ধরেন আপনি কাজ জানেন, আপনাকে কাউকে স্পনসর করতে হবে না সেক্ষেত্রে আপনি Skilled Independent Visa এর জন্য আবেদন করতে হবে না। বলছিলাম অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার কথা। একদম স্বাধীনভাবে আবেদন করার সুযোগ থাকবে এই ধরণের ভিসাতে। যাইহোক! অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার ধরণ, খরচ, কি কি লাগে আবেদন করতে সবকিছু জানতে সাথেই থাকুন৷
অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার জনপ্রিয় কিছু ধরণ হলো:
অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো ভিসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা লাগে। যেমন:
১. আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
২. আবেদনকারীর ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে IELTS বা PTE স্কোর জমা দিতে হবে।
৩. এছাড়াও আবেদন করার আগে আপনাকে স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট পাস করতে হবে। যা মূলত আপনার জব ক্যাটাগরির উপর ডিপেন্ড করে নির্ধারিত কোনো সংস্থা পরীক্ষার আয়োজন করে দেবে।
৪. এরপর আপনাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মেডিকেল টেস্ট দিতে হবে। যারা পয়েন্ট-বেইজড ভিসার জন্য আবেদন করবেন তাদের কমপক্ষে ৬৫ পয়েন্ট পেতে হবে। আর পয়েন্টের হিসাব হবে আপনার বয়স, শিক্ষা এবং কাজের অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসার টাইপ সম্পর্কে জেনে যদি দেখেন আপনার আবেদন করার যোগ্যতা আছে তবে আর সময় নষ্ট করবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদনের নিয়ম মেনে আজই আবেদন করে ফেলুন। এক্ষেত্রে:
যারা অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসা আবেদন করবেন তারা মনে রাখবেন কাজটা কিছুটা ব্যয়বহুল। যদিও যেই টাকাটা খরচ হবে সেটা আপনি কয়েক মাসের মধ্যেই তুলে নিতে পারবেন।
এক্ষেত্রে খরচ হিসাবে ফ্লাইট টিকিটের জন্য লাগতে পারে প্রায় ১.২ থেকে ১.৬ লাখ টাকা। IELTS পরীক্ষায় খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর স্কিলস অ্যাসেসমেন্টে ৪০ থেকে ৬০ হাজারের মতো।
তবে হ্যাঁ ভিসা ফি নির্ভর করে কোন ভিসার জন্য আবেদন করছেন তার উপর। আর এই কস্টটা সাধারণত ৩.৫ লাখ থেকে ৪.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়াও মেডিকেল টেস্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে আরও ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে মাইগ্রেশন এজেন্টের সাহায্যও নিতে পারেন। তবে এতে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হতে পারে।
মোটামুটি সব মিলিয়ে খরচ পড়তে পারে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকার মতো।
অস্ট্রেলিয়ায় কাজের বেতন মূলত নির্ভর করবে আপনি কোন ধরণের জব করছেন তার উপর। যেমন ধরুন সেখানে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বছরে প্রায় ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করতে পারে। যা মাসে প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো দাঁড়ায়।
আবার এই একই দেশে নার্সদের বেতন বছরে ৭৫ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ টাকা মাসিক। শুধু তাই নয়! দেশটিতে একজন কার্পেন্টার বা ইলেকট্রিশিয়ানের বেতন প্রায় ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। আর হসপিটালিটি বা রেস্টুরেন্টে কাজ করলে বছরে ৫০ হাজার ডলার পাওয়া যায়। যা বাংলা টাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো হবে।
সবশেষে কেউ যদি অস্ট্রেলিয়াতে কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করে সেক্ষেত্রেও মাসে ৪৮ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। যা বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক ম্যানেজারদের চেয়েও বেশি!
মনে রাখবেন অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসায় এপ্রুভাল পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে স্কিলস অ্যাসেসমেন্ট করতে, যেকোনো স্কিলে মাস্টার হতে হবে। তাছাড়া এই দেশের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ইংরেজি স্কোর বেশি হলে পয়েন্টও বাড়ে।
তাই ইংরেজিটাতে ফোকাস করার অভ্যাস করতে হবে। তাছাড়া আপনার বয়স যদি ১৮-৩০ এর মধ্যে হয় তাহলে আগে Working Holiday ভিসায় গিয়ে দেশের বা কাজের পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারেন। এরপর না হয় পার্মানেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন।