
প্রথমে ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। ফুল ফান্ডেড প্রোগ্রাম মানে সব জায়গায় একই জিনিস না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো আপনার সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করবে। এর সঙ্গে হয়তো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্টাইপেন্ড দেবে। আবার কোনো প্রোগ্রামে হয়তো গবেষণার খরচ থাকবে। কোনোটিতে স্বাস্থ্যবিমা থাকবে। অথবা কোনো ক্ষেত্রে গবেষণা সহকারী বা শিক্ষক সহকারী হিসেবে কাজের বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হতে পারে।
এর একটা সহজ কারণ আছে। বিদেশে পড়াশোনা করার আগ্রহ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। একসময় একজন শিক্ষার্থী হয়তো ভাবতেন ভালো রেজাল্ট করব → বিদেশে আবেদন করব → কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়ে যাবে। এখন সেই জায়গায় প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একই ধরনের প্রোফাইলের অনেক আবেদনকারী যাচ্ছে। ধরুন একটি গবেষণাগারে একজন অধ্যাপকের কাছে একটি funded position আছে। কিন্তু আবেদন করেছে ১০০ জন। এর মধ্যে ৫০ জনের CGPA ভালো, ৩০ জনের গবেষণার অভিজ্ঞতা আছে, ২০ জনের প্রকাশনা আছে, ১০ জনের আবার নির্দিষ্ট গবেষণার সঙ্গে সরাসরি মিল আছে। তখন শুধু “আমার CGPA 3.80” লিখে আলাদা হয়ে ওঠা কঠিন। এখানেই আসে প্রফেসরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক PhD বা funded research position-এর ক্ষেত্রে একজন অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে আপনার আগ্রহ ও দক্ষতার মিল থাকলে যোগাযোগ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ অনেক গবেষণা প্রকল্পের অর্থ আসে Professor-এর research grant অথবা Department-এর funding থেকে।
তাই অধ্যাপকের কাছে যদি আপনার গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং তার চলমান কাজের মধ্যে ভালো মিল থাকে, তাহলে আপনার আবেদন তার নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে! তবে এখানে একটা ভুল ধারণা আছে। Professor-কে ইমেইল করলেই funding পাওয়া যায় এমনটা কিন্তু ঠিক নয়।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো একই ইমেইল ২০০ জনকে পাঠানো। আর ইমেইলের শুরুতে Dear Sir/Madam, I want to do PhD in your university. Please give me scholarship এসব লেখা! এই ধরনের মেইল দেখে অধ্যাপক সম্ভবত আপনার গবেষণার প্রতি যতটা আগ্রহী হবেন, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন Delete বাটনে। কারণ অধ্যাপক প্রতিদিন অনেক ইমেইল পান। তাই আপনার মেইল ছোট, নির্দিষ্ট এবং গবেষণাকেন্দ্রিক হওয়া দরকার।
ধরুন আপনি Artificial Intelligence নিয়ে কাজ করতে চান। আপনি একজন অধ্যাপকের গবেষণা দেখলেন তিনি medical image analysis নিয়ে কাজ করছেন। আপনার নিজেরও একই ধরনের একটি প্রজেক্ট আছে। তাহলে আপনার ইমেইলে লিখতে পারেন, আপনি তার কোন গবেষণাটি পড়েছেন। সেখানে কোন বিষয়টি আপনার আগ্রহ তৈরি করেছে। আপনার নিজের কী অভিজ্ঞতা আছে তা তুলে ধরে বলবেন আপনার কোন দক্ষতা তার গবেষণায় কাজে লাগতে পারে।
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজবেন না শুধু নাম দেখে। আগে আপনার গবেষণার বিষয় ঠিক করবেন! তারপর সেই বিষয় নিয়ে কাজ করেন এমন অধ্যাপক খুঁজে নিবেন। তারপর অধ্যাপকের সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, ল্যাবের ওয়েবসাইট এবং চলমান প্রজেক্ট দেখে নিজের সঙ্গে মিল খুঁজে নেবেন।
একজন অধ্যাপককে মেইল করার আগে অন্তত এই বিষয়গুলো দেখবেন:
মনে রাখবেন এই তথ্যগুলো বের করতে ১৫-২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই ফুল ফান্ডেড গবেষণার সুযোগ চান, তাহলে এই সময়টুকু দেওয়াটা স্বাভাবিক।