
কুরবানী শুধু পশু জবাইয়ের নাম না, এটা ত্যাগ, ভালোবাসা, আনুগত্য আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অসাধারণ ইবাদত! প্রতি বছর ঈদুল আজহা আসলেই মুসলিমদের ঘরে ঘরে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়। গরু কেনা, প্রস্তুতি নেওয়া, পরিবার এক হওয়া সব মিলিয়ে এক বিশেষ আনন্দ কাজ করে। কিন্তু অনেক সময় আমরা কুরবানীর ব্যস্ততায় এর আসল উদ্দেশ্য এবং ফজিলত ভুলে যাই। অনেকে মনে করেন কুরবানী মানেই শুধু মাংস ভাগ করা। আসলে কুরবানীর গুরুত্ব অনেক গভীর।
এটা এমন একটি ইবাদত যেখানে একজন মানুষ নিজের প্রিয় জিনিস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করার শিক্ষা পায়। আজ আমরা সহজ ভাষায় জানবো কুরবানীর ফজিলত কী, কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ, কুরবানী মানুষের জীবনে কী শিক্ষা দেয় এবং ইসলামে কুরবানীর মর্যাদা কত বড়!
ইসলামে কুরবানী খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। হাদিসে এসেছে কুরবানীর দিন আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কাজ খুব কম আছে। এর অর্থ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। মানুষ যখন নিজের অর্থ খরচ করে পশু কুরবানী করে, তখন সে আসলে আল্লাহর প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করে।
কুরবানীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ত্যাগ। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসও ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলেন। এই ঘটনাই কুরবানীর মূল ভিত্তি। বর্তমানে মানুষ অনেক কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে যায়। যেমন:
কুরবানী মানুষকে মনে করিয়ে দেয় আল্লাহর সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়।
আসল মুমিন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর আদেশকে নিজের ইচ্ছার উপরে রাখেন। কুরবানী সেই পরীক্ষার একটি অংশ। যখন একজন মুসলিম কুরবানী করে, তখন সে আসলে বলে “হে আল্লাহ, আপনার আদেশই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
কুরবানীর অন্যতম সুন্দর দিক হলো ভাগাভাগি। অনেক গরিব পরিবার আছে যারা সারা বছরে হয়তো খুব কম মাংস খেতে পারে। কিন্তু কুরবানীর সময় তারা মাংস পায়, আনন্দ পায়, ঈদের অনুভূতি পায়। তাই কুরবানী শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত না! এটা সামাজিক সৌন্দর্যেরও একটি অংশ।
হাদিসে এসেছে কুরবানীর পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও সওয়াব রয়েছে। আর এটাই প্রমাণ করে আল্লাহ এই ইবাদতকে কত বেশি ভালোবাসেন। মানুষ হয়তো ভাবে এত টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর পথে খরচ কখনও বৃথা যায় না।
কুরবানী শব্দের অর্থই হলো নৈকট্য অর্জন করা। অর্থাৎ এই ইবাদতের মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর আরও কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করে। তাই কুরবানী শুধু বাহ্যিক কাজ না, এটা অন্তরের ইবাদতও। এখানে শুধু মাংস না, নিয়তটাই আসল! অনেক মানুষ এখন কুরবানীকে শুধু সামাজিক প্রতিযোগিতা বানিয়ে ফেলেছে। কে বড় গরু আনলো, বেশি দাম দিলো, বেশি ছবি তুললো এসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়ত। আল্লাহ মানুষের গরুর আকার দেখেন না! বরং মানুষের আন্তরিকতা দেখেন।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় আল্লাহকে ভুলে যায়। কুরবানী মানুষকে আবার মনে করিয়ে দেয় এই জীবন শুধু দুনিয়ার জন্য না। মানুষের সম্পদ, ক্ষমতা, টাকা সবই সাময়িক। তাছাড়া এসময় পরিবার ও সম্পর্কের মধ্যেও সৌন্দর্য তৈরি হয় এবং অহংকার কমাতে সাহায্য করে!