চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা ও অসুবিধা

চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা ও অসুবিধা

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা ও অসুবিধা

চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা ও অসুবিধা.jpg

চায়নায় পড়াশোনার ব্যাপারে শুনলেই অনেকের মাথায় আগে আসে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ, IELTS ছাড় আর কম খরচে বিদেশে ডিগ্রি। আবার কেউ কেউ ভয় পান ভাষার সমস্যা, কালচার শক আর চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে! তবে সত্যটা কী জানতে চান? জানতে চান চীন কি সত্যিই পড়াশোনার জন্য স্বপ্নের দেশ, নাকি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার সাজানো গল্প? চলুন এই আর্টিকেলে চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই খুব ডিটেইলে, বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ লজিক আর ফ্যাক্টের আলোকে আলোচনা করি!

কেন চায়নায় পড়াশোনা এত জনপ্রিয়?

বর্তমানে চীন বিশ্বের অন্যতম বড় International Student Hub। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, আফ্রিকা এমনকি ইউরোপ থেকেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চীনে পড়তে যাচ্ছে। কারণ চায়নায় রয়েছে সহজ স্কলারশিপ, তুলনামূলক কম খরচ, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, ভবিষ্যৎ গ্লোবাল ক্যারিয়ারের সুযোগ। কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি কিছু কঠিন সত্যও আছে। যা নিয়ে আমরা একটু পরেই আলোচনা করি!

চায়নায় পড়াশোনা করার সুবিধা

ফুল ফ্রি ও আংশিক স্কলারশিপের বিশাল সুযোগ: চায়না স্কলারশিপের দিক থেকে সত্যিই উদার।এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কলারশিপগুলো হলো Chinese Government Scholarship (CSC), Provincial Government Scholarship, University Scholarship। আর এসব স্কলারশিপগুলোতে সাধারণত পাওয়া যাবে ১০০% টিউশন ফি মওকুফের সুযোগ, মাসিক স্টাইপেন্ড, ফ্রি হোস্টেল বা হাউজিং এলাউন্স এবং মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স। মোটকথা কম বাজেটের শিক্ষার্থীদের জন্য এ যেনো বিশাল সুবিধা।

IELTS ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ: অনেক স্টুডেন্টের সবচেয়ে বড় টেনশন হলো IELTS। সৌভাগ্যক্রমে চীনে এই টেনশন অনেকটাই কম। কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে Medium of Instruction (MOI) থাকলে IELTS লাগে না। আবার অনেক English-Taught Program রয়েছে। বিশেষ করে Engineering, MBBS, Computer Science, Business & Economics!

বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও র‍্যাংকিং: চীনের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন QS World Ranking এ টপ লিস্টে। এর মধ্যে রয়েছে Tsinghua University, Peking University, Fudan University, Zhejiang University। আর এসব ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ ল্যাব, টেকনোলজি, লাইব্রেরি, ইন্ডাস্ট্রি কানেকশন এখন সবই উন্নত।

কম খরচে থাকা-খাওয়া: আমি বলবো ইউরোপ, UK, USA এর তুলনায় চীনে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক কম। সাধারণভাবে এখানে খাবার সস্তা, ট্রান্সপোর্ট সাশ্রয়ী, স্টুডেন্ট ডিসকাউন্ট সহজলভ্য। মানে একজন স্টুডেন্ট শহরভেদে মাসে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যেই ভালোভাবে চীনে চলতে পারে।

আধুনিক জীবন ও নিরাপত্তা: চীন অত্যন্ত টেকনোলজি নির্ভর দেশ। এখানে সবসময় ক্যাশলেস পেমেন্ট চলে। আর ইউজ করতে হয় WeChat Pay, Alipay। তাছাড়া চীনে রয়েছে দ্রুত ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, উন্নত মেডিকেল ফ্যাসিলিটি, তুলনামূলক নিরাপদ জীবন। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে স্টুডেন্ট লাইফ বেশ সেফ।

চায়নায় পড়াশোনা করার অসুবিধা

এখন আসি সেই অংশে যেটা অনেক এজেন্সিই আপনাকে চীনের ভিসা ধরিয়ে দেবার আগে বলবে না:

ভাষাগত সমস্যা: চীনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভাষা। কারণ বাইরে ইংরেজি খুব কম মানুষ বোঝে। মানে দোকান, হাসপাতাল, পুলিশ সব জায়গায় চাইনিজ দরকার। নইলে শুরুতে মারাত্মক কালচার শক হয়। মোটকথা চাইনিজ না শিখলে দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে যেতে পারে।

পার্ট-টাইম জব সীমিত: অনেকে ভাবে চীনে গিয়ে পার্ট টাইম জব করে খরচ উঠানো যাবে। আসলে সত্যটা হলো স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট-টাইম জব আইনগতভাবে সীমিত। এমনকি অনেক জায়গায় কাজ করা নিষিদ্ধ। আবার ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করলে সমস্যা হতে পারে। মানে ইউরোপের মতো ফ্রি জব মার্কেট নেই।

ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া সীমাবদ্ধতা: চীনে গেলে আপনাকে Google, Facebook, YouTube, WhatsApp এসব মিস করতে হবে। তাছাড়া সবকিছুর জন্য VPN দরকার। মাসে VPN ছাড়া জীবন চীনে প্রায় অসম্ভব।

কালচারাল শক ও খাবার সমস্যা: শুরুতে বলে রাখি চীনা খাবার সবার জন্য না। এসব খাবারে তেল বেশি, স্বাদ আলাদা, হালাল খাবার সব জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না। যার কারণে শুরুর দিকে অনেক স্টুডেন্ট হোমসিক ও মানসিক চাপে পড়ে।

ডিগ্রির গ্লোবাল রিকগনিশন সব জায়গায় সমান নয়: মাসে সব চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সমানভাবে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংক, প্রোগ্রামের স্বীকৃতি, ভবিষ্যৎ দেশে ডিগ্রি ভ্যালিডিটি আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

চায়নায় পড়াশোনা করাটা কি আপনার জন্য ঠিক?

চায়না আপনার জন্য ভালো অপশন হবে যদি আপনার বাজেট কম থাকে, স্কলারশিপ দরকার পড়ে, মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকে, আপনি নতুন ভাষা শিখতে আগ্রহী হোন। তবে চায়না আপনার জন্য কঠিন হবে যদি আপনি শুধু পার্ট টাইম জবের উপর নির্ভর করেন, ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষা শিখতে না চান এবং খুব ফ্রি লাইফস্টাইল চান।

ইতি কথা

মোটকথা চায়নায় পড়াশোনার জন্য স্বর্গও না। আবার নরকও না। এটা পুরোপুরি আপনার প্রস্তুতি, মানসিকতা আর লক্ষ্য অনুযায়ী নির্ভর করবে। ঠিক পরিকল্পনা, সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় আর বাস্তব প্রত্যাশা থাকলে চীন হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ