
আপনি হয়তো ভাবছেন বিদেশে রেস্টুরেন্টে কাজ মানেই ডলার। আরবি রিয়াল বা ইউরোর কাড়াকাড়ি। না ভাই, সব জায়গায় টাকা গাছে ধরে না।
সত্যিটা হলো, বিদেশে রেস্টুরেন্ট জব হলো এমন একটা জব যা সবচেয়ে সহজে পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে টিকে থাকা কঠিন। তবুও হাজারো বাংলাদেশি প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে চাকরি করে জীবন চালাচ্ছে, পরিবার চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ অনেক ভালোই আছে।
বিদেশে রেস্টুরেন্ট জব বেশি থাকে মধ্যপ্রাচ্য মানে সৌদি, দুবাই, ওমান, কাতারের মতো দেশগুলিতে। আর বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় মার্কেট এখানেই। কারণ এসব দেশে প্রতিদিনই নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট খোলে। যার কারণে সেখানে কিচেন হেল্পার, ক্লিনার, ওয়েটার, বা শেফের কাজ পাওয়া যায় সহজে।
কিন্তু মনে রাখবেন এসব কাজে বেতন শুরু হয় ১২০০ থেকে ২০০০ রিয়াল দিয়ে। যদিও এই বেতনে খাবার ও থাকা ফ্রি। কিন্তু ওভারটাইম ছাড়া সেভিংসের আশা করা কঠিনই বলা চলে।
তবে ইউরোপ মানে ইতালি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস এই দেশগুলোতে হসপিটালিটি সেক্টর booming করছে। যদিও এখানে কাজ পেতে হলে আপনাকে লিগ্যাল ওয়ার্ক পারমিট বা স্টুডেন্ট ভিসার সাথে পার্ট-টাইম পারমিশনের ব্যবস্থাও করতে হবে ইউরোপে ঘণ্টাপ্রতি পে করা হয় সাধারণত ৬ থেকে ১০ ইউরোর মধ্যে। কিন্তু এসব দেশে খরচও আবার অনেক।
এবার আসি দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান মানে এশিয়ান রেস্টুরেন্টের ব্যাপারে। বিশেষ করে জাপানি ও কোরিয়ান খাবারের দোকানে অভিজ্ঞ কুক, ওয়েটার, বা ডিসওয়াশার হিসেবেও অনেক সুযোগ থাকে।
বিশেষ করে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেইনিং প্রোগ্রাম এর আওতায় রেস্টুরেন্টে কাজের সুযোগ আছে। তবে এসব কাজে যাওয়ার আগে ভাষা পরীক্ষায় JLPT উত্তীর্ণ হতে হবে।
আর্টিকেলের এই পয়েন্টটা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ! তাই মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন:
১. চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যদি বলা থাকে আগে টাকা দিন, তারপর ভিসা তাহলে মনে করবেন সেটা ফেইক। কারণ ৯৫% ক্ষেত্রেই এসব ভুয়া বা দালালের খেলা হিসাবে পরে বের হয়।
২. ভিসার টাইপ দেখে নিবেন। ওয়ার্ক ভিসা না হয়ে যদি ভিজিট বা বিজনেস ভিসা আপনাকে দেওয়া হয়, তাহলে ধরে নেবেন আপনি অবৈধভাবে কাজ করছেন। ধরা পড়লে ডিপোর্ট।
৩. কাজের সময়, ছুটি ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা লিখিতভাবে আছে কিনা দেখে নিবেন বা জেনে নিন। মনে রাখবেন মধ্যপ্রাচ্যে অনেক সময় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করানো হয়। অথচ চুক্তিতে লেখা থাকে ৮ ঘণ্টা।
৪. সবশেষে বলবো বেতন সম্পর্কে স্পষ্ট চুক্তি ছাড়া কোনো কাগজে সই করবেন না।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু ওয়েবসাইট হলো CatererGlobal.com, Indeed.com, HotelCareer.com কিংবা AllCruiseJobs.com। আর হ্যাঁ জব অ্যাপ্লাই করার আগে কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চাকরির বিজ্ঞপ্তি আছে কিনা যাচাই করে নেবেন।
বিদেশে রেস্টুরেন্ট জবের জন্য দরকার বেসিক ইংরেজি কমিউনিকেশন। এক্ষেত্রে আপনাকে অর্ডার বুঝে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দরকার হাসিখুশি মুখে সার্ভ করা শেখা। কারণ বিদেশে মুখের হাসিও প্রফেশনাল স্কিল! সাথে রইলো কিচেন হাইজিন ও টিমওয়ার্ক। শেফদের মুড খারাপ থাকলে কড়াই উড়েও যেতে পারে, তাই শান্ত মাথা দরকার। সবশেষে দরকার কাস্টমার সার্ভিস স্কিল। কারণ গিয়ে দেখবেন অনেক দেশে টিপস থেকে ইনকাম হয়…তাই হাসিমুখই আপনার বোনাস!
সোজা উত্তর হলো দেশভেদে আয় ব্যয় সমান নয়। তাছাড়া সেভিংস নির্ভর করে আপনার লাইফস্টাইলের ওপর। তবে দুবাইয়ে ১২০০–২০০০ AED + থাকা + খাওয়া, সৌদি আরবে ১০০০–১৮০০ SAR এবং ইউরোপে ৮–১২ ইউরো/ঘণ্টা, জাপানে ৯০০–১২০০ ইয়েন/ঘণ্টা ইনকামের সুযোগ থাকে। তবে একজন নতুন ওয়েটার বা কিচেন হেল্পার মাসে গড়ে ২৫/৫০ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় সেভ করতে পারে। কিন্তু সেটার পেছনে থাকে ঘাম, কষ্ট, আর ধৈর্য।
অনেকে ভাবে, বিদেশ মানেই লাক্সারি লাইফ। কিন্তু আসল সত্য হলো রেস্টুরেন্টে কাজ মানে ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, গরমে রান্না করা, হাসিমুখে সার্ভ দেওয়া, আর শেষে পায়ে ব্যথা নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া। মোটকথা এটা একদম বাস্তব জীবনের যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে পরিশ্রমী লোক টিকে থাকে, অলসরা হারিয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন! যদি শেখার মানসিকতা থাকে, রেস্টুরেন্ট জব থেকেই আপনি একদিন শেফ, সুপারভাইজার বা নিজের ছোট ফুড বিজনেসের মালিকও হতে পারবেন।