
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন এক বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, টিউশন ফি দিতে হবে না, মাসিক ভাতা পাবেন, বিমান ভাড়াও স্কলারশিপ থেকে আসবে এমন কোনো স্কলারশিপের সিস্টেম কি এক্সিস্ট করে?
শুনতে স্বপ্নের মতো লাগলেও এটাই বাস্তব। আর সেই স্বপ্নের নাম চিভনিং স্কলারশিপ বা Chevening Scholarship! তবে শুরুতেই বলে রাখা ভালো এই চিভনিং স্কলারশিপ শুধু ভালো রেজাল্টের জন্য দেওয়া হয় না। যদি ভাবেন আমার তো CGPA ভালো, ব্যাগ গুছিয়ে লন্ডন চলে যাব… তাহলে একটু থামুন। কারণ চিভনিংয়ে চান্স পেতে হলে আপনাকে এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিসে থাকতে হবে বাড়তি ফোকাস! চলুন বিস্তারিত আলোচনা করি!
চিভনিং স্কলারশিপ হলো যুক্তরাজ্য সরকারের ফুল ফান্ডেড একটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপ পরিচালনা করে UK Foreign, Commonwealth & Development Office এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পান। বিশেষ করে বাংলাদেশ এই চিভনিং-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে।
কারণ চিভনিং স্কলারশিপ শুধু টাকার জন্য নয়। বরং চিভনিং স্কলারশিপ মানেই:
চিভনিং স্কলারশিপকে Fully Funded UK Scholarship বলা হয়! কারণ এই স্কলারলশিপ সম্পূর্ণ টিউশন ফি ফ্রি! সাথে প্রতি মাসে টাকা পাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ইউকে যাওয়া এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার ইকোনমি ক্লাস বিমান ভাড়া। সবকিছু তারাই বহন করবে। শুধু কি তাই? ইউকে পৌঁছানোর পর আপনার প্রাথমিক খরচের জন্য তারা দেবে Arrival Allowance। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার জন্য Departure Allowance তো থাকছেই!
মোটকথা ফাইনান্সিয়াল চাপের কারণে যেন যোগ্য শিক্ষার্থী পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই এই স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য।
চিভনিং মূলত এক বছরের ফুল-টাইম মাস্টার্স প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করে। এর মধ্যে আপনি ব্যবসা, অর্থনীতি, প্রকৌশল, আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শিক্ষা, পরিবেশ, জননীতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যমসহ অসংখ্য বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে এই স্কলারশিপের আন্ডারে:
এবার আসি চিভনিং স্কলারশিপের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন সে ব্যাপারে! একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসাবে আপনিও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন যদি:
১. আপনি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে থাকেন!
২. আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমন হতে হবে যাতে যুক্তরাজ্যের কোনো মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যায়।
৩. আপনার অন্তত দুই বছরের মানে প্রায় দুই হাজার আটশ ঘণ্টা কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর এই অভিজ্ঞতা হতে পারে কোনো ফুল-টাইম চাকরির, পার্ট-টাইম চাকরি, ইন্টার্নশিপের, যেকোনো স্বেচ্ছাসেবী কাজের! তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কাজের অভিজ্ঞতা স্নাতক সম্পন্ন করার পরের হতে হবে।
চিভনিং স্কলারশিপে IELTS বাধ্যতামূলক কিনা তা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। চিভনিং নিজে IELTS কে বাধ্যতামূলক করেনি। তবে আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় IELTS, TOEFL বা PTE চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অবশ্যই দেখে নিন।
চিভনিংয়ে আবেদন করার সময় আপনাকে তিনটি যোগ্য মাস্টার্স কোর্স নির্বাচন করতে হবে। এগুলো এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন বিষয়গুলো একই ক্যারিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়। কারণ এতে করে ভর্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং অন্তত একটি কোর্স থেকে অফার পাওয়ার সুযোগ থাকে!
চিভনিং স্কলারশিপে আবেদন করার সময় বা পরবর্তী ধাপে সাধারণত যেসব ডকুমেন্ট লাগবে:
চিভনিং স্কলারশিপে আবেদন করতে:
অনেকেই মনে করেন CGPA চারের মধ্যে চার হলেই হবে! আসলে বিষয়টি এত সহজ নয়।
চিভনিং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় আপনার লিডারশিপ এক্সপেরিয়েন্স, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, যেকোনো কমিউনিটিতে আপনার অবদান, আপনার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আর ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে কাজ করার মানসিকতা। অর্থাৎ শুধু পরীক্ষার নম্বর নয়, আপনি মানুষ হিসেবে কী ধরনের প্রভাব রাখতে পারবেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চিভনিং স্কলারশিপসহ বিভিন্ন স্কলারশিপে আবেদন করার সময় বাংলাদেশীরা একই SOP বিভিন্ন স্কলারশিপে ব্যবহার করেন। অনেকেই আবার ইন্টারনেট থেকে কপি করা Leadership Essay জমা দেন বা কাজের অভিজ্ঞতা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেন না। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স না বুঝেই আবেদন করা, শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে আবেদন করার অভ্যাস তো আছেই!
চিভনিং স্কলারশিপ ২০২৭-এর আবেদন শুরু হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে আর এর আবেদনের শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৬। তবে শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগে আবেদন করাই ভালো।
মনে রাখবেন প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকেও শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপ পান। তবে এর জন্য দরকার স্ট্রং একাডেমিক প্রোফাইল, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ভালো লিডারশিপ, পরিষ্কার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আর মানসম্মত আবেদন! মোটকথা চিভনিং ভাগ্যের খেলা নয়, বরং এটা নিয়মিত প্রস্তুতির ফল।