
রিসেন্টলি UK বিশ্ববিদ্যালয় Basic Compliance Assessment রুলসকে আরো কঠোর করার কারণে বাংলাদেশি/পাকিস্তানি আবেদনকারীদের
গত কয়েক মাসে অতিরিক্ত পরিমাণ স্কলারশিপ রিজেকশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আগে প্রতি বছর ভিসা রিফিউজ রেট ছিলো ৫%। পুরনো নিয়ম ছিল ১০%।
কিন্তু ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে আবেদন করলেই প্রায় ১৮% ভিসা রিফিউজ হয়েছে। আর বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে ২২%। অর্থাৎ, এই দুটি দেশই নতুন ন্যূনতম সীমা মানে ৫% অনেক বেশি।
এ কারণে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা নতুন আবেদনগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। আর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যেসব ইউনিভার্সিটি:
১. প্রথম কারণ হলো বাংলাদেশের ভিসা রিফিউজ রেট বেশি। এদিকে নতুন নিয়মে ৫%-এর বেশি হলে Sponsorship License ঝুঁকিতে পড়ে। তাছাড়া যেহেতু বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে গিয়ে পরে স্থায়ী থাকার আবেদন করছে সে কারণেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
২. দেশটির সরকার ও হোম অফিস দাবি করেছে, বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসাকে backdoor হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এই কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়-গুলো এখন high-risk দেশগুলোর আবেদন থেকে দূরে থাকতে শুরু করেছে।
৩. রইলো বাকি বিদেশি এজেন্ট বা রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমের গুণগত ব্যর্থতা। অনেক সময় রিক্রুটমেন্ট এজেন্টদের মাধ্যমে আবেদন হয়। কিন্তু এজেন্টদের যাচাই সবসময়ই দুর্বল। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভুল ডকুমেন্ট, তথ্য বা অনুপযুক্ত আবেদন জমা পড়েছে। আর পরে গিয়ে এগুলো ভিসা রিফিউজ বাড়িয়েছে।
৪. পাশাপাশি যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় BCA মানদণ্ড না মানে, সেক্ষেত্রে তাদের Sponsorship License বাতিল হতে পারে। যার ফলে তারা ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট আর ভর্তি করতে পারবে না। মোটকথা এই সময় ফি বন্ধ, আয় বন্ধ, প্রোগ্রাম বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও সুনামের বড় ক্ষতি হয়। তাই সচেতন বিশ্ববিদ্যালয়-গুলো এখন আগের মতো আর ঝুঁকি নিচ্ছে না।
বর্তমানে যারা ২৫-২৫ সেশনের জন্য UK-তে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছে তারা কিছুটা সমস্যায় আছে বলা যায়। অনেকের আবেদন রদ বা দেরি করা হয়েছে। আবার যারা acceptance letter পেয়েছিল, তারা এখন হয়তো ভিসা পাবে না। এদিকে Deposit দিয়ে যারা ফি দিয়েছিলো সেটা ফেরত পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সবশেষে বলবো UK-তে আবেদন করার আগে ভালো করে যাচাই করে নিবে। আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় কি এখনও বাংলাদেশ/পাকিস্তান থেকে আবেদন নিচ্ছে কিনা সেটা জেনে নেবেন। Admission বা Offer পেলেও সময় নিয়ে ভিসা আবেদন করবেন এবং সম্ভব হলে অন্য প্ল্যান রাখবেন। মানে Plan B রাখবেন।