
আপনি যদি ভাবেন ইউরোপে পড়াশোনা করতে লাখ লাখ টাকা লাগে তাহলে স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ আপনাকে চুপ করিয়ে দেবে! কারণ এখানে টিউশন ফি = ০ টাকা, হোস্টেল = প্রায় ফ্রি, মাসে মাসে স্টাইপেন্ড। এমনকি রেসিডেন্স পারমিট পর্যন্ত ঝামেলাহীন! না ভাই। মজা করছি না। ঘটনা পুরোপুরি সত্যি! আসুন বিস্তারিত জানি।
স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ হলো হাঙ্গেরি সরকারের একটি ফুল ফ্রি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। যার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা BSc, MSc, PhD, One-year Program সব ধরনের কোর্সে ফ্রি পড়াশোনা করতে পারে। এই স্কলারশিপের সুবিধাগুলি হলো:
মূল কারণ হিসাবে বলবো ইউরোপের সবচেয়ে সস্তা দেশগুলোর মধ্যে একটি হলো হাঙ্গেরি। জার্মানি বা ফ্রান্সে যেখানে আপনার শুধু বাসা ভাড়া হিসাবে গুনতে হবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা সেখানে হাঙ্গেরিতে পুরো মাস চলতে পারবেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়!
সাথে রয়েছে কোয়ালিটি এডুকেশন + লো কস্ট! মানে Perfect Value! হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি EU-র সব দেশে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এখানে স্কলারশিপ পাওয়া তুলনামূলক সহজ। GPA কম হলেও আপনি আবেদন করতে পারবেন। তাই হয়তো বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজারেরও বেশি স্টুডেন্ট সিলেক্ট হয়।
পাশাপাশি থাকছে ২৬ দেশের শেঙ্গেন ভ্রমণের সুযোগ। উইকেন্ডে চাইলে অস্ট্রিয়া ঘুরে আসতে পারবেন, সীমান্তে দাঁড়িয়ে সেলফি দিলেই মানুষ ভাববে আপনি অন্য দেশে ট্যুর দিচ্ছেন।
স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ আবেদন যোগ্যতার লিস্টের বেসিক্যালি খুব কঠিন কিছু নেই। আবেদনের আগে সাধারণ যোগ্যতা হিসাবে আপনার যে পয়েন্টগুলি থাকতে হবে:
মনে রাখবেন স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপের জন্য আবেদনের আগে এই কাজ ভুল করলেই ৯৯% রিজেক্ট খাবেন। তাই সময় থাকতেই ম্যানেজ করে নেবে:
১. শুরুতে Program & University নির্বাচন করে নেবেন। এক্ষেত্রে ELTE, BME, University of Pécs, University of Debrecen কিংবা Szeged University এর মতো ভালো ভালো প্রোগ্রাম পাবেন। আর আপনি সর্বোচ্চ ২টি প্রোগ্রাম সিলেক্ট করতে পারবেন।
২. এরপর Application Portal খুললে November–December সেশন সিলেক্ট করবেন।
৩. পরপর Tempus Foundation Portal এবং Bangladesh Nomination Portal এই দুটি পোর্টালে ক্লিক করবেন। মনে রাখবেন একইসাথে এই দুটি জায়গায় আবেদন না করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
৪. এরপর University আপনার ডকুমেন্ট রিভিউ করবে। যদি তাদের ভালো লাগে পরে তারা আপনাকে Skype বা Online Interview করবে।
৫. সবশেষে ফাইনাল রেজাল্ট পাবেন পরের মাসের জুলাইয়ে, ভিসা প্রসেস হবে আগস্টে এবং সেপ্টেম্বর হবে ইনটেক…মানে হাঙ্গেরিতে চলে যাবেন।
সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন, ফ্রি মানে পুরো ফ্রি নাকি ভিতরে খরচ আছে? চলুন সত্যিটা জেনে নেই!
ফ্রি মানে ফ্রি! তবে এক্ষেত্রে যাত্রার শুরুতেই কিছু খরচ আছে। ভিসা আবেদন, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, টিকেট এবং প্রথম মাসের খরচ কিন্তু আপনাকেই ম্যানেজ করতে হবে। মোট ধরেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে সব মিলিয়ে খরচ পড়বে।
আর আমরা সবাই জানি ইউরোপে পড়াশোনার জন্য এটা সবচেয়ে কম বাজেট। তবে এই স্কলারশিপ কিন্তু পাচ্ছেন মোট খরচ ১ লাখ টাকার মধ্যে।