
অনেকেই ডিপ্লোমা শেষ করার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলো জাপান। উন্নত প্রযুক্তি, বিশ্বমানের শিক্ষা এবং বিশাল চাকরির বাজারের জন্য জাপান বেশ পরিচিত। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ডিপ্লোমা শেষ করে কীভাবে জাপানে স্টুডেন্ট ভিসায় বিএসসি পড়তে যাওয়া যায় এবং কীভাবে জাপানে চাকরি করার সুযোগ পাওয়া যায়।
জাপান শুধুমাত্র একটি উন্নত দেশ নয়! বরং এই দেশ শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলোর একটি। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আবার টিউশন ফিও তুলনামূলক কম, এবং স্কলারশিপের সুযোগ অনেক। স্টুডেন্ট ভিসায় থেকেও পার্ট–টাইম কাজ করা যায়। মোটকমুটি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আপনি পার্ট টাইমে কাজ করতে পারবেন। পড়াশোনা শেষে পুরোনো ভিসাকে ইজিলি জব ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।
ডিপ্লোমা শেষ করার পর আপনি সরাসরি জাপানের University বা College of Technology (Kosen) এ আবেদন করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। যেমন:
আপনাকে আগে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে। কারণ জাপানে পড়াশোনা করতে হলে JLPT N2 বা N3 লেভেলের জাপানিজ ভাষা দক্ষতা থাকা জরুরি। আপনি চাইলে বাংলাদেশে থেকেই জাপানিজ কোর্স করতে পারেন। বিকল্পভাবে, প্রথমে Japanese Language School এ ভর্তি হয়ে ভাষা শিখে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন।
ডিপ্লোমা শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো Tokyo University of Technology, Osaka Institute of Technology, Nagoya Institute of Technology এবং Kyushu University। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনি Engineering, IT, Computer Science, Mechanical, Electrical, Civil, Architecture ইত্যাদি বিষয়ে বিএসসি করতে পারবেন।
এবার আসি ভর্তি যোগ্যতার ব্যাপারে। আপনার অন্তত ১২ বছর বা সমমানের শিক্ষা মানে ডিপ্লোমা সহ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। GPA ভালো হলে সুযোগ বেশি পাবেন। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩.০ বা তার উপরে থাকলে ভালো হয়। থাকতে হবে JLPT সার্টিফিকেট। সবশেষে ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক প্রমাণপত্র হিসাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ডকুমেন্টস দেখাতে হবে।
১. প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করবেন।
২. প্রাথমিক নির্বাচনের পর তারা আপনাকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে বলবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর ভিসার আবেদন শুরু হবে।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন
এরপর জাপানিজ ইমিগ্রেশন অফিসে আপনাকে Certificate of Eligibility বা COE জমা দিতে হবে। তারপর আপনি বাংলাদেশে জাপান এম্বাসিতে গিয়ে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করবেন। মনে রাখবেন ভিসা প্রসেস সাধারণত ১ থেকে ২ মাস সময় নেয়।
জাপানে টিউশন ফি হিসাবে বছরে প্রায় ৩.৫ থেকে ৫ লাখ টাকা লাগে। থাকার খরচ হিসাবে লাগে মাসে ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা। আর হাত খরচ হিসাবে লাগে মাসে প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মতো। মোট বার্ষিক খরচ আনুমানিক ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে। তবে জাপানে এমন অনেক স্কলারশিপ রয়েছে, যেমন MEXT, JASSO, University Scholarships আপনার যেগুলো টিউশন ফি ও লিভিং খরচ কভার করবে।
যদি আপনি পড়াশোনার পরিবর্তে সরাসরি চাকরি করতে চান, তাহলে জাপানে Specified Skilled Worker বা SSW প্রোগ্রামের মাধ্যমে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসাবে লাগবে:
বাংলাদেশে জাপানের অনুমোদিত Recruitment Agency–র মাধ্যমে আবেদন করতে হবে আপনাকে। তাছাড়া সফলভাবে ভাষা ও টেকনিক্যাল টেস্ট পাস করতে পারলে জাপানি কোম্পানি আপনাকে স্পনসর করবে। এরপর জব কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে আপনি SSW Work Visa পাবেন।
প্রথম দিকে মাসিক বেতন প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এক বছরের মধ্যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়লে এই আয় ৩ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদে জাপানে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো। পড়াশোনা শেষে সহজেই জব ভিসায় রূপান্তর করা যায় এবং স্থায়ীভাবে জাপানে থেকে কাজ করা সম্ভব। আর যদি দ্রুত আয় করতে চান, তবে SSW প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে সরাসরি চাকরির আবেদন করতে পারেন।