![বিদেশে পড়াশোনার জন্য ব্যাংক লোন: এ টু জেট তথ্য [একসাথে].jpg](https://probashpratidin.com/wp-content/uploads/2026/08/0920565b05dfcc6b7606aaa2789cc18e.jpg)
বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন আছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটারও এসেছে কিন্তু ব্যাংক ব্যালেন্স দেখে মনে হচ্ছে স্বপ্নটা একটু বেশি দামি হয়ে গেছে! টিউশন ফি, ভিসা, বিমানভাড়া, বাসা, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক ব্যালেন্স সব মিলিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাজেট দেখলে অনেক পরিবারেরই প্রথম কথা হয়, “এত টাকা আসবে কোথা থেকে?” আর এখানেই আসে শিক্ষা ঋণ বা স্টুডেন্ট লোনের ম্যাটার। চলুন জানি বিস্তারিত!
সহজ ভাষায়, শিক্ষা ঋণ হলো পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই টাকা ব্যবহার হতে পারে:
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি
ভর্তি ফি
কোর্স ফি
পরীক্ষার ফি
থাকার খরচ
জীবনযাপনের খরচ
যাতায়াত
হেল্থ ইনসুরেন্সে
তবে সব ব্যাংকের ঋণে সব খরচ কভার হয় না। কোন ব্যাংক শুধু টিউশন ফি দেবে, কোনটি টিউশন ও থাকা-খাওয়ার খরচ দেবে, আবার কোনটি মূলত ভিসার আর্থিক সক্ষমতা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে! এগুলো ব্যাংকভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, জামুনা ব্যাংকের শিক্ষা ঋণে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য টিউশন, কোর্স ফি, থাকা-খাওয়া, ভ্রমণ, বিমাসহ বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
হ্যাঁ, পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ঋণ বা সংশ্লিষ্ট ঋণ সুবিধা রয়েছে। যেমন:
১. ব্যাংক এশিয়া বিদেশে পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোনের তথ্য দিচ্ছে!
২. আইএফআইসি ব্যাংক তাদের আইএফআইসি গ্লোবাল স্কলার সুবিধায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্ম লোনের কথা জানিয়েছে।
৩. ন্যাশনাল ব্যাংক বিদেশে পড়াশোনার জন্য ৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত একটি স্টুডেন্ট লোন সুবিধার তথ্য দিয়েছে।
৪. যমুনা ব্যাংক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ সুযোগ আছে।
না। এই দুইটা জিনিস আলাদা। এখানেই অনেক শিক্ষার্থী কনফিউজড হন। ব্যাপারটা ঠিক এমন:
শিক্ষা ঋণ: ব্যাংক আপনাকে বা আপনার পরিবারকে টাকা ধার দেবে। পরে সেই টাকা সুদসহ ফেরত দিতে হবে।
স্টুডেন্ট ফাইল: আপনাকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈধভাবে টিউশন ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত খরচ বিদেশে পাঠানোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা করে দেবে।
এই প্রশ্নের কোনো একক উত্তর নেই। কারণ ব্যাংকভেদে লোনের পরিমাণ আলাদা। যেমন:
১. ব্যাংক এশিয়া: বিদেশে পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোনের তথ্য দিচ্ছে!
২. আইএফআইসি ব্যাংক: বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্ম লোনের সুবিধা রয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।
৩. যমুনা ব্যাংক: বিদেশে পড়াশোনার জন্য ১ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ দেওয়া হতে পারে।
৪. ন্যাশনাল ব্যাংক: বিদেশে পড়াশোনার জন্য তাদের স্টুডেন্ট লোনে ৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকভেদে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ঋণ বা বিদেশে পড়াশোনার আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। তবে কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো:
ব্যাংক এশিয়া: স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোন।
আইএফআইসি ব্যাংক: গ্লোবাল স্কলার।
ন্যাশনাল ব্যাংক: স্টুডেন্ট লোন।
জামুনা ব্যাংক: শিক্ষা ঋণ।
এনসিসি ব্যাংক: শিক্ষা ঋণ।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক: স্টুডেন্ট লোন।
উত্তরা ব্যাংক: বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রি-ফরেন শিক্ষা ঋণ।
এছাড়াও অন্যান্য ব্যাংকের শিক্ষা ঋণ বা বিদেশে পড়াশোনার জন্য আর্থিক সুবিধা থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ব্যাংকের সর্বশেষ শর্ত যাচাই করা করে নেবেন!
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে পারবেন। বাস্তবে অনেক শিক্ষা ঋণে শিক্ষার্থী মূল আবেদনকারী না হয়ে বাবা-মা বা অভিভাবক সহ-আবেদনকারী হতে পারেন। ব্যাংক এশিয়া বাবা, মা বা অভিভাবককে যৌথ আবেদনকারী/গ্যারান্টর হওয়ার সুযোগের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের আগামী পার্সোনাল লোনেও সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার জন্য বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের আবেদন করার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তাই আপনার নিজের আয় না থাকলেও সব দরজা বন্ধ…এমন নয়।
ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা। কারণ ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হয়, এই ঋণ কে পরিশোধ করবে! আপনি যদি শিক্ষার্থী হন এবং আপনার কোনো আয় না থাকে, তাহলে বাবা-মা বা অভিভাবকের আয় বিবেচনায় আসতে পারে। কিছু ব্যাংক নির্দিষ্ট ন্যূনতম মাসিক আয় চায়। যেমন ন্যাশনাল ব্যাংকের স্টুডেন্ট লোনে আবেদনকারীর ন্যূনতম মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের আগামী পার্সোনাল লোনে অভিভাবকের ন্যূনতম মাসিক আয় ২০,০০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এটারও উত্তর ব্যাংকভেদে আলাদা। কিছু ঋণে জামানত ছাড়া বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টির মাধ্যমে ঋণ হতে পারে। আবার বড় অঙ্কের ঋণে জমি, এফডিআর বা অন্য সম্পদ জামানত হিসেবে লাগতে পারে। আইএফআইসি ব্যাংকের গ্লোবাল স্কলারে জামানতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্ম লোনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকের স্টুডেন্ট সার্ভিসেও এফডিআরের বিপরীতে নিরাপদ শিক্ষা ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ৫ লাখ আর ৩০ লাখ লোনের জন্য একই ধরনের শর্ত হবে, এমন ভাববেন না।
ব্যাংকভেদে তালিকা আলাদা হলেও সাধারণত একজন আবেদনকারীকে নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়:
এই নিউজ ২০২৬ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। সরকার বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঋণ সহায়তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছিল, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে! বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানির মতো দেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি requirement পূরণে সহায়তার জন্য।
সবশেষে বলবো এই লোনের ঝুঁকি হিসাবে আপনাকে কিন্তু সুদ দিতে হবে! আপনি বিদেশে পড়াশোনা শেষ করার পরও ঋণের টাকা ফেরত দিতে হবে। তাছাড়া মুদ্রার দামের ঝুঁকি আছে! আপনার আয় বিদেশি মুদ্রায় হলেও পরিবারের ঋণ বাংলাদেশি টাকায় হতে পারে। তাই সবসময় ব্যাংক কতৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ঋণের সুদের হার, সীমা, ফি, যোগ্যতা ও সর্বশেষ শর্ত সরাসরি যাচাই করে নিবেন।