“ভাই, ইউকেতে স্কলারশিপ পাওয়া যায় নাকি? আমি তো ভাবতাম Chevening না পেলে গেম ওভার!”

বিদেশে পড়াশোনার কথা উঠলেই অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে Chevening, তারপর Commonwealth। এরপর স্কলারশিপের কথা মাথা থেকে এমনভাবে উধাও হয়ে যায়, যেন পরীক্ষার হলে সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটা উধাও হয়ে গেছে! কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউকেতে শুধু Chevening বা Commonwealth-ই একমাত্র সুযোগ নয়। এর পাশাপাশি আছে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্কলারশিপ, বিষয়ভিত্তিক অর্থসহায়তা, টিউশন ফি ছাড় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ!
এখানে আপনি কোনগুলো দেখবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, কম সিজিপিএ হলে কী করবেন, IELTS ৬.৫ থাকলে কী সুযোগ আছে কিনা, আর ২০২৬ সালে এখন কোন সুযোগগুলো বাস্তবসম্মত সবকিছু আমি আজ ক্লিয়ার করে দিচ্ছি!
প্রথমেই একটা ভুল ধারণা ভাঙি। ইউকেতে স্কলারশিপ মানেই Chevening এই ধারণা ভুল। Chevening অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুরো অর্থায়িত স্কলারশিপগুলোর মধ্যে অন্যতম। যা বর্তমানে খোলা আছে এবং ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাচ্ছে। কিন্তু Chevening-এর যোগ্যতা সবার সঙ্গে মেলে না। উদাহরণস্বরূপ, Chevening মূলত ফিউচারে লিডার হতে পারবে এমন সম্ভাবনাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এবং কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, প্রভাব ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়। তাই সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া এমন একজন শিক্ষার্থী যার উল্লেখযোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা নেই, তার জন্য Chevening হয়তো সবচেয়ে বাস্তবসম্মত অপশন নয়। এখানেই আসে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপ।
এক্ষেত্রে GREAT Scholarships আগে দেখতে পারেন! বাংলাদেশি স্টুডেন্দের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলোর একটি হলো GREAT Scholarships। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ GREAT-এর যোগ্য দেশগুলোর একটি। British Council-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে Cranfield University, Leeds Arts University এবং Keele University-সহ নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে GREAT Scholarships রয়েছে। তবে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কোর্স ও আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। আসুন কিছু স্কলারশিপ নিয়ে কথা বলি!
এখানে একটু ভালো করে খেয়াল করুন। University of Manchester ২০২৬ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য £১৫,০০০-এর একটি GREAT Scholarship দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে একজন শিক্ষার্থী এই পুরস্কার পাবে। যেহেতু ২০২৬ সালের এই স্কলারশিপের নির্দিষ্ট আবেদনের সময়সীমা ছিল ২৩ এপ্রিল ২০২৬। তাই এখন ২০২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য এই আবেদন আপাতত বন্ধ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি নজর দেওয়ার মতো সুযোগ হলো Keele University-এর GREAT Scholarship। ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষে Keele বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য £১০,০০০ মূল্যের GREAT Scholarship দিচ্ছে! এ ধরনের স্কলারশিপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় যদি আপনার বিষয়ের জন্য ভালো হয়, তাহলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপও আপনাকে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি সুযোগ হচ্ছে এই
University of East Anglia! এটাও GREAT Scholarship দিচ্ছে। এখানে প্রতিটি স্কলারশিপের মূল্য £১০,০০০। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সুযোগ আছে, কিন্তু আপনাকে গিয়ে খুঁজে বের করতে হবে।
আরেকটি মজার সুযোগ রয়েছে University of Portsmouth-এ। ২০২৬-২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য £১০,০০০ মূল্যের GREAT Scholarship রয়েছে নির্দিষ্ট মাস্টার্স কোর্সে। এর মধ্যে Applied Linguistics and TESOL, International Relations, Sociology, Education Studies, Criminal Psychology, Cybercrime, International Criminal Justiceসহ একাধিক বিষয় রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, অপরাধবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়ে পড়তে চান, তাহলে শুধু সাধারণ UK scholarship for Bangladeshi students লিখে সার্চ না করে course-specific scholarship-ও খুঁজবেন। কারণ এখানেই অনেক সুযোগ লুকিয়ে থাকে।
Ulster Universityও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য GREAT Scholarship দিয়েছে। যার মূল্য £১০,০০০। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ২০২৬ সালের আবেদন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পেজে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আবেদনকে closed বলা হয়েছে।
একদমই না। কিন্তু কম সিজিপিএ আর সিজিপিএ কোনো ব্যাপারই না এই দুইটা এক জিনিস নয়। আপনার একাডেমিক ফলাফল সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যোগ্যতাই যদি পূরণ না করেন, তাহলে স্কলারশিপের ফর্মে গিয়ে প্রেমপত্র লিখলেও লাভ হবে না। তবে অনেক স্কলারশিপে শুধু সিজিপিএ নয়, আপনার:
ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। GREAT-এর অফিসিয়াল শর্তেও প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহ, একাডেমিক সক্ষমতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা বা প্রমাণিত আগ্রহ দেখানোর কথা বলা হয়েছে। তাই CGPA 3.90 মানেই অটোমেটিক স্কলারশিপ এমন কোনো ফর্মুলা নেই। আবার CGPA 3.00 মানেই কোনো স্কলারশিপ নেই এটাও ঠিক নয়।
IELTS 6.5 থাকা অনেক কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে, কিন্তু এই বিষয়টা স্কলারশিপ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেবে না। প্রথমে দেখতে হবে আপনার নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের ইংরেজি ভাষার শর্ত কী। GREAT Scholarship-এর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করতে হয়। মনে রাখবেন আপনার IELTS হলো যোগ্যতার একটি অংশ। কিন্তু স্কলারশিপের জন্য আপনার পুরো প্রোফাইল দেখতে হবে।
ধরুন আপনার CGPA খুব অসাধারণ নয়। তাহলে আপনার প্রোফাইলের অন্য জায়গাগুলো শক্ত করতে পারেন! যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সংগঠনে দায়িত্ব নিয়েছেন কিনা সেটা লিখুন, কোনো সামাজিক প্রকল্পে কাজ করেছেন কিনা তার প্রমাণ রাখুন, ইন্টার্নশিপ করেছেন করলে কী কাজ করেছেন সেটা দেখান, নিজের বিষয়ে গবেষণা করেছেন করলে গবেষণার ফলাফল লিখুন।
সবশেষে বলবো ইউকেতে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য শুধু বড় স্কলারশিপ দেখবেন না এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। আপনার একটা Excel বা Google Sheet বানান। তারপর কলাম করুন! কলামে বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, টিউশন ফি, স্কলারশিপের নাম, স্কলারশিপের পরিমাণ, কারা আবেদন করতে পারে, সিজিপিএ শর্ত, IELTS শর্ত, অফার লেটার লাগবে কি না, শেষ তারিখ, আবেদন লিংক, ফলাফল লিখবেন! তারপর ২০/৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে ফেলবেন। আপনি অবাক হয়ে দেখবেন চোখের সামেন এতো এতো স্কলারশিপ আছে, কিন্তু আপনি জানতেনই না।