
বিদেশে চাকরি করার স্বপ্ন এখন অনেকেরই। কেউ চায় উন্নত জীবন, কেউ চায় ক্যারিয়ারের নতুন সুযোগ! আবার কেউ পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। কিন্তু বিদেশে অনলাইনে চাকরির আবেদন করার প্রসেস ঠিকভাবে না জানার কারণে অনেকেই প্রতারিত হন বা আবেদনেই ব্যর্থ হন।
তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে জানবো কীভাবে আপনি ঘরে বসেই বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন, কোন কোন ওয়েবসাইট নিরাপদ, খরচ কত, এবং কীভাবে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।
অনলাইনে বিদেশে চাকরির আবেদন করার আগে আপনাকে প্রথমেই ঠিক করতে হবে কোন দেশে আপনি যেতে চান এবং কোন পেশায় কাজ করতে পারবেন। যেমন সৌদি, দুবাই, কাতার এসব দেশে আপনি ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, ক্লিনার, ওয়েল্ডার, সেলসম্যান ইত্যাদি হিসাবে কাজ করতে পারবেন।
আবার ইউরোপে মানে ইতালি, পোল্যান্ড, ডেনমার্কে রেস্টুরেন্ট, ফ্যাক্টরি, কৃষি, টেকনিশিয়ান, বা নার্সিং জব পাবেন ভালো। অন্যদিকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে স্কিলড ও প্রফেশনাল চাকরি যেমন ইঞ্জিনিয়ার, আইটি, হেলথ সেক্টর ইত্যাদিতে ভালো সুযোগ আছে।
মনে রাখবেন বিদেশে আবেদন করার সময় শুধু সাধারণ CV দিলেই হবে না। সেখানে থাকতে হবে প্রফেশনাল ফরম্যাট মানে ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড, স্পষ্ট যোগাযোগের তথ্য মানে ইমেইল, ফোন, LinkedIn প্রোফাইল এবং নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও স্কিল হাইলাইট করা কভার লেটার।
বর্তমানে অনেক ফ্রি এবং ট্রাস্টেড ওয়েবসাইট আছে যেখানে সরাসরি বিদেশি কোম্পানিগুলোতে আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলো হলো Indeed.com, Glassdoor.com, LinkedIn Jobs, GoAbroad.com, JobStreet, GulfTalent, EuroJobs। তবে সবসময় প্রতারণা এড়াতে সাবধান থাকতে হবে। কোনো ওয়েবসাইটে পেমেন্ট করতে হলে আগে রিভিউ দেখে নিতে হবে।
এরপর আবেদন করার জন্য আপনাকে কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি বেছে নিতে হবে, ওয়েবসাইটের নিয়ম অনুযায়ী Apply Now ক্লিক করতে হবে, আপনার CV, Cover Letter ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে।
সবশেষে সাবমিট করার পর ইমেইল চেক করবেন। কারণ বিদেশের কোম্পানিগুলো সাধারণত ইমেইল বা LinkedIn এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে। আর হ্যাঁ আবেদন করার পর ৭ থেকে ১০ দিন পর একটি follow-up email পাঠানো ভালো। এতে আপনার আগ্রহ বোঝা যায়।
বিদেশি কোম্পানিগুলো সাধারণত অনলাইন ইন্টারভিউ নেয়। মানে Zoom, Google Meet, বা Skype এর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ইন্টারভিউর আগে অবশ্যই আপনাকেনিজের পরিচয় ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে দেওয়ার প্র্যাকটিস করতে হবে, চাকরির ক্ষেত্র অনুযায়ী কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত রাখতে হবে এবং ক্যামেরা, ইন্টারনেট ও মাইক্রোফোন ঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
এরপর আসে ভিসা ও ডকুমেন্ট প্রসেসিং! চাকরি পেলে বিভিন্ন কোম্পানি সাধারণত Offer Letter ও Work Permit পাঠায়। এরপর আপনাকে করতে হবে:
মনে রাখবেন এক্ষেত্রে ভিসা আবেদন সাধারণত দেশের এম্বাসি বা ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে করতে হয়। আর এই কাজ করা খরচ হিসাবে সাধারণত পড়ে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই খরচ দেশভেদে ভিন্নও হতে পারে।
সবশেষে বলবো অনলাইনে বিদেশে চাকরির আবেদন করার সময় প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন। কখনোই কোনো অজানা এজেন্সি বা ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না। সবসময় সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটে বা যাচাই করা জব পোর্টালে আবেদন করবেন।