শিরোনাম:
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা স্কলারশিপে ২৫ হাজার ডলারপ্রাপ্তির সুযোগ বিদেশে পড়তে গেলেই রিজেক্ট: যা করবেন বিদেশে শিক্ষা ঋণ আর স্টুডেন্ট ফাইল কি একই: এ বিষয়ে সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬ বিদেশে চাকুরির আবেদনের জন্য প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে বিদেশে পড়াশোনার জন্য ব্যাংক লোন: এ টু জেট তথ্য [একসাথে] জার্মানিতে ফ্রিতে যাওয়ার সুযোগ ২০২৬: Berlin Global Forum-এর আবেদন, খরচ ও যোগ্যতা UK ফ্রিতে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে চিভনিং স্কলারশিপ ২০২৭ প্রবাসে অতিরিক্ত আয় করবেন কীভাবে: জেনে নিন ৯টি স্মার্ট উপায় সুন্দর প্রবাস জীবন গড়তে যে ১০টি অভ্যাস আজই শুরু করা উচিত প্রবাসে লাখপতি হতে চাইলে আজই শুরু করুন এই ১২টি অভ্যাস

স্কলারশিপ থাকলে কি ভিসা পাওয়া সহজ

বিদেশে পড়তে গেলেই রিজেক্ট: যা করবেন

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

স্কলারশিপ থাকলে কি ভিসা পাওয়া সহজ: ২০২৬ সালের বাস্তবচিত্র ও করণীয়

ভাই, শুনতেছি স্কলারশিপ পাওয়া ছাড়া সবাই রিজেক্ট খাচ্ছে! যারা স্কলারশিপ নিয়ে ভিসা পাচ্ছে, তারা কোন ধরনের স্কলারশিপ পাচ্ছে? সেটা পেতে হলে কী করতে হবে?

বিদেশে পড়তে গেলেই রিজেক্ট: যা করবেন.jpg

এই প্রশ্নটা এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অনলাইনে একের পর এক রিজেকশনের গল্প দেখে অনেকের মনে হচ্ছে নিজের টাকায় বিদেশে পড়তে গেলে শেষ! স্কলারশিপ না থাকলে কোনো চান্সই নেই!

কিন্তু ব্যাপারটা এত সোজা আবার বাজেও না। স্কলারশিপ থাকলে ভিসা নিশ্চিত এমন কোনো নিয়ম নেই। আবার স্কলারশিপ না থাকলেই ভিসা রিজেক্ট এটাও সত্য নয়।

তবে ২০২৬ সালের পরিস্থিতিতে একটা বিষয় পরিষ্কার, সেটা হলো অনেক জনপ্রিয় দেশ স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, পড়াশোনার উদ্দেশ্য, কোর্সের যৌক্তিকতা, ডকুমেন্টস, আগের শিক্ষাজীবন এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলুন পুরো বিষয়টা গুজব বাদ দিয়ে বুঝি।

২০২৬ সালে বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা এত কঠিন মনে হচ্ছে কেন?

প্রথমে একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। “সবাই রিজেক্ট হচ্ছে” এটা তথ্যভিত্তিকভাবে বলা যায় না। কারণ ভিসার ফলাফল দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, আবেদনকারীর প্রোফাইল এবং ডকুমেন্টসের ওপর নির্ভর করে। তবে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ব্যবস্থায় বেশ কিছু দেশে নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই কঠোর হয়েছে।

যেমন কানাডা বর্তমানে স্টাডি পারমিটের জন্য ফাইনান্সিয়াল ডকুমেন্টসকে স্পষ্টভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আবেদনকারীকে প্রথম বছরের টিউশন, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং যাতায়াতের খরচের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ দেখাতে হবে। 

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কোর্স ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ চালানোর অর্থের প্রমাণ দিতে হয়। সরকারি নিয়মে নিজের বা নির্দিষ্ট পরিবারের অর্থ ছাড়াও যোগ্য student loan এবং official financial sponsorship এর ডকুমেন্টস দেখাতে হয়। 

তাই এখন শুধু, “আমার টাকা আছে, আমাকে ভিসা দেন” এই ধরনের আবেদন যথেষ্ট নাও হতে পারে।

তাহলে কি স্কলারশিপ থাকলেই ভিসা পাওয়া যায়?

না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্কলারশিপ আপনার আর্থিক অবস্থানকে স্ট্রং করতে পারে!  কিন্তু স্কলারশিপ = ভিসা গ্যারান্টেড নয়। কানাডার সরকারি নির্দেশনাতেই বলা আছে, স্কলারশিপ থাকলেও সেটি যদি সব প্রয়োজনীয় খরচ না মেটায়, তাহলে বাকি অর্থের উৎসের প্রমাণ দিতে হতে পারে।

অর্থাৎ আপনি যদি বছরে ৩০ লাখ টাকার খরচের কোর্সে ভর্তি হন এবং স্কলারশিপ পান ১৫ লাখ টাকার, তাহলে বাকি ১৫ লাখ কোথা থেকে আসবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কোন ধরনের স্কলারশিপ থাকলে ভিসার ফাইনান্সিয়াল দিকটা স্ট্রং হয়?

সব স্কলারশিপ এক রকম নয়। সাধারণভাবে তিন ধরনের ফান্ডেড স্কলারশিপকে আলাদা করে দেখা যায়।

১. সম্পূর্ণ ফান্ডেড স্কলারশিপ: এটাই সবচেয়ে স্ট্রং ধরনের স্কলারশিপ। এ ধরনের স্কলারশিপে সাধারণত টিউশন ফি পুরো বা বড় অংশ, মাসিক থাকা-খাওয়ার ভাতা, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট খরচের সহায়তা থাকতে পারে।

২. হাফ স্কলারশিপ: এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো আপনার টিউশন ফি থেকে £5,000 বা £10,000 কমিয়ে দিতে পারে! এই ধরণের স্কলারশিপ শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ফান্ডেড স্কলারশিপ নয়। ধরুন আপনার মোট টিউশন £20,000। আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় £10,000 ছাড় দিল। আপনাকে এখনও £10,000 দিতে হবে। তার ওপর থাকা-খাওয়া, ভ্রমণ, ভিসা, বিমা ইত্যাদি খরচ থাকতে পারে। তাই ভিসার সময় আপনার বাকি অর্থের উৎস দেখানোর প্রয়োজন থাকতে পারে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তি বা টিউশন ছাড়: অনেক আপনাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব বৃত্তি, মেধাভিত্তিক পুরস্কার বা টিউশন ফি ছাড় দেয়।

এগুলো কখনো কয়েক হাজার পাউন্ড, কখনো আরও বেশি হতে পারে। তবে এটাকে সরকারি ফান্ডেড স্কলারশিপ ভেবে বসা যাবে না।

বাংলাদেশ থেকে কোন ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপগুলো নজরে রাখা যায়?

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি স্কলারশিপ নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। যেমন: 

Chevening Scholarship: যুক্তরাজ্যের জন্য সবচেয়ে পরিচিত সরকারি স্কলারশিপগুলোর একটি এই স্কলারশিপ। বাংলাদেশের জন্য এই Chevening-এর নিজস্ব পেজ রয়েছে এবং ২০২৭/২৮ সালের আবেদন ৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত খোলা আছে।  তবে এটা সবার জন্য না। আবেদন করার আগে তাই যোগ্যতা পড়ে নেবেন।

Erasmus Mundus Joint Masters: এখানে একটি নির্দিষ্ট ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু এক জায়গায় পড়ার বদলে প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ থাকতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, Erasmus Mundus Joint Masters সাধারণত ১/২ বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রাম এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকে।  

স্কলারশিপ কি ভিসা রিজেকশন কমায়?

আর্থিক দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকে স্কলারশিপ স্ট্রং করতে পারে। কিন্তু ভিসা অফিসার শুধু স্কলারশিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। উদাহরণ হিসেবে কানাডার ক্ষেত্রে স্কলারশিপ থাকলে তার অফিসিয়াল প্রমাণ দিতে হয় এবং স্কলারশিপ পুরো খরচ না মেটালে বাকি অর্থের উৎসও দেখাতে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও official financial sponsorship ডকুমেন্টস দেখাতে হয়। 

স্কলারশিপ থাকলে কি ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে না?

সবসময় এমন নয়। এটা স্কলারশিপ কতটুকু খরচ বহন করছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নিয়মের ওপর নির্ভর করে। কানাডার সরকারি নির্দেশনায় বলা আছে, স্কলারশিপ থাকলেও যদি তা সব প্রয়োজনীয় অর্থ না মেটায়, তাহলে অন্যান্য ফান্ডের প্রমাণ দিতে হতে পারে। অর্থাৎ আপনার স্কলারশিপ যদি শুধু টিউশন ফি কমায়, তাহলে থাকা-খাওয়ার টাকা কোথা থেকে আসবে সেটাও দেখাতে হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ