
অনেকেই মনে করেন বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা সামিটে অংশ নিতে হলে ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা থাকতে হবে। কেউ আবার ভাবে এসব সুযোগ শুধু বড়লোকদের জন্য! কিন্তু একটু চেষ্টা করলে আপনিও পারবেন নিজেকে প্রমাণ করতে। বর্তমানে পৃথিবীতে এমন অনেক আন্তর্জাতিক যুব সামিট রয়েছে যেখানে আপনার টাকার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় আপনার চিন্তা, নেতৃত্বগুণ আর সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতাকে।
আর ঠিক এমনই একটি সুযোগ হলো ফিউচারমাইন্ডস সামিট থাইল্যান্ড ২০২৬। এই সামিটে নির্বাচিত হলে বিমান ভাড়া, থাকা, খাওয়া এমনকি ভিসার খরচ পর্যন্ত বহন করা হতে পারে! মানে ব্যাপারটা এমন আপনি হয়তো এখনো এলাকার চায়ের দোকানে বসে একদিন বিদেশ যাব বলে আড্ডা দিচ্ছেন…আর কয়েক মাস পর সত্যিই থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন!
এটি একটি আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলন! যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা একত্রিত হয়ে শিক্ষা, উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন, নেতৃত্ব এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা। আর এই সম্মেলনের ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো:
কারণ এই সামিটে শুধু সনদপত্র না, বরং আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে চাকরি, বৃত্তি কিংবা আন্তর্জাতিক সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতি ও যোগাযোগ বিশাল ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন কর্মজীবনভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রফেশনাল সুযোগ আসে পরিচিতি ও যোগাযোগের মাধ্যমে। ভাবুন তো এক জায়গায় ৩০টিরও বেশি দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক আর স্বপ্নবাজ মানুষ! মানে এখানে গিয়ে যদি ভালোভাবে যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে বৃত্তি, চাকরি, যৌথ উদ্যোগ এমনকি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বও তৈরি হতে পারে।
এই অংশটাই সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং! কারণ এটা পড়ার পর আবেদন না করে থাকাটা কঠিন হয়ে যাবে। থাইল্যান্ড ফিউচারমাইন্ডস সামিটে থাকবে যেসব সুবিধা:
১. বিমান ভাড়া সহায়তা! বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় খরচ সাধারণত বিমান ভাড়া। কিন্তু এই সামিটের ক্ষেত্রে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য সেই খরচও বহন করা হতে পারে।
২. বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা! থাইল্যান্ডে ভালো মানের হোটেলে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সেটাও সামিট কর্তৃপক্ষ বহন করতে পারে।
৩. খাবারের ব্যবস্থা! খাবার ও নাস্তার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মানে নিজের পকেট থেকে এক টাকাও খরচ করতে হবে না।
৪. অনেক সময় ভিসার খরচও বহন করা হয়।
৫. আন্তর্জাতিক মঞ্চে কথা বলার সুযোগ! কিছু অংশগ্রহণকারীকে এই সামিটে নিজেদের ধারণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। ভাবুন তো সবার সামনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন আপনি!
৬. আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট! যা ভবিষ্যতে চাকরি, বৃত্তি ও পেশাগত জীবনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মূলত উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে এই সামিটে। আর এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে:
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এখানে আবেদন করার জন্য ইংরেজি পরীক্ষার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয় বা টোফেল বাধ্যতামূলক নয়। আর এখানে আবেদন করতে পারবে:
অনেকে ভাবে আমার তো বড় কোনো পুরস্কার নাই, আমাকে নেবে কেন? কিন্তু বাস্তবে তারা সাধারণত যেসব বিষয় দেখে:
১. অন্যের লেখা নকল করবেন না। কারণ ইন্টারনেট থেকে কপি করলে সহজেই ধরা পড়ে যেতে পারে।
২. আমি থাইল্যান্ড ঘুরতে যেতে চাই” টাইপ লেখা লিখবেন না! মনে রাখবেন তারা পর্যটক খুঁজছে না। তারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছে।
৩. মিথ্যা তথ্য দেবেন না। এমনটা করলে ভবিষ্যতে সাক্ষাৎকারে ধরা খেয়ে যেতে পারেন।
আবেদনে নিজের বাস্তব গল্প বলুন। যদি কখনো সমাজসেবা করে থাকেন, ছোট কোনো উদ্যোগ শুরু করেন, মানুষকে সাহায্য করেন, অনলাইনে সচেতনতা তৈরি করেন তবে এসব অবশ্যই লিখুন।
আবেদনে সংখ্যাগত তথ্য ব্যবহার করুন যেমন আমি ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছি অথবা ১০ হাজার মানুষের কাছে সচেতনতা পৌঁছেছে! এগুলো আবেদনকে স্ট্রং করবে।
কারণ আমাদের দেশে প্রচুর মেধাবী তরুণ রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সুযোগের অভাব রয়েছে। এই ধরনের সামিট একজন তরুণকে দিতে পারে আন্তর্জাতিক পরিচিতি, আত্মবিশ্বাস, স্ট্রং জীবনবৃত্তান্ত, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা।
মোটকথা যারা সত্যিই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চান তাদের উচিত ফিউচারমাইন্ডস সামিট থাইল্যান্ড ২০২৬ এ অংশ নেওয়া। এই সামিট আপনার জীবনের বড় একটা সুযোগ হতে পারে। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে শুধু নম্বর দিয়ে সবকিছু বিচার করা হয় না। নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, চিন্তাশক্তি এবং সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর কে জানে আজকে হয়তো আপনি নিজের ঘরে বসে এই লেখা পড়ছেন… কয়েক মাস পর হয়তো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন!