বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পড়াশোনা করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন পার্ট টাইম জব খুঁজতে থাকেন। এক্ষেত্রে জার্মানিতে পার্ট টাইম জব হিসাবে অটোমোটিভে জব করার সুযোগ নিতে পারেন। আসুন এক নজরে জার্মানিতে পার্ট টাইম জব হিসাবে অটোমোটিভ সেক্টরে জব করার সুবিধা সম্পর্কে জানি।
আপনি যদি জার্মানির অটোমোটিভ সেক্টরে কোনো কোম্পানির হয়ে জব পান সেক্ষেত্রে যে কোম্পানিতে জব করবেন, সে কোম্পানির সব লেটেস্ট মডেলের পার্সোনাল কার আপনার ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে।
যাদের কারের প্রতি অনেক নেশা কাজ করে তারা জার্মানির অটোমোটিভ সেক্টরে কাজ করে এই সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
আপনি যদি জার্মানিতে কোনো কার শখের বসে বা প্রয়োজনে ড্রাইভ করতে চান তাহলে আপনাকে জেনারেলি যে কার ড্রাইভ করতে চান তার জন্য খরচ করতে হবে ৫০ হাজার ইউরো।
কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে একই ক্যাটাগরির কার একজন কোম্পানির কর্মচারী হিসাবে আপনি নামমাত্র খরচে কোম্পানির আন্ডারে পার্সোনালি ব্যবহার করতে পারবেন।
জার্মানিতে পার্ট টাইম জব হিসাবে অটোমোটিভে জব করার সুবিধার মধ্যে থাকছে ঝামেলা ছাড়াই নতুন গাড়ি ট্রাই করার সুযোগ। ৬ মাস পর পুরোনো ব্যবহার করার কার ভালো না লাগলে সহজেই চেইঞ্জ করে নিতে পারবেন। যা আপনাকে মিলিয়নিয়ার ভাইব দেবে।
এক্ষেত্রে আপনাকে জাস্ট কোম্পানির পোর্টালে ঢুকতে হবে। নতুন কারের রিকোয়েস্ট দিয়ে আবেদন করতে হবে। ব্যাস! এভাবেই অন্য সবার মতো আপনিও নতুন কার নিয়ে নিতে পারেন সহজেই।
লেটেস্ট কারগুলো সহজে ড্রাইভ করার সুযোগ পেতে এই সিস্টেমের জুড়ি মেলা ভার। তবে পুরোনো কার রেখে এক্ষেত্রে নতুন কার পেতে আপনাকে অন্তত ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
জার্মানিতে পার্ট টাইম জব অটোমোটিভে জব করতে চাইলে আপনি ঘরে বসেই হোম অফিস সিস্টেমে কাজ করতে পারবেন। ঘরের খাবার খেয়ে যেকোনো ট্রাফিকের প্যারা বাদে সহজেই নিজের সময়মতো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে জার্মানির বিভিন্ন অটোমোটিভ কোম্পানিগুলি।
সাধারণত জার্মানিতে বরফের দিনে ঠাণ্ডায় কাজ করাটা অনেক কষ্টের। আপনি চাইলে হোম অফিস সিস্টেমে কাজ করে এই কষ্ট ইগনোর করতে পারেন।
যারা জার্মানিতে অনেকদিন ধরে বিভিন্ন জব খুঁজে আসছেন তারা অনেকেই জানেন জার্মানিতে জব করতে হলে অবশ্যই জার্মানির ভাষা জানতে হয়। তবে সবচেয়ে বড় সুখবর হলো জার্মানির অটোমোটিভ সেক্টরে কাজ করতে চাইলে আপনাকে ভালো ইংরেজি জানতে হবে।
এক্ষেত্রে জার্মান ভাষাটা না জানলেও চলবে। আপনি জেনে খুশি হবেন জার্মানির অটোমোটিভ সেক্টরের কোম্পানিতে হাজার হাজার জব আছে ইংরেজিতে। ইংরেজিতে এসব কোম্পানিতে জবের পরিমাণ এতো বেশি যে এক-দেড় মাস সময় লাগিয়ে আবেদন করলেও সব জবে আপনার আবেদন করা শেষ হবে।
সুতরাং জার্মান ভাষা না জানলেও কেবল ভালো ইংরেজি জানা থাকলে এসব অটোমোটিভ কোম্পানিতে ভালো জব পাওয়া যাবে।
আপনি কি ইন্টার্নেশনাল কালচার উপভোগ করতে চান? যদি চান সেক্ষেত্রে জার্মানিতে পার্ট টাইম জব হিসাবে নিয়ে নিতে পারেন অটোমেটিভ জব। কারণ এসব কোম্পানিতে সাধারণত একটি টিমে বিভিন্ন দেশের মানুষের কাজ করার সুযোগ থাকে।
ফলে একই টিমে থাকা একে-অপরের কালচার, খাবার-দাবার, এবং ভাষা সম্পর্কে জানাটাও সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া আপনাকে কিছুর জন্যে বিশেষ করে নিজের দেশের কালচার কিংবা নিজের রুচির জন্য খুব একটা জাজ করা হবে না।
সবমিলিয়ে কাজের পরিবেশ পাবেন বেশ ভালো। কাজ করে আলাদা শান্তি পাওয়া যায় এসব কোম্পানিতে।
জার্মানিতে পার্ট টাইম জব হিসাবে অটোমোটিভ কোম্পানিতে কাজ করার পাশাপাশি কোম্পানির আন্ডারে আপনি ফ্রিতে স্কিল ডেভলপ করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে ভাষাগত স্কিলের কথা একেবারে না বললেই নয়।
জার্মান ভাষা ফ্রীতে শেখার সুযোগ দিচ্ছে জার্মানের এসব জনপ্রিয় অটোমোটিভ কোম্পানিগুলি। যারা মাসে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে জার্মান ভাষা শিখতে রাজি না তারা টাকা কামাতে কামাতেই ফ্রিতে জার্মান ভাষা শিখে নিজের স্কিল ডেভলপ করে নিতে পারেন।
অনলাইন বা অফলাইন আপনার যেভাবে সুবিধা আপনি সেভাবেই কোম্পানির আন্ডারে থেকে এই ভাষা শিখে নিতে পারবেন। থাকবে কোর্স এবং পরীক্ষা সুবিধা। যার সব খরচ বহন করবে আপনার কোম্পানি। আর দ্রুত কিংবা আস্তে, কম বা বেশি নিজের সুবিধামতো সময় নিয়েই শিখতে পারেন এই ভাষা।
জার্মানের এসব অটোমোটিভ কোম্পানিগুলিতে প্রচুর পরিমাণে শেখার সুযোগ থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসব কোম্পানিতে জব করে নিজের বিভিন্ন স্কিল সহজেই ডেভেলপের সুযোগ থাকে।
অর্থ্যাৎ আপনি জার্মানির কোনো একটি অটোমোটিভ কোম্পানিতে কাজ করছেন মানেই আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথ খুব ভালো হওয়ার চান্স আছে। কারণ এসব কোম্পানি আপনার জন্য বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স এবং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করবে।
একজন কর্মী হিসাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে দেবে প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার লার্নিং বাজেট। এই বাজেটে আপনি কি শিখবেন সেটা আপনার উপর ডিপেন্ড করবে। কোম্পানি কোনো স্পেসিফিক স্কিল আপনার কাঁধে চড়িয়ে দেবে। তবে সব কথার শেষ কথা হলো আপনাকে স্কিল ডেভলপ করতেই হবে।
কেমন হয় যদি আপনি বিদেশে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জবের সুযোগ পান? সেই জবে যদি আবার ফ্রিতে বিভিন্ন ট্যুরের সুযোগ থাকে তাহলে কি আপনি সেই সুযোগ মিস করতে চাইবেন? অবশ্যই না!
কারণ বর্তমানে জার্মানের প্রায় প্রতিটি অটোমোটিভ কোম্পানিই কর্মীদের ফ্রিতে বিভিন্ন ট্যুরের ব্যবস্থা করে দেয়। মোটকথা কোম্পানির টাকায় ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে লার্নিং বাজেট থেকে আপনাকে খরচ করতে হবে। এসব কোম্পানি বিশ্বাস করে আপনাকে যত বেশি পরিমাণ ট্যুরের ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে আপনি তত বেশি পরিমাণ নতুন জিনিসপত্র আয়ত্ত করতে পারবেন বা শিখতে পারবেন।
প্রতিটা কোম্পানিতে সবাইকে প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার লার্নিং বাজেট দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে আপনি যা ইচ্ছা শিখতে পারেন এবং সার্টিফিকেশন নিতে পারেন।
তাছাড়া আপনি যদি পছন্দের কোনো দেশে গিয়ে পছন্দের স্কিলটি ডেভলপ করতে চান সেক্ষেত্রে সেই দেশে যাওয়া, থাকা, কোর্স করা, এবং আনুষঙ্গিক সব খরচ দেবে কোম্পানি।
বিষয়টা মজার না? বলে রাখা ভালো এক্ষেত্রে দেশ হিসাবে আপনি বাছাই করে নিতে পারেন ইউরোপ, সুইজারল্যান্ড, বা ইউকের মতো যেকোনো উন্নত দেশ।
জিম, Yoga – বা এমন স্বাস্থ্য বিষয়ক খাতেও আপনার কোম্পানি ইনভেস্ট করতে রাজি আছে। এসব বিষয় কভাব করতে জার্মান অটোমোটিভ কোম্পানিগুলি আপনাকে প্রতি মাসেই আলাদা কিছু টাকা দেবে।
যা আপনি ইচ্ছেমতো নিজের স্বাস্থ্য খাতে খরচ করতে পারবেন। তাছাড়া এসব কোম্পানিতে অনেকদিন জব টিকিয়ে রাখা যায়। অর্থ্যাৎ এসব কোম্পানির জব সিকিউরিটি সিস্টেম অনেক কড়া।
আপনি যদি জার্মানির ভিসা নিয়ে জার্মানে নাও যেতে পারেন সেক্ষেত্রেও জার্মানের অটোমোটিভ কোম্পানিগুলি জব করতে পারবেন। জার্মানির বাইরে থেকেও জব করার সুযোগ দিচ্ছে এসব কোম্পানি। এক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে কর্মীদের বিভিন্ন পার্সোনাল কারণে বছরে অন্তত ৩০ দিন জার্মানির বাইরে থেকে জব করার সুযোগ থাকে।
দশম হচ্ছে, জার্মানির বাইরে থেকেও জব করার সুযোগ। জার্মানির নিয়ম হচ্ছে, জার্মানিতে রিমোট জব করতে হলেও জার্মানিতে অবস্থান করতে হয়। তবে বেশিরভাগ কোম্পানিতে বছরে অন্তত ৩০ দিন জার্মানির বাইরে থেকেও জব করার পার্মিশন দেয়।
বলে রাখা ভালো জার্মানির শুধু অটোমোটিভ সেক্টর নয়! বরং জার্মানির অন্যান্য ইন্ড্রাস্ট্রিতেই জব করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। যা চাইলে আপনিও উপভোগ করতে পারেন।