
চীনে গেলে অনেকেই বেইজিং বা সাংহাইয়ে ঘুরে আসে। কিন্তু যারা চীনের আসল আধুনিকতা, ব্যবসা, লাইটিং আর লাইফস্টাইল একসাথে দেখতে চান তাদের জন্য গুয়াংজু হলো রিয়েল চায়না এক্সপেরিয়েন্স। চায়নার এই গুয়াংজু শুধু একটি শহর না! বরং এটা চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী। আর পর্যটকদের জন্য একেবারে ভিজ্যুয়াল ট্রিট। মানে আমাদের দেশের চট্টগ্রামের মতো। তাই দেরি না করে চলুন একে একে গুয়াংজুর সেরা দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
চীনের ক্যান্টন টাওয়ারের লোকেশন হলো মূলত হাইজু ডিস্ট্রিক্টে। মানে গুয়াংজু শহরের মাঝখানে, পার্ল রিভারের পাশে। এখানে আপনি চীনের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা দেখতে পাবেন। যার উচ্চতা প্রায় ছয়শ মিটার। বলা হয়ে থাকে এক সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার। এর উপরে উঠলে পুরো গুয়াংজু শহর এক নজরে দেখা যায়।
রাতের বেলা আলো জ্বলার পর দৃশ্যটা এক কথায় সিনেমার মতো। যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এখানে স্কাই ড্রপ রাইড আর গ্লাস ফ্লোর রয়েছে। মাত্র ১০০০ টাকাতে আপনি এখানে ঘুরে আসতে পারবেন। তবে স্কাই ড্রপ বা বিশেষ রাইড নিলে খরচ বেড়ে হয়ে যেতে পারে প্রায় ২০০০ টাকার কাছাকাছি।
আপনি কি আইল্যান্ড পছন্দ করেন? লিওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, গুয়াংজুতে রয়েছে শামিয়ান আইল্যান্ড নামের চমৎকার একটি আইল্যান্ড। চীনের ভেতরে ইউরোপের ছোট একটা অংশ হলো এই আইল্যান্ড। এখানে পুরনো ইউরোপিয়ান কলোনিয়াল বিল্ডিং, শান্ত রাস্তা, ক্যাফে আর গাছপালায় ঘেরা পরিবেশ পাবেন।
ফটোগ্রাফি আর শান্তভাবে হাঁটার জন্য জায়গাটা অসাধারণ। তাছাড়া হানিমুন কাপল আর কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের খুব পছন্দের জায়গা এই চীনের আইল্যান্ড। তার চাইতে বড় কথা এখানে যেতে আপনার কোনো টাকা লাগবে না। মানে এন্ট্রি ফ্রি। তবে খাবার বা কফি খেলে ধরতে পারেন ৫০০-৮০০ টাকার মতো লাগতে পারে।
চায়না গুয়াংজুর দর্শনীয় স্থানের আরো একটি চমৎকার আকর্ষণ হলো চিমেলং সাফারি পার্ক। পানইউ ডিস্ট্রিক্ট, গুয়াংজুতে এর অবস্থান। মনে রাখবেন এটা শুধু চিড়িয়াখানা না। বরং এটা এশিয়ার সবচেয়ে বড় ওপেন সাফারি পার্ক।
যেখানে আপনি গাড়ির ভেতর বসেই দেখতে পারবেন জিরাফ, সিংহ, পাণ্ডা, টাইগারসহ শত শত প্রাণী। মোটকথা বাচ্চা থাকলে বা পরিবার নিয়ে গেলে এই জায়গা মিস করা উচিত না। এখানে পুরো দিন সময় নিয়ে ঘোরাই ভালো। আর এক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৩০০০-৩৫০০ টাকার মতো।
পার্ল রিভার নাইট ক্রুজ হলো রাতের গুয়াংজুকে দেখার সবচেয়ে ইজি উপায়। যার লোকেশন হলো তিয়ানজি হোয়ার্ফ বা দাশাটু হোয়ার্ফ এলাকায়। এখানে আপনি নদীর দুই পাশে আলো ঝলমলে শহর দেখতে পাবেন। আর সামনে ক্যান্টন টাওয়ার। এক কথায় রোমান্টিক ও রিল্যাক্সিং প্লেইস এটি আর খরচ পড়বে মাত্র ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মতো।
ইউয়েক্সিউ ডিস্ট্রিক্টের এই বেইজিং রোডে আপনি শপিং, স্ট্রিট ফুড আর লোকাল লাইফ এনজয় করতে পারবেন। মানে সব এক জায়গায় চাইলে বেইজিং রোডই যথেষ্ট। তাছাড়া রাস্তায় কাঁচের নিচে প্রাচীন রাস্তার নিদর্শন দেখতে পাবেন।
বলে রাখা ভালো রাতে এখানে মানুষের ভিড়, আলো আর খাবারের গন্ধ আলাদা একটা মজা দেয়। এন্ট্রি ফ্রি এখানে। তবে খাবার ও শপিং মিলিয়ে ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
এই হল লিওয়ান ডিস্ট্রিক্টের অবস্থিত। চীনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, কাঠের কাজ, সিরামিক আর খোদাই শিল্প দেখতে চাইলে এই জায়গা পারফেক্ট। আর এখানে যেতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে মাত্র ৬০০ টাকা।
সবশেষে বলবো গুয়াংজু অপেরা হাউসের কথা। যার লোকেশন ঝুজিয়াং নিউ টাউনে। ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের এই ভবনটি আর্কিটেকচারের জন্য বিখ্যাত। ভেতরে শো না দেখলেও বাইরে থেকে দেখা আর ছবি তোলার জন্য জায়গাটা দারুণ। এই জায়গা কিন্তু বাইরে থেকে দেখা ফ্রি। তবে শো দেখলে খরচ শুরু হবে ২০০০ টাকা থেকে!
গুয়াংজুতে থাকা-খাওয়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। আর এখানে লোকাল খাবার ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, মেট্রো ও বাস বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, বাজেট হোটেলের ক্ষেত্রে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং মিড রেঞ্জ হোটেল বাবদ ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা লাগতে পারে।
মনে রাখবেন গুয়াংজু এমন এক শহর যেখানে আপনি আধুনিক চীন, ঐতিহ্যবাহী চীন আর ব্যবসায়িক চীন সব একসাথে দেখতে পারবেন। শপিং, নাইটলাইফ, টাওয়ার, নদী, সংস্কৃতি সব কিছু এক শহরে চাইলে গুয়াংজু নিঃসন্দেহে হতে পারে পার্ফেক্ট চয়েজ।