কানাডায় পড়তে যেতে চান! কিন্তু টিউশন ফি দেখেই যদি মনে হয় ভাই, পড়তে যাব নাকি আগে ব্যাংকের মালিক হয়ে নিবো তাহলে এই আমাদের আজকের এই লেখাটা আপনার জন্য।

কানাডায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর থাকে। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে একটা ছোট্ট সমস্যাও আছে আর সেটা হচ্ছে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত আর অন্যান্য খরচ মিলিয়ে চলে আসা বড় খরচ!
তাছাড়া কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাও ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ও ফান্ডিং দেয়। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হতে পারে। যেখানে স্নাতক, মাস্টার্স এবং পিএইচডি, বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। আসুন বিস্তারিত জানি!
তবে এখানে একটা জিনিস একদম শুরুতেই ক্লিয়ার করা দরকার। ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার সব স্কলারশিপ ফুল ফান্ডেড নয়। তবে কিছু স্কলারশিপ আপনার টিউশন ফি কমাতে সাহায্য করবে। আবার কিছু স্কলারশিপ কয়েক হাজার কানাডিয়ান ডলার দিতে পারে। তাছাড়া গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডির ক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় অঙ্কের ফান্ডিং পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আর কোন স্কলারশিপ আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে, সেটা নির্ভর করবে আপনার পড়াশোনার পর্যায়, রেজাল্ট, বিষয় এবং প্রোগ্রামের ওপর।
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে কলেজ বা সমমানের পড়াশোনা শেষ করে কানাডায় স্নাতক করতে চান, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট এন্ট্রান্স স্কলারশিপ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই স্কলারশিপ মূলত কানাডার বাইরে মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য।
এখানে আপনার একাডেমিক রেজাল্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভর্তি-গড়ের ওপর ভিত্তি করে কয়েক হাজার কানাডিয়ান ডলারের স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ভর্তি-গড়ের জন্য ৩,০০০ কানাডিয়ান ডলার এবং ৯০ শতাংশ বা তার বেশি গড়ের জন্য ২,০০০ কানাডিয়ান ডলারের পুরস্কারের তথ্য রয়েছে। তবে স্কলারশিপের পরিমাণ ও নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা স্কলারশিপ নিয়ে ২০২৭ সালের আবেদনকারীদের জন্য একটা বেশ ইন্টারেস্টিং খবর আছে। আর সেটা হলো ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স এন্ট্রান্স স্কলারশিপ চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এই স্কলারশিপে থাকবে:
এখানে মোট ৩ জন আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থী বড় অঙ্কের এই স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু রেজাল্ট ভালো হলেই হবে না। আপনার লিডারশিপ স্কিল এবং সামাজিক কাজে অংশগ্রহণও বিবেচনা করা হবে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এই বড় স্কলারশিপের জন্য কমপক্ষে ৯০ শতাংশ মার্কের প্রয়োজন হবে। তবে ৯০ শতাংশ পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত নয়। কারণ নির্বাচনের সময় আরও কিছু বিষয় দেখা হবে। যেমন:
ধরুন দুইজন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট একই! এখানে একজন শুধু পড়াশোনা করেছে। অন্যজন পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়িয়েছে এবং সেই উদ্যোগ নিজে পরিচালনা করেছে। দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর প্রোফাইল এখানে আলাদা করে চোখে পড়তে পারে। তাই ২০২৭ সালের এই স্কলারশিপ টার্গেট করলে শুধু সিজিপিএ নিয়ে পড়ে থাকবেন না। নিজের পুরো প্রোফাইল নিয়েও কাজ করতে হবে।
এখানে একটা ভুল ধারণা দূর করা দরকার। সব প্রোগ্রামের জন্য একই আইইএলটিএস স্কোর প্রযোজ্য নয়। অনেক প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস ৬.৫ একটি প্রচলিত প্রয়োজনীয়তা হলেও নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোনো কোনো প্রোগ্রামে বেশি স্কোরও লাগতে পারে। তাই শুধু ম্যানিটোবাতে আইইএলটিএস ৬.৫ লাগে এই একটা কথা শুনে বসে থাকবেন না। আপনি যে বিষয়ে আবেদন করবেন, সেই প্রোগ্রামের ভর্তি শর্ত দেখবেন। আর একটা বিষয় মনে রাখবেন ভর্তির যোগ্যতা আর স্কলারশিপের যোগ্যতা এক জিনিস না।
আপনার প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপ অনুযায়ী কাগজপত্র আলাদা হতে পারে। তবে আগে থেকেই কিছু জিনিস প্রস্তুত রাখা ভালো। যেমন আপনার:
স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্কুল বা কলেজের ফলাফলের কাগজ লাগতে পারে। আর নতুন ২০২৭ সালের বড় আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে রেফারেন্স এবং অন্তর্বর্তী ফলাফলের মতো অতিরিক্ত কাগজও প্রয়োজন হতে পারে।
সবগুলো না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। কিছু স্নাতক স্কলারশিপ কয়েক হাজার কানাডিয়ান ডলার দিতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স স্কলারশিপের বর্তমানে ন্যূনতম ৫,০০০ কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে! অন্যদিকে ইউএমজিএফ মাস্টার্সে ২০,০০০ এবং পিএইচডিতে ২৫,০০০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত দেয়। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনার কানাডায় যাওয়ার পর আর কোনো খরচ থাকবে না।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বেশ ভালো একটি অপশন হতে পারে। বিশেষ করে আপনার যদি লক্ষ্য থাকে কানাডায় স্নাতক করা, গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স করা, অথবা পিএইচডি করা! কারণ এখানে শুধু একটি স্কলারশিপ নয়, বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু স্কলারশিপ দেখে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করবেন না। আপনার পছন্দের বিষয় আছে কি না, প্রোগ্রাম আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো কি না, টিউশন কত, থাকার খরচ কত, গবেষণার সুযোগ কেমন এসবও দেখতে হবে।
সব স্কলারশিপের আবেদন পদ্ধতি এক না। কিছু ভর্তি-ভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন নাও লাগতে পারে। আপনার ভর্তি আবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে আপনাকে বিবেচনা করা হতে পারে। আবার কিছু বিশেষ স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের কিছু স্কলারশিপের ক্ষেত্রে বিভাগ থেকেই শিক্ষার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ইউএমজিএফের ক্ষেত্রেও বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ইউনিটের মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো একটি ফেসবুক পোস্ট দেখে আবেদন করবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য এবং নিজের বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখুন।