
চীনে পড়াশোনার জন্য NO FEE, NO IELTS, Fully Funded Scholarship কথাটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল। অনেকেই ভাবেন এটা মানেই সহজে বিদেশ যাওয়া, কোনো খরচ নেই, শুধু ব্যাগ গুছিয়ে ফ্লাইট ধরা।
কিন্তু চীনের এই স্কলারশিপ পাওয়াটা এতোটাও কম ঝামেলার না। বরং এটা একটা কম্পিটিশন-ভিত্তিক সরকারি স্কলারশিপ সিস্টেম। যেখানে আপনার যোগ্যতা, ডকুমেন্ট, স্টাডি প্ল্যান এবং প্রোফাইল খুব গুরুত্ব পাবে।
চীনের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হলো চীনা সরকারের স্কলারশিপ। যা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার যৌথভাবে পরিচালনা করে।
এই স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো, ভবিষ্যৎ গ্লোবাল ট্যালেন্ট তৈরি করা। অর্থাৎ তারা শুধু স্টুডেন্ট নিবে না! বরং ভবিষ্যৎ স্কিলড মানুষদের ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে নেয়।
চীনের সরকারি স্কলারশিপকে ফুল-ফান্ড বলা হয় কারণ এখানে আপনাকে নামমাত্র খরচ দিলে চলবে। যেমন:
১. আপনাকে কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না। মানে পুরো ফ্রি! কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ টিউশন ফি সরকার বহন করে। মানে ইউনিভার্সিটির ক্লাস, ল্যাব, পড়াশোনা সবই তারা বহন করবে।
২. অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টদের জন্য ডরমিটরি দেয়। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফ্রি। আবার কিছু ক্ষেত্রে খুব কম খরচেও জায়গা পাওয়া যায়।
৩. মাসিক স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা থাকবে। অনেকে যেটাকে সেলারি বলে ভুল করে! কারণ এটা আসলে বেতন না! বরং আপনার পড়াশোনার খরচ চালানোর ভাতা। এক্ষেত্রে যারা ব্যাচেলর করবে তারা প্রায় ২৫০০ ইউয়ান মানে ৪০,০০০ টাকা পাবে, যারা মাস্টার্স করবে তারা প্রায় ৩০০০ ইউয়ান মানে ৫০,০০০ টাকা পাবে। আর সবশেষে যারা পিএইচডি করবে তারা প্রায় ৩৫০০ ইউয়ান মানে ৬০,০০০ টাকা পাবে। এই টাকা দিয়ে খাবার, ট্রান্সপোর্ট, ব্যক্তিগত খরচ ম্যানেজ করতে হবে আপনাকে।
৪. কিছু কিছু প্রোগ্রামে একবারের এয়ার টিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু সব ইউনিভার্সিটি বা ট্র্যাক এই সুযোগ দেয় না।
সব চীনা স্কলারশিপে IELTS বাধ্যতামূলক না। কিন্তু এর মানে এই না যে ভাষা দরকার নেই। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় English Proficiency Letter গ্রহণ করে ঠিকই। কিন্তু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় internal interview নেয়। তবে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS থাকলে chance বাড়ে আর IELTS না থাকলে competition বেশি কঠিন হয়ে যায়।
চীনের ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আপনি মূলত যেসব ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন সে-সব ডিগ্রি হলো:
ব্যাচেলর: সাধারণত যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে তারা ব্যাচেলরের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মাস্টার্স: চীনে স্কলারশিপের ক্ষেত্রে মাস্টার্স সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়! যেখানে প্রচুর রিসার্চ + কোর্সওয়ার্কের সুযোগ থাকে!
পিএইচডি: গবেষণাভিত্তিক এই প্রোগ্রামে আপনাকে বেশিরভাগ সময় প্রফেসরের সাথে কাজ করতে হবে!
চীনের স্কলারশিপে সাধারণত দুইটি প্রধান উপায় আছে:
এম্বাসি ট্র্যাক: বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে আপনি এখানে আবেদন করতে পারবেন। যেখানে মূলত সরকারি কোটার মাধ্যমে সিলেকশন হবে, প্রতিযোগিতা বেশি থাকবে আর আবেদনে ডকুমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ সোর্স হিসাবে কাজ করবে।
ইউনিভার্সিটি ট্র্যাক: আবার আপনি চাইলে সরাসরি চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এই পথটা কিন্তু বেশি ফ্লেক্সিবল, তুলনামূলক বেশি সুযোগ থাকে আর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরা স্কলারশিপ দিয়ে দেয়।
চীনের ফুল ফ্রি স্কলারশিপে সাধারণভাবে যে ডকুমেন্টসগুলো লাগে:
চীন বছরে হাজার হাজার স্টুডেন্ট নেয়। গড়ভাবে প্রতি বছর ২০,০০০+ স্টুডেন্ট বাংলাদেশ থেকে যায়। যদিও সিলেকশন হয় তুলনামূলক কম সংখ্যায়!
তবে চীনের ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদনের সময় মাথায় রাখতে হবে অনেক জায়গায় চাইনিজ ভাষা শিখতে হয়! না হলে আবেদন করা যায় না। আবার এমন হতে পারে যে অনেকের জন্য ছোট শহরে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর হ্যাঁ! চীনের ইউনিভার্সিটি একাডেমিকভাবে কিন্তু অনেক কঠোর। তবে আপনার যদি ভালো একাডেমিক রেজাল্ট থাকে, পরিষ্কার স্টাডি প্ল্যান থাকে, ভালো প্রোফাইল থাকে আপনিও আবেদন করে সিলেক্ট হয়ে যেতে পারবেন!