অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা: বেতন মাসে ৩ থেকে ৭ লাখ টাকা 

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা: বেতন মাসে ৩ থেকে ৭ লাখ টাকা.jpg

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা: বেতন মাসে ৩ থেকে ৭ লাখ টাকা 

 

ধরেন আপনি কাজ জানেন, আপনাকে কাউকে স্পনসর করতে হবে না সেক্ষেত্রে আপনি Skilled Independent Visa এর জন্য আবেদন করতে হবে না। বলছিলাম অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার কথা। একদম স্বাধীনভাবে আবেদন করার সুযোগ থাকবে এই ধরণের ভিসাতে। যাইহোক! অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার ধরণ, খরচ, কি কি লাগে আবেদন করতে সবকিছু জানতে সাথেই থাকুন৷

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার ধরণ 

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার জনপ্রিয় কিছু ধরণ হলো:

  • Skilled Independent Visa: এই Skilled Independent Visa শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা কাজ জানেন, এবং কাউকে স্পনসর করতে হবে না। স্বাধীনভাবে আবেদন করার সুযোগ চাইলে এই ধরণের ভিসাকে কাজে লাগানো যেতে পারে৷
  • Skilled Nominated Visa: Skilled Nominated Visa হলো তাদের জন্য যারা কোনো কোম্পানি থেকে স্পন্সর হয়ে ভিসা নিতে চান৷ বা কাজ করতে চান। তাছাড়া যারা পরবর্তী পার্মানেন্টলি অস্ট্রেলিয়াতে মুভ করতে চান তাদের জন্য এই ধরণের ভিসা বেশ উপযোগী।
  • Skills in Demand Visa: এরপর আসি Skills in Demand Visa এর ব্যাপারে। যেটি কিনা চালু হয়েছিলো ২০২৪ সালে। এই ধরণের কাজের ভিসায় আপনি জবের ৩টি ক্যাটাগরি পাবেন। এগুলি হচ্ছে Specialist Skills, Core Skills এবং Essential Skills।
  • Working Holiday Visa: আর সবশেষে রইলো অস্ট্রেলিয়ার Working Holiday Visa। অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার যতগুলি টাইপ আছে সবগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। যাদের বয়স কম, ১৮ হয়নি এখনো তারা এই ধরণের ভিসার আন্ডারে অস্ট্রেলিয়াতে যেতে পারে। বলে রাখা ভালো এই ধরণের ভিসায় কিন্তু কাজ করতে করতে ঘোরাঘুরিও করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার যোগ্যতা

অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো ভিসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা লাগে। যেমন:

১. আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
২. আবেদনকারীর ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে IELTS বা PTE স্কোর জমা দিতে হবে।
৩. এছাড়াও আবেদন করার আগে আপনাকে স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট পাস করতে হবে। যা মূলত আপনার জব ক্যাটাগরির উপর ডিপেন্ড করে নির্ধারিত কোনো সংস্থা পরীক্ষার আয়োজন করে দেবে।
৪. এরপর আপনাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মেডিকেল টেস্ট দিতে হবে। যারা পয়েন্ট-বেইজড ভিসার জন্য আবেদন করবেন তাদের কমপক্ষে ৬৫ পয়েন্ট পেতে হবে। আর পয়েন্টের হিসাব হবে আপনার বয়স, শিক্ষা এবং কাজের অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদনের নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার টাইপ সম্পর্কে জেনে যদি দেখেন আপনার আবেদন করার যোগ্যতা আছে তবে আর সময় নষ্ট করবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদনের নিয়ম মেনে আজই আবেদন করে ফেলুন। এক্ষেত্রে:

  • প্রথমে আপনাকে আপনার জব ক্যাটাগরি কোন ভিসার জন্য উপযুক্ত তা ঠিক করতে হবে। 
  • এরপর আপনার জবের ধরণ অনুযায়ী স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। 
  • তার পরে আপনাকে IELTS বা সমতুল্য ইংরেজি পরীক্ষায় ভালো স্কোর তুলতে হবে। 
  • মনে যদি রাখবেন যদি আপনি পয়েন্টভিত্তিক ভিসার জন্য যান, তবে আপনাকে Expression of Interest বা EOI সাবমিট করতে হবে।
  • আবেদন করার আগে মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নিতে হবে। আর সব ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা দিন। 
  • এরপর শুধু অপেক্ষা। আর তারপর পাসপোর্টে সেই কাঙ্ক্ষিত ভিসা স্ট্যাম্প!

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদনের খরচ

যারা অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদন করবেন তারা মনে রাখবেন কাজটা কিছুটা ব্যয়বহুল। যদিও যেই টাকাটা খরচ হবে সেটা আপনি কয়েক মাসের মধ্যেই তুলে নিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে খরচ হিসাবে ফ্লাইট টিকিটের জন্য লাগতে পারে প্রায় ১.২ থেকে ১.৬ লাখ টাকা। IELTS পরীক্ষায় খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর স্কিলস অ্যাসেসমেন্টে ৪০ থেকে ৬০ হাজারের মতো।

তবে হ্যাঁ ভিসা ফি নির্ভর করে কোন ভিসার জন্য আবেদন করছেন তার উপর। আর এই কস্টটা সাধারণত ৩.৫ লাখ থেকে ৪.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়াও মেডিকেল টেস্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে আরও ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে মাইগ্রেশন এজেন্টের সাহায্যও নিতে পারেন। তবে এতে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হতে পারে।

মোটামুটি সব মিলিয়ে খরচ পড়তে পারে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকার মতো।

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের বেতন কেমন?

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের বেতন মূলত নির্ভর করবে আপনি কোন ধরণের জব করছেন তার উপর। যেমন ধরুন সেখানে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বছরে প্রায় ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করতে পারে। যা মাসে প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো দাঁড়ায়।

আবার এই একই দেশে নার্সদের বেতন বছরে ৭৫ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ টাকা মাসিক। শুধু তাই নয়! দেশটিতে একজন কার্পেন্টার বা ইলেকট্রিশিয়ানের বেতন প্রায় ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। আর হসপিটালিটি বা রেস্টুরেন্টে কাজ করলে বছরে ৫০ হাজার ডলার পাওয়া যায়। যা বাংলা টাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো হবে।

সবশেষে কেউ যদি অস্ট্রেলিয়াতে কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করে সেক্ষেত্রেও মাসে ৪৮ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। যা বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক ম্যানেজারদের চেয়েও বেশি!

মনে রাখবেন অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসায় এপ্রুভাল পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট করতে, যেকোনো স্কিলে মাস্টার হতে হবে। তাছাড়া এই দেশের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ইংরেজি স্কোর বেশি হলে পয়েন্টও বাড়ে।

তাই ইংরেজিটাতে ফোকাস করার অভ্যাস করতে হবে। তাছাড়া আপনার বয়স যদি ১৮-৩০ এর মধ্যে হয় তাহলে আগে Working Holiday ভিসায় গিয়ে দেশের বা কাজের পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারেন। এরপর না হয় পার্মানেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ