
অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ভাই, ফুল ফ্রি স্কলারশিপ তো পেলাম, এখন পকেট থেকে কত যাবে? চায়নাতে ব্যাচেলর করতে আসার আগে খরচের একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা খুব জরুরি। তাই চলুন দেখে নেই চায়নাতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পেলে এরপর ঠিক কত টাকা খরচ হতে পারে।
শুরুতেই বলে রাখি চায়নাতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পাওয়া মানে আপনার পড়াশোনার বড় একটি বোঝা নেমে যাওয়া। তবে ফুল ফ্রি হলেও পকেট থেকে কিছু খরচ অবশ্যই থাকে। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ৪ বছরের ব্যাচেলর শেষ করতে কেমন খরচ হতে পারে, তার একটি বিস্তারিত ধারণা নিচে দেওয়া হলো। যেখানে থাকবে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট ধরা থেকে শুরু করে ৪ বছর শেষ করা পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচের হিসাব।
চায়না যাওয়ার আগে ফাইল প্রসেসিং ও ডকুমেন্টস রেডি করতে আপনার মূলত ৫,০০০ – ১০,০০০ টাকার মতো খরচ করতে হবে। এরপর মেডিকেল চেকআপ করতে ৪,০০০ – ৬,০০০ টাকা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে ৫০০ – ১,০০০ টাকা, ভিসা ফিতে ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা, বিমান টিকিট বাবদ ৪০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা এবং সবশেষে কিছু টাকা লাগবে এজেন্সি ফি বাবদ। যা আপনার নির্ভর করবে আপনি নিজে করছেন নাকি কারো সাহায্য নিচ্ছেন তার ওপর।
চায়না নামার পর প্রথম মাসে হাতে কিছু টাকা রাখা লাগে। এটাই নিয়ম। এক্ষেত্রে রেসিডেন্স পারমিট পেতে আপনাকে ৪০০ – ৮০০ আরএমবি খরচ করতে হবে। তাও বছরে একবার। এরপর মেডিকেল চেকআপ করতে হবে চায়নায় পুনরায়। যার জন্য খরচ পড়বে ৩০০ – ৫০০ আরএমবি। বিছানাপত্র ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে লাগবে ৫০০ – ১,০০০ আরএমবি। সবশেষে সিম কার্ড ও ইন্টারনেট কিনতে খরচ পড়বে ১০০ – ২০০ আরএমবি।
নিজে রান্না করে খেলে চায়নাতে ৫০০-৬০০ আরএমবির মতো খরচ পড়বে। যা বাংলাদেশি টাকায় ১০-১২ হাজারের মতো আসে। এই টাকায় ওখানে খুব ভালোভাবে চলা যায়। তবে ক্যান্টিনে খেলে মাসে ৮০০ – ১০০০ আরএমবি মানে বাংলাদেশি টাকায় ১৫-১৮ হাজারের মতো লাগবে। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য মানে ফোন বিল, শপিং, যাতায়াত সবকিছু নিয়ে ৩০০ – ৫০০ আরএমবির মতো যাবে।
মোটকথা বাংলাদেশ থেকে সব প্রসেসিং শেষ করে চায়না পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা হাতে রাখা নিরাপদ। এরপর যদি আপনি নিয়ম মেনে পড়াশোনা করেন এবং স্কলারশিপ ধরে রাখতে পারেন তাহলে পরবর্তী ৪ বছর বাসা থেকে শুধুমাত্র খাওয়া খরচ এবং হাত খরচ নিলেই দেখবেন সময় চলে যাচ্ছে।
তবে এক্ষেত্রে এ কথা মনে রাখবেন যে স্কলারশিপ বজায় রাখতে হলে অবশ্যই রেজাল্ট ভালো রাখতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। রেজাল্ট খারাপ হলে আপনার স্কলারশিপ ক্যান্সেল হয়ে যেতে পারে। তখন আপনাকে টিউশন এবং হোস্টেল ফ্রি পে করেও পড়াশোনা করতে হতে পারে। যার কারণে আপনার খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে।
ভুলে যাবেন না চায়নাতে কিন্তু পার্ট টাইম জব করার কোন সুযোগ নেই৷ তাই আপনাকে অবশ্যই ফ্যামিলির সাপোর্ট নিয়ে আসতে হবে। আশা রাখছি আপনার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে সঠিক প্রসেসিং এবং সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে।