
ভাবুন, আপনি ডেনমার্কের কোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়ে যাচ্ছেন! স্বপ্নের দেশ, স্বপ্নের ডিগ্রি! কিন্তু পৌঁছেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা বাসা পাব কোথায়? হ্যাঁ, ডেনমার্কে পড়াশোনার চেয়ে বাসা খোঁজা অনেক সময় বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কলারশিপ পাওয়া স্টুডেন্সরা যেহেতু শুরুতে বাজেট সীমিত রাখেন, তাই স্মার্টভাবে বাসা ম্যানেজ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার প্রিয় ভাইবোনদের জন্য আমি নিয়ে এলাম স্কলারশিপ নিয়ে ডেনমার্কে বাসা ম্যানেজ করার সব সিক্রেট নিয়ে সাথেই থাকুন।
শুরুতে কারণটা জানলে সবকিছু দেখবেন ইজি হয়ে যাবে। ডেনমার্ক ইউরোপের অন্যতম স্টুডেন্ট-প্রিয় দেশ।
বিশেষ করে কোপেনহেগেন, আরহুস, অ্যালবর্গ, ওডেন্স এই শহরগুলোতে হাজার হাজার ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট আসে প্রতি বছর। কিন্তু এই শহরগুলোতে বাসার চাহিদা এত বেশি যে একটা ছোট রুম পেতেও অনেক সময় লাগে! মানে ২ থেকে ৩ মাসেরও বেশি।
তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা না করলে, স্কলারশিপ নিয়ে গেলেও প্রথম কয়েক সপ্তাহ আপনাকে হোস্টেল বা টেম্পোরারি থাকার জায়গায় থাকতে হতে পারে।
যদি আপনি স্কলারশিপে ভর্তি হন, বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত আপনাকে Housing Assistance দেবে। মানে, তারা নিজেরাই বাসা বা ডরমিটরি খুঁজে দিতে সাহায্য করে। বেশকিছু ইউনিভার্সিটি যেমন University of Copenhagen, Aarhus University, Aalborg University এই ধরণের সার্ভিস দিয়ে থাকে।
University Dormitory: সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ অপশন হলো এটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ডরমগুলোতে কিচেন, ওয়াশরুম, ইন্টারনেট সবকিছু শেয়ার করা যায়। আর এখানে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকার মতো খরচ পড়ে প্রতি মাসে!
Private Apartment বা Shared Flat: অনেক স্কলারশিপধারী স্টুডেন্টরা বন্ধুরা মিলে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করে থাকেন। একটি ২ থেকে ৩ বেডরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সবাই মিলে ভাগাভাগি করলে খরচ কমে যায়। এক্ষেত্রে মাসে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৯০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা গুনতে হয়।
Host Family বা Temporary Housing: শুরুতে কেউ কেউ স্থানীয় পরিবারে বা Airbnb তে অল্প সময়ের জন্য থাকেন। এতে থাকার নিরাপত্তা থাকে। খরচটাও কম! মানে মাসে পড়ে ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকার মতো।
ডেনমার্কে বাসা খোঁজার সবচেয়ে ভালো সময় হলো ভিসা হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই বাসা খোঁজা শুরু করা। ডেনমার্কে আগস্ট ও জানুয়ারিতে সেমেস্টার শুরু হয়। তাই জুন থেকে জুলাই বা নভেম্বরেই আবেদন দিলে বাড়তি সুযোগ পাবেন।
নিচে আমি কিছু ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্ম লিংক দিয়ে দিচ্ছি যেখানে আপনি ইজিলি বাসা খুঁজতে পারবেন অনলাইন:
housinganywhere.comboligportal.dkstudenthousing.dkfindroommate.dk
Facebook গ্রুপ Rooms, Flats & Apartments in Copenhagen অথবা Bangladeshi Students in Denmark! তবে হ্যাঁ! বাসা খোঁজার সময় কখনও অগ্রিম টাকা পাঠাবেন না। যদি আপনি জায়গাটা না দেখে থাকেন টাকা দেওয়ার কোনো মানেই নেই।
ডেনমার্কে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় সাধারণত তিনটি জিনিস চাওয়া হয়। এগুলি হলো আপনার:
তবে হ্যাঁ! এই টাকা লিজ শেষ হলে ফেরত দেওয়া হয়!
মনে রাখবেন, ডেনমার্কে খাবার অনেক দামি। তাই প্রায় সব অনেকেই নিজের রান্না নিজেই করেন। এক্ষেত্রে আপনি ইজিলি Asian Grocery দোকানগুলো থেকে চাল, ডাল, মসলা কিনে নিতে পারবেন সহজে। আর বাসার কিচেনে ২ থেকে ৩ জন মিলে রান্না করলে মাসিক খাবারের খরচ প্রায় ১২০০ DKK এর মধ্যে রাখা সম্ভব মানে প্রায় ২০,০০০ টাকায় হয়ে যাবে।
সবশেষে বলবো স্কলারশিপ নিয়ে ডেনমার্কে বাসা ম্যানেজ করতে গিয়ে কোনো ঝামেলা না পোহাতে চাইলে আগে থেকেই হাউজিং অ্যাপ্লাই করে রাখবেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাউজিং অফিসে যোগাযোগ রাখুন। আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
মনে রাখবেন স্কলারশিপে ডেনমার্কে পড়তে যাওয়া মানে জীবনের এক নতুন অধ্যায়। কিন্তু সেই অধ্যায়টা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে তখনই, যখন আপনি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে বাসার ব্যবস্থা করবেন। ডেনমার্কে বাসা পাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয় যদি কিনা আপনি সময়মতো আবেদন করেন, সঠিক তথ্য জানেন, আর আত্মবিশ্বাস রাখেন। বেস্ট অফ লাক!