
Canadian Bureau for International Education বা CBIE এবং World University Service of Canada বা WUSC পরিচালিত CFSP হলো কানাডিয়ান সরকারের একটি fully funded স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। এই স্কলারশিপ মূলত ফরাসি ভাষার একটি স্কলারশিপ।
CFSP-তে আবেদন করার জন্য আপনাকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
১. আবেদনকারী এমন একজন কর্মরত ব্যক্তি হতে হবে, যিনি তার দেশ/সংস্থায় যেকোনো একটি পদে কাজ করছেন এবং সেখান থেকে তার দ্বারা ফিরে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দু’ই উপকৃত হবে। তাছাড়া আবেদনকারীর ফরাসি ভাষায় উচ্চ দক্ষতা থাকতে হবে। কারণ এই স্কলারশিপে সিলেকশন, অ্যাডমিশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় French ভাষা প্রাধান্য পাবে।
২. আবেদনকারীকে প্রথমে তার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে নোমিনেশন পেতে হবে। আর এই প্রতিষ্ঠান সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো এক ধরণের হতে পারবে।
৩. সবশেষে যেহেতু প্রোগ্রাম ও দেশভিত্তিক কোটা ব্যবস্থার কারণে, প্রতিটি দেশ এবং প্রতিষ্ঠানে একটি নির্ধারিত সংখ্যক স্কলারশিপ বরাদ্দ থাকে সেহেতু আপনাকে ভালোভাবে সবকিছুতে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।
CFSP-র আওতায় যে ধরনের প্রোগ্রামগুলোর জন্য আবেদন সম্ভব সে ধরণের প্রোগ্রামগুলি হলো:
মনে রাখবেন, মেডিকেল, ডেন্টাল বা ফার্মাসি-র মতো clinical training প্রোগ্রাম এই স্কলারশিপের আওতায় পড়বে না। কমনলি যেসব সাবজেক্ট পাবেন সেসব সাবজেক্টের মধ্যে পড়বে শিক্ষা, পাবলিক অ্যাডমিন, ট্রেনার training, মাস্টার টেকনিক্যাল বা ভোকেশনাল, প্রশাসন, গণমাধ্যম, উন্নয়ন, গবেষণা, ইনভায়রনমেন্ট, ইত্যাদির মতো বিষয়গুলো!
যারা এই স্কলারশিপ পাবেন, তারা শুধু পড়াশোনা না…পুরো শিক্ষাজীবন, থাকা-খাওয়া, চাকরির আগে বিভিন্ন স্কিলের উপর কোর্স সবকিছুই নিশ্চিত করে নিতে পারবেন। এক নজরে CFSP এর সুবিধাগুলো হলো:
১. আপনার পুরো টিউশন ফি কাভার হবে। সাথে পাবেন মাসিক ভাতা, যাতে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালানো যায়।
২. সেই সাথে থাকবে আপনার ফ্লাইট ভাতা এবং কানাডা যাওয়া-আসার খরচ।
৩. স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, রিসার্চ কস্ট, এবং অন্যান্য শিক্ষাজনিত কস্ট হিসাবেও পাবেন অর্থ।
৪. সবশেষে কানাডায় নতুন জীবন শুরু করতে পাবেন রিলোকেশন / সেটলমেন্ট ভাতা।
৫. তারা আপনাকে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে আবার পাক্কা মানুষ হিসাবেও তৈরি করে দেবে।
শুরুতে বলে রাখি CFSP-তে ব্যক্তিগত আবেদন হয় না। এক্ষেত্রে আপনাকে:
১. আপনি যে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কাজ করেন তাদের ইনস্টিটিউশনাল নোমিনেশন নেবেন। অর্থাৎ আপনার প্রতিষ্ঠানই প্রথম ধাপ।
২. নোমিনেশন পেলে, আপনি ডকুমেন্ট জমা দেবেন…আপনার শিক্ষাগত সার্টিফিকেট, কাজের প্রমাণ, French ভাষার প্রমাণ, লেটার, প্রোফাইল ইত্যাদি।
৩. বাংলাদেশের Local Advisory Committee মানে যেখানে মন্ত্রনালয় ও সংশ্লিষ্ট অফিস থাকবে সেখানে এরপর আপনার আবেদন রিভিউ করবে। এতে ফ্রান্স ভাষা, কাজের গুরুত্ব, আপনার প্রতিষ্ঠান, gender, region সবকিছু বিবেচনা করবে। একই টাইমে কানাডার দূতাবাস পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবে।
৪. সবশেষে যারা নির্বাচিত হবে তারা কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি আবেদন করবে। এবং পড়াশোনার অনুমোদন পেলে, SCSP স্কলারশিপ কার্যকর হবে।
যারা গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রশাসন, উন্নয়ন, টেকনিক্যাল ট্রেইনিং, পাবলিক সার্ভিস এসব ক্ষেত্রে কাজ করেন এবং চান কানাডা থেকে পড়াশোনা + দক্ষতা নিয়ে ফিরে দেশে কাজ করবেন তাদের জন্য এই স্কলারশিপ হতে পারে বেস্ট অপশন।