জেনে নিন বাংলাদেশিদের জন্য কোন কোন দেশে ভিসা বন্ধ

জেনে নিন বাংলাদেশিদের জন্য কোন কোন দেশে ভিসা বন্ধ

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

জেনে নিন বাংলাদেশিদের জন্য কোন কোন দেশে ভিসা বন্ধ

জেনে নিন বাংলাদেশিদের জন্য কোন কোন দেশে ভিসা বন্ধ.jpg

অনেকেই ভাবেন যে দেশে ভিসা বন্ধ সে দেশে আর যাওয়া যাবে না! কিন্তু বাস্তবতা একটু আলাদা। বিশেষ করে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ও ওয়ার্কারদের জন্য বেশিরভাগ দেশ পুরো ভিসা বন্ধ করেনি। বরং নিয়ম কঠোর করেছে। সহজভাবে বলতে গেলে আগে দরজা খোলা ছিল। এখন দরজায় গার্ড + স্ক্যানার + ইন্টারভিউ সবই আছে। তবে চলুন এখন দেশভিত্তিক বাস্তবতা দেখি। জানার চেষ্টা করি শুধু বাংলাদেশিদের জন্য স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসার অবস্থা কেমন!

সংযুক্ত আরব আমিরাত

ওয়ার্কারদের জন্য কঠিন সময় এটা! বাংলাদেশিদের জন্য UAE অনেকদিন ধরেই বড় চাকরির মার্কেট। কিন্তু গত কয়েক বছরে ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে গেছে। কারণটা একদম পরিষ্কার। ওভারস্টে এবং অবৈধ কাজের কারণে এমনটা হচ্ছে। অনেক বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ শুরু করত এবং ভিসা শেষ হওয়ার পরও থাকত। এর ফলে UAE সরকার কঠোর হয়ে যায়। আর ফলাফল হিসাবে এখন অনেক সময় ওয়ার্ক ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ বা ধীর থাকছে। কোম্পানি স্পন্সর ছাড়া যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। পাশাপাশি ভিসা রিজেকশন রেট বেড়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা এখনো চালু আছে, কিন্তু বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের সংখ্যা তুলনামূলক কম, এবং বেশিরভাগই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে যায় যেখানে খরচ বেশি।

মালয়েশিয়া

এই দেশটিতে ওয়ার্ক ভিসা বারবার বন্ধ-চালু করা হচ্ছে আমাদের জন্য। আসলে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ছিল সবচেয়ে সহজ মার্কেটগুলোর একটি। কিন্তু এখন বাস্তবতা হলো অনেকবার এই দেশের ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ ও পুনরায় চালু হয়েছে। কারণ দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, গিয়ে কাজ না পাওয়া এসব সমস্যা ছিলো মাত্রাতিরিক্ত! আপনি জেনে অবাক হবেন অনেক ক্ষেত্রে একজন শ্রমিক ৩/৫ লাখ টাকা দিয়েছে, অথচ সরকারি খরচ অনেক কম। আর ফলাফল? ফলাফল দেশটির সরকার বারবার ওয়ার্কার নেওয়া বন্ধ করেছে। যদিও স্টুডেন্ট ভিসা এখনো খোলা আছে, এবং মালয়েশিয়া বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের জন্য relatively easy option! কিন্তু fake university এ ভর্তি হলে ভিসা রিজেক্ট হয়। পাশাপাশি attendance ও result monitor করা হয়!

কুয়েত

কুয়েতও বাংলাদেশিদের জন্য একাধিকবার ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ করেছে। কারণ অনেকে সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছে। রয়েছে অপরাধের অভিযোগ এবং ভিসার misuse। সবমিলিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে deport করা হয়েছে বিভিন্ন সময়। আর বর্তমান অবস্থা হচ্ছে কিছু সেক্টরে ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও strict background check সিস্টেম চালু করা হয়েছে। আর স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য খুব সুযোগ রয়েছে। কারণ কুয়েত বড় কোনো স্টাডি ডেস্টিনেশন না।

দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশিদের জন্য কোরিয়া খুব জনপ্রিয় দেশ ছিলো! বিশেষ করে কাজের জন্য। কিন্তু এখানে ভিসা বন্ধ না, বরং extremely selective। মানে ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে শুধু EPS এর সুযোগ রয়েছে। তবে এখানে Korean language test বাধ্যতামূলক। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে হাজার হাজার আবেদনকারী থাকে। কিন্তু সিলেক্ট হয় অল্প কয়েক হাজার। আর স্টুডেন্ট ভিসা আগে তুলনামূলক সহজ ছিল এখন fake student issue এর কারণে  bank statement + interview কঠিন হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের জন্য UK এখনো অনেক জনপ্রিয় দেশ। কিন্তু নিয়ম অনেক কঠোর হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসায় dependent মানে family নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ, financial proof বাড়ানো হয়েছে আর fake admission ও ধরা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে rejection rate noticeable ভাবে বেড়েছে। আর ওয়ার্ক ভিসা তো sponsorship ছাড়া সম্ভবই না।

সৌদি আরব

সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জন্য অনেক বড় শ্রমবাজার। কিন্তু এখন পরিবর্তন আসছে। কারণ local employment এ দেশটি ফোকাস করছে। আর বিদেশি শ্রমিক কমানোর চেষ্টা করছে। যার কারণে দেশটিতে কিছু সেক্টরে ওয়ার্ক ভিসা কমেছে। তবে এটা সত্য যে skilled worker বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আর স্টুডেন্ট ভিসা অনেক limited৷ কিন্তু scholarship থাকলে সুযোগ ভালো।

ইতি কথা

মোটকথা কোনো দেশই পুরোপুরি বাংলাদেশের জন্য বন্ধ না। তবে ৫০%+ দেশে immigration policy কঠোর হয়ে গেছে। আগে ছিল ভিসা = টাকা + এজেন্সি! আর এখন ভিসা = skill + document + patience!  আপনি যদি সঠিক পথে যান, দালাল এড়িয়ে চলেন, স্কিল তৈরি করেন তাহলে ভিসা আপনার জন্য বন্ধ হবে না!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ