
অনেকেই মনে মনে একটা ভয় নিয়ে থাকেন যে আমি দোকানে কাজ করছি, কাউন্টারে বসে হিসাব করছি, রান্না করছি, বাসন ধুচ্ছি, অফিসের কাজ করছি… এই অবস্থায় যদি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলি, কিন্তু পুরো মনোযোগ না থাকে, তাহলে কি সেটা আল্লাহর কাছে গোনা হবে?
আরও খোলাখুলি বললে, অনেকের মনে প্রশ্ন আসে আমি busy মাথায় অনেক চাপ তবু মুখে মুখে আসতাগফিরুল্লাগ বলছি। এটা কি আসলেই ধরা হবে? নাকি এটা শুধু মুখের কথা?
সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার এবং একদম real answer হলো হ্যাঁ গোনা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনি যদি কাজের মধ্যে, দোকানে, রান্নাঘরে, অফিসে, বাচ্চা সামলাতে সামলাতে, বা কোনো ব্যস্ত অবস্থায় সত্যি সত্যি আল্লাহকে স্মরণ করার নিয়তে আস্তাগফিরুল্লাহ বলেন, তাহলে সেটা জিকির হিসেবেই ধরা হবে। আপনার মন যদি ১০০% focused না-ও থাকে, তবুও তার সওয়াব আপনি পাবেন।
এখানে অনেক মানুষ একটা ভুল ধারণায় ভোগেন। তারা মনে করেন, জিকির মানে শুধু জায়নামাজে বসে, একদম নিরিবিলি পরিবেশে, চোখে পানি নিয়ে, full concentration-এ আল্লাহকে স্মরণ করা। হ্যাঁ, এ ধরনের জিকির অবশ্যই উত্তম। কিন্তু ইসলাম শুধু perfect spiritual mood এর ধর্ম না। ইসলাম হলো বাস্তব জীবনের ধর্ম। এখানে আল্লাহর স্মরণ শুধু মসজিদে না, শুধু তাহাজ্জুদের সময় না, শুধু নিরিবিলি রুমে না বরং দৈনন্দিন জীবনের মাঝেও।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,
“যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১)
এই আয়াতটা খুব powerful। কারণ এখানে আল্লাহ বলেননি শুধু নামাজে, শুধু নিরিবিলি সময়ে, শুধু গভীর আবেগে! বরং বলা হয়েছে জীবনের বিভিন্ন অবস্থায়। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের জীবন তো সবসময় একরকম না। কখনো সে দাঁড়িয়ে কাজ করছে, কখনো বসে হিসাব করছে, কখনো ক্লান্ত, কখনো ব্যস্ত। তবুও সে যদি আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে সেই স্মরণ আসল স্মরণ।
অর্থাৎ, আপনি যদি কাউন্টারে বসে থাকেন, ক্যাশ সামলান, গ্রাহকের সাথে কথা বলেন, আর ফাঁকে ফাঁকে আস্তাগফিরুল্লাহ বলেন এটা কোনো নকল জিকির হিসাবে কাউন্ট হবে না। বরং এটাই বাস্তব জীবনের জিকির হিসাবে সওয়াবের সোর্স হিসাবে আল্লাহ পাক কবুল করবেন, ইনশাআল্লাহ।
আসলে আমাদের মনে এই ভয়টা কোথা থেকে আসে? এই ভয়টা খুব common, especially sensitive মানুষদের মধ্যে থেকে আসে। কারণ অনেকেই মনে করেন যদি আমি পুরো focus না করতে পারি, তাহলে হয়তো আল্লাহ গ্রহণ করবেন না।
তবে এখানে আমাদের একটা জিনিস পরিষ্কার বুঝতে হবে সেটা হলো পূর্ণ মনোযোগ না থাকা আর একদমই নিয়ত ছাড়া, বেহুদা মুখ নড়ানো এই দুইটা এক জিনিস না। এই পার্থক্যটাই সবচেয়ে important। ধরেন আপনি কাজ করছেন, আপনার মাথায় customer, টাকা, product, time pressure সব চলছে। এই অবস্থায় আপনি নিচু স্বরে বললেন, “আস্তাগফিরুল্লাহ”। আপনি জানেন আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছেন! হয়তো ১০০% heart-locked focus নেই, কিন্তু intention তো আছে। আর এটাই ইসলামের দৃষ্টিতে ভ্যালিড জিকির!
সুতরাং মনে রাখবেন দৈনন্দিন কাজ, লেনদেন, চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরের কাজ সব কিছুর মাঝেও জিকির হতে পারে। ইবন কাসীর (রহ.)-এর তাফসিরে এক আয়াতের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট বোঝা যায় যে, দুনিয়ার কাজের পরও, কাজের ভেতরও, মানুষকে আল্লাহকে ভুলে না যেতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কাজ বাধা না! বরং ভুলে যাওয়াটাই বাধা।
তবে এ কথা সত্যি যে সবচেয়ে শক্তিশালী জিকির হলো সেইটা, যেখানে মুখের সাথে অন্তরও জাগে। কিন্তু interestingly, বাস্তব জীবনে ব্যস্ত সময়ে করা জিকিরের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। কারণ যখন মানুষ ব্যস্ত, ক্লান্ত, চাপের মধ্যে থেকেও আল্লাহকে মনে রাখে! আর এটা প্রমাণ করে যে, তার খোদার সাথে সম্পর্ক ইবাদতের সময় না! বরং জীবনের ভেতর। আর দিনশেষে এটাই ইসলামকে এত সুন্দর করে।