
বিদেশে চাকরির স্বপ্ন অনেকের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় ধাপ হলো ইন্টারভিউ। আপনি যত ভালো যোগ্যতাসম্পন্নই হন না কেন, ইন্টারভিউর সময় যদি সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারেন, তাহলে চাকরি পাওয়া কঠিন। তাই আমি আজ ধাপে ধাপে বিদেশে চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি, প্রশ্নোত্তর কৌশলসহ সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করি কাজে দেবে।
বিদেশে চাকরির ইন্টারভিউতে ভালো করতে হলে শুরুতে আপনাকে ইন্টারভিউর ধরন বুঝে নিতে হবে। বিদেশে চাকরির ইন্টারভিউ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:
১. Online Interview
২. Phone Interview
৩. In-Person Interview
এক্ষেত্রে Online Interview মূলত হয়ে থাকে Zoom, Skype বা Google Meet এর সাহায্যে। যার মাধ্যমে আপনার ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই হয়। আর Phone Interview প্রথম ধাপে প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়। সবশেষে In-Person Interview হয় ভিসার পরে।
এবার আসি বিদেশে চাকরির ইন্টারভিউতে বসার আগে আপনাকে কি কি রাখতে হবে সে ব্যাপারে। মনে রাখবেন বিদেশি ইন্টারভিউতে প্রথম ইমপ্রেশনই সবকিছু। তাই প্রস্তুতি নিন প্রফেশনালভাবে। যেমন:
১. কোম্পানি সম্পর্কে ভালোমতো জানুন। ওদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখুন, মিশন, ভিশন, সার্ভিস বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে পড়ুন।
২. আপনার CV ভালোভাবে পড়ে নিন। ওরা আপনার CV-তে যা লিখেছেন, সেটি নিয়েই প্রশ্ন করবে। তাই নিজের কাজ, প্রজেক্ট, স্কিল ভালোভাবে ঝালিয়ে নিন।
৩. ইংরেজি প্র্যাকটিস করে নিন ভালোভাবে। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন সামান্য ভুল হলেও চলবে। তবে আত্মবিশ্বাসীভাবে কথা বলুন।
৪. আপনার ড্রেসআপ ঠিক করুন। ছেলে হলে শার্ট-প্যান্ট বা ব্লেজার আর মেয়ে হলে ফরমাল ড্রেস বা স্যুট পোশাক বেছে নিন।
বিদেশি কোম্পানিগুলো সাধারণত কিছু স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন করে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো 👇
Q1: Tell us about yourself?
এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন এভাবে….I’m [Your Name] from Bangladesh. I’ve been working as a [Your Profession] for the last [X years]. I love learning new skills and I’m passionate about working in an international environment.
Q2: Why do you want to work with us?
এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন এভাবে….Because your company focuses on innovation and teamwork, which matches my personal values and professional goals.
Q3: What are your strengths and weaknesses?
এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন এভাবে….My strength is time management and teamwork. My weakness used to be public speaking, but I’ve been improving through daily practice.
Q4: How do you handle pressure at work?
এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন এভাবে….I stay calm, prioritize tasks, and focus on solving one problem at a time.
Q5: Do you have any questions for us?
এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন এভাবে….Yes, I’d like to know about the next step of the recruitment process.
মনে রাখবেন এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে নিজের মতো করে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলবেন।
ইন্টারভিউতে শুধু কথাই নয়, আপনার দেহভঙ্গি বা Body Language ও ভদ্রতাও বড় ভূমিকা রাখে। তাই:
এবার আমি আপনাকে এমনকিছু অনলাইন ইন্টারভিউ টেকনিক শিখিয়ে দিবো যা আপনার ইন্টারভিউকে ১০০ তে ১০০ পার্সেন্ট সাকসেসফুল করবে।
১. সবসময় Background পরিষ্কার রাখুন। অগোছালো ঘর বা শব্দ যেন না থাকে।
২. রুমের Light ঠিক করুন। আপনার মুখে আলো পড়ছে এমন জায়গায় বসুন।
৩. ইমেইলে Name Tag রাখুন। Zoom-এ নিজের নাম স্পষ্টভাবে লিখুন।
৪. সময় পেলেই Mock Interview দিন। বন্ধু বা পরিবারের কারো সঙ্গে প্র্যাকটিস করুন।
ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটি Follow-Up Email পাঠাতে পারেন। আপনার এই কাজ আপনার ভদ্রতা ও প্রফেশনালিজমের পরিচয় দেবে।
মনে রাখবেন, বিদেশে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে যত বেশি অনুশীলন করবেন, তত ভালোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার ইংরেজি পারফেক্ট না হলেও আত্মবিশ্বাসটাই আপনাকে সফল করবে। তাই আর সময় নষ্ট না করে আজই প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার পরবর্তী ইন্টারভিউ হতে পারে জীবনের টার্নিং পয়েন্ট!