
আপনি যদি সৌদি আরবে চাকরির সুযোগ খুঁজে থাকেন তবে আপনার দেশটির বর্তমান শ্রমবাজার, আইন-বিধি, সমস্যা ও সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা থাকাটাও দরকার। চলুন তবে আজ সৌদি আরবে বর্তমান কাজের অবস্থা, সু্বিধা, অসুবিধা সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
সৌদিতে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নিয়মিতভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ, লজিস্টিক, হসপিটালিটি, সাপোর্ট সার্ভিসেস ইত্যাদি খাতে মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ পাচ্ছে। সৌদি সরকার পর্যটন-ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে বাইরের দেশ থেকে মানুষ নিচ্ছে। যেমন ২০২৫ সালের জুন মাসে তারা ঘোষণা করেছে দক্ষতা ভিত্তিক কাজের অনুমোদন চালু হবে।
তাছাড়া দেশটিতে আইন সংস্কারের কারণে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উন্নতি আশা করা যাচ্ছে। যেমন কাজের অনুমোদন বাড়ছে। সময়মতো বেতন প্রদান করা হচ্ছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে নিয়োগবিধি সংশোধন।
তবে অনেক বিদেশি শ্রমিক বলছে অনেক দিন কাজ পরও তাদের বেতন মেলেনি কিংবা বেতন মিলছে দেরিতে। উদাহরণস্বরূপ, মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch জানিয়েছে কয়েকশ বিদেশি শ্রমিক আট-নয় মাস বেতন পাননি।
কাজের চুক্তি এবং বাস্তব কাজের ঘন্টার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। যেমন আইন বলছে সাধারণ কাজের সময় ৮ ঘন্টা/দিন অথবা ৪৮ ঘন্টা/সপ্তাহ, তবে অনেক সময় অনেকেই বাড়তি সময় কাজ করেও বেতন পাচ্ছে না।
অতীতে কাজের অনুমোদন ও স্পনসর বা কাফালা সিস্টেমের কারণে শ্রমিকদের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে আধুনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে তা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
সৌদি আরবে আপনার কাজ শুরু করার আগে লিখিত চুক্তি বা Written Employment Contract থাকা বর্তমানে বাধ্যতামূলক। এই চুক্তিতে আপনার বেতন, কাজের সময়, দায়িত্ব স্পষ্ট লেখা থাকতে হবে।
এদিকে আবার বেতন পেমেন্ট সুরক্ষায় সৌদি সরকার চালু করেছে Wage Protection Program। যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে সময়মতো বেতন প্রদান করতে হয়। তাছাড়া দেশটিতে কাজের সময় সাধারণত দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে।
সবচেয়ে খুশির খবর হলো সৌদি আরবে কাজ করা কর্মীরা নিয়োগকর্তার অনুমোদন ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন বা দেশে যাওয়া-আসার সুযোগ পাচ্ছে ধীরে ধীরে।
সৌদি আরবে ভবিষ্যতে যারা কাজ করতে যাবেন তারা নিচের পয়েন্টগুলির ব্যাপারে আগে ক্লিয়ার হয়ে নেবেন:
১. কাজে যোগ দেবার আগে চুক্তি পড়ে নেবেন। চুক্তিতে কি লেখা আছে ভালোভাবে দেখে নেবেন। বেতন, কাজের সময়, বাসস্থান/ভাড়া বিষয়ক অবস্থাও জেনে নেবেন।
২. এরপর কাজের সেক্টর ও কোম্পানি ভালোভাবে যাচাই করবেন। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য যে কোম্পানিতে বেতন নিয়ে সমস্যা হয়েছে, সেই রকম ইতিহাস থাকলে জয়েন হবার আগে সতর্ক থাকবেন।
৩. নিজের দক্ষতা অনুযায়ী আপনার কাজ ঠিক আছে কিনা দেখে নেবেন। যাতে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত কাজ, ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে কোনো সমস্যা না হয়।
৪. চাকরির জন্য এপ্লাই করার আগে ভালোমতো ভাষাগত প্রস্তুতি নেবেন। কারণ ইংরেজি বা আরবিতে দক্ষতা থাকলে আপনার সুযোগ বাড়বে।
৫. এখনো ঠিক হয়নি, পুরোপুরি ক্লিয়ার না এমন অফার বা চাকরি কখনোই নেবেন না। কারণ এসবে প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে।
মনে রাখবেন সৌদি আরবে কাজের বাজার পরিবর্তনের পথে রয়েছে। অনেক নিয়ম ও রিফর্ম এসেছে যা বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এখনও সমস্যার ঝুঁকিতে আছে। যে কারণে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার এবং সচেতন মনোভাব থাকাটা খুবই জরুরি।
তাই ঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে, আইন-বিধি বোঝা অবস্থায় সৌদি আরবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয় হবে।