রাখা যায়!
সবশেষে বলবো একসাথে অনেক জায়গায় আবেদন করুন। এক জায়গায় সব আশা রাখবেন না। আবার সব জায়গায় কপি-পেস্টও করবেন না। স্কলারশিপে চান্স বাড়াতে আপনাকে ৫ থেকে ৭টা ভালোভাবে নির্বাচিত স্কলারশিপে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটা SOP কাস্টমাইজ করা থাকতে হবে।