তিনটি বিষয়ে মানুষের কাছে বলো না
• (নিজের) গুনাহ;
• (নিজের) নেক আমল;
• (নিজের) দুঃখ-কষ্ট,
—ইমাম সুফিয়ান আস সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ)
[ইমাম আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া]
.
❖ গুনাহর কথা বলা যাবে না। কারণ, হাদিসে এসেছে, গুনাহর কথা প্রকাশকারী—মুজাহিরকে আল্লাহ্ কখনো মাফ করবেন না (তাওবাহ্ ব্যতীত)। কারণ, আল্লাহ যে গুনাহ ঢেকে রাখেন, সে সেই গুনাহের কথা উন্মুক্ত করে দেয় মানুষের কাছে। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬০৬৯]
এই ভুলটা আমরা অনেকেই করি। সাবধান হওয়া দরকার। গুনাহের কথা বলা যাবে না।
❖ নেক আমলের কথা প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ, এতে রিয়া তথা লৌকিকতার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া আত্মপ্রীতি ও আত্মপূজার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সালাফ তথা পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিগণ বলতেন, ‘তোমরা যেভাবে তোমাদের গুনাহগুলো ঢেকে রাখো, সেভাবে তোমাদের নেক আমলগুলোও ঢেকে রাখো।’ আমাদের কিছু ডিল থাকা দরকার শুধু নিজেদের এবং আল্লাহর মাঝে। আর কেউ জানবে না। জানার দরকার কী? গোপন আমলকে আল্লাহর কাছে উসিলা হিসেবে পেশ করলে বিভিন্ন সময় উপকার পাওয়া যায়। গুহায় আটকে পড়া সেই তিন ব্যক্তির কথা মনে পড়ে? তারা কিন্তু গোপন নেক আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলো এবং আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২৩৩৩]
❖ দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ দুঃখের কথা বললে দুঃখ অনেক সময় বাড়ে, কারণ সব শ্রোতা সমান নয়। অনেক শ্রোতাই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে উল্টো আতঙ্কিত করে তোলে। তবে, দুঃখ-কষ্ট শেয়ারের ফলাফলের ব্যাপারটি আপেক্ষিক; ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক সময় দুঃখ-কষ্ট শেয়ার করলে দুঃখবোধ হালকা হয়। তবে, যদি সেই দুঃখের ব্যাপারটি খুব নেতিবাচক কিছু হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা বলা উচিত নয়। কারণ এমন অনেকেই আছে, যারা এসব বিষয় দিয়ে পরবর্তীতে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে। ব্ল্যাকমেইল না করলেও, বাকি জীবন তার সাথে হিসেব করে কথা বলতে হয় এবং সমীহ করে চলতে হয়। ভয় কাজ করে, অসন্তুষ্ট হলে না জানি বলে দেয়! তবে, আমাদেরকে এমন কাজ করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে, যেটি কারও সাথে শেয়ার করতে ভয় কাজ করবে। হাদিসে এসেছে, ‘‘গুনাহ সেটিই, যেটি তোমার মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং যেটির ব্যাপারে তুমি অপছন্দ করো যে, মানুষ সেটি জেনে ফেলুক।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪১০]
ইমাম সুফিয়ান সাওরির মূল্যবান উপদেশ থেকে আমরা জানতে পারলাম, আমাদের চুপ করা শিখতে হবে। যাবতীয় বিষয় আল্লাহর সাথে সুরাহা করার অভ্যাস করতে হবে। কুরআন কারিমে বলা হয়েছে—
.
ﺣَﺴْﺒُﻨَﺎ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟْﻮَﻛِﻴْﻞُ
.
(‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘অ্মাল ওয়াকিল)
.
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!
সূত্র নুসুস থেকে