ঈদ শুধুমাত্র আনন্দের দিন নয়, এটি এক মাসের সংযম ও ইবাদতের পর পাওয়া এক মহৎ পুরস্কার। কিন্তু ঈদের পরেও একজন মুমিনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং ঈদ পরবর্তী সময়েও তাকওয়া বজায় রাখা, ইবাদত চালিয়ে যাওয়া এবং সৎ পথে থাকার চেষ্টা করা উচিত। নিচে ঈদ পরবর্তী কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো—
১. ঈমান ও তাকওয়া বজায় রাখা
রমজান মাসে যেমন আমরা পাপ থেকে বিরত থাকি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি, ঈদের পরেও সেই অভ্যাস ধরে রাখা জরুরি। ঈদের পরেও নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদত চালিয়ে যেতে হবে।
২. শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং তারপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পেল।” (মুসলিম: ১১৬৪)
এটি রমজানের রোজার পরিপূর্ণতা আনতে সাহায্য করে এবং অধিক সওয়াবের কারণ হয়।
৩. নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
রমজানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ঈদের পরেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন:
“নামাজ কায়েম করো এবং আল্লাহকে ভয় করো।” (সুরা বাকারা: ২৩৮)
ঈদের আনন্দে নামাজ ফেলে দেওয়া উচিত নয়।
৪. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
রমজানে আমরা যেসব খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকি, ঈদের পরেও সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা উচিত। গান-বাজনা, অপচয়, অহংকার, পরচর্চা ও অন্যান্য গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে।
৫. দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা
রমজানে আমরা দান-সদকা, ফিতরা দিয়ে গরীবদের সাহায্য করি। ঈদের পরেও সাধ্যমতো দান করা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ বলেন:
“তোমরা ভালো কিছু ব্যয় করো, তাহলে তোমাদের জন্য উত্তম হবে।” (সুরা বাকারা: ২৭২)
৬. পরিবার ও সমাজের সাথে ভালো আচরণ করা
ঈদের পরেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, পরিবারের সদস্যদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা এবং প্রতিবেশীদের হক আদায় করা জরুরি।
৭. দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা
রমজান আমাদের দ্বীনের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। ঈদের পরেও ইসলাম সম্পর্কে জানা, কোরআন ও হাদিস পড়া এবং আমল করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদ কেবল আনন্দের জন্য নয়, বরং এটি আমাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার দিন। যদি আমরা রমজানের শিক্ষা ও তাকওয়া ধরে রাখতে পারি, তাহলে ঈদের আনন্দও পরিপূর্ণ হবে। তাই আসুন, ঈদের পরেও নিজেদের ঈমান মজবুত রাখি এবং সৎ পথে চলার চেষ্টা করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমানের ওপর দৃঢ় রাখুন। আমিন