
কুরবানির ঈদ আসলেই পরিবারের সবচেয়ে বেশি শোনা কথাগুলোর একটা হলো…এই বছর কয় ভাগে গরু হবে?
বাংলাদেশে ভাগে কুরবানি খুবই পরিচিত একটি বিষয়। বিশেষ করে শহর এলাকায় একা পুরো গরু কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই কয়েকজন মিলে একসাথে গরু কিনে কুরবানি দেওয়া এখন খুব সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেক মানুষ ভাগে কুরবানি দিলেও এর সঠিক নিয়ম জানেন না। অনেকে মনে করেন টাকা দিলেই তো হয়ে গেল। আসলে বিষয়টা এত সহজ না। কারণ কুরবানি শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান না! বরং এটা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি।
তাই ভাগে কুরবানি দেওয়ার আগে কারা অংশ নিতে পারবে, কয়জন পর্যন্ত ভাগ দেওয়া যায়, কোন পশুতে ভাগ হয়, মাংস কীভাবে ভাগ করতে হবে, কী কী ভুল করলে সমস্যা হতে পারে এসব বিষয় জানা প্রয়োজন। চলুন এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানি!
ভাগে কুরবানি বলতে বোঝায় একটি বড় পশুতে একাধিক মানুষ অংশ নিয়ে কুরবানি করা। ইসলামে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যেন মানুষ সহজভাবে কুরবানি করতে পারে। কারণ সবাই একা পুরো গরু কেনার সামর্থ্য রাখেন না। তাই কয়েকজন মিলে অংশ নিয়ে কুরবানি করা বৈধ করা হয়েছে। এটা ইসলামের সৌন্দর্যের একটি দিক। কারণ ইসলাম মানুষের সামর্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়।
অনেক মানুষ এই জায়গায় ভুল করেন। ইসলামে যেসব পশুতে ভাগে কুরবানি দেওয়া জায়েজ আছে সেসব পশু হলো:
কিন্তু ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এসব পশুতে ভাগ দেওয়া যায় না। মানে একটি ছাগল একজনের পক্ষ থেকেই কুরবানি করতে হবে।
ভাগে কুরবানি দেওয়ার সময় একটি গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত অংশ নিতে পারবেন। আবার এর কমও হতে পারে। যেমন দুইজন, তিনজন বা পাঁচজন এভাবেও কুরবানি করা যায়। কিন্তু সাতজনের বেশি হলে কুরবানি সহিহ হবে না।
হ্যাঁ! কুরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নিয়ত। যারা ভাগে অংশ নেবেন, সবার উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি কেউ শুধু মাংস পাওয়ার জন্য, লোক দেখানোর জন্য বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে অংশ নেয়, তাহলে সমস্যা হতে পারে। কারণ কুরবানি শুধুই মাংসের বিষয় না। এটা আল্লাহর জন্য ত্যাগের প্রতীক।
কুরবানি একটি ইবাদত। তাই এতে ব্যবহৃত অর্থও হালাল হওয়া উচিত। যদি হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে কুরবানি করা হয়, তাহলে ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই ভাগে কুরবানি দেওয়ার সময়ও প্রতারণা, সুদ, অন্যায় উপার্জন এসব থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ভাগে কুরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব বিষয়গুলোর একটি হলো মাংস সমানভাবে ভাগ করা। অনেক সময় দেখা যায় কারও ভাগে বেশি মাংস, কারও ভাগে বেশি হাড় এগুলো নিয়ে পরে মনোমালিন্য তৈরি হয়। তাই ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী ওজন করে ভাগ করা উত্তম। আন্দাজে ভাগ করা ঠিক না।
যাইহোক! সবশেষে বলতে চাই পরিবারের সবাইকে ভাগে কুরবানি দেওয়ার বা অংশ নেওয়ার প্রসেস শেখানো উচিত। কুরবানি শুধু বড়দের কাজ না। ছোটদেরও শেখানো উচিত কুরবানির উদ্দেশ্য
ত্যাগের শিক্ষা, গরিবদের সাহায্য করা! কারণ ঈদের আসল সৌন্দর্য শুধু খাওয়া না, ভাগাভাগি করাতেও থাকে। তাছাড়া মনে রাখা জরুরি ভাগে কুরবানি মানে দায়িত্বও ভাগ করা! শুধু টাকা দিলেই দায়িত্ব শেষ না। অংশীদারদের উচিত নিয়ম জানা, সঠিকভাবে কুরবানি করা, পরিষ্কারভাবে ভাগ করা আর গরিবদের কথা ভাবা।