
প্রবাসে অনেক মানুষই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেন। মাস শেষে বেতন পান, পরিবারের খরচ চালান, দেশে টাকা পাঠান এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র একটি আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করা অনেকের জন্যই যথেষ্ট নয়। বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা, ব্যবসা শুরু করা কিংবা দ্রুত আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন থাকলে অতিরিক্ত আয়ের কথা ভাবতেই হবে।
তবে সুখবর হলো, বর্তমানে প্রবাসে চাকরির পাশাপাশি টাকা ইনকামের জন্য অনেককিছুই করার সুযোগ রয়েছে। ইন্টারনেট, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারের কারণে এখন একজন প্রবাসী তার মূল চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের একাধিক পথ তৈরি করতে পারেন।
প্রবাসে একটি আয়ের উৎস থাকলে চাকরি হারানো, কাজ কমে যাওয়া বা অর্থনৈতিক সংকটের সময় বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে। যা আসলে আমরা বুঝতে চাই না! অন্যদিকে যদি দুই বা তিনটি আয়ের উৎস থাকে, তাহলে আর্থিক ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আসুন এবার প্রবাসী ভাইবোনদের জন্য এমনকিছু পার্টটাইম কাজের ব্যাপারে পরামর্শ দিই যার মাধ্যমে সহজেই দু’চার পয়সা বাড়তি ইনকাম নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যমগুলোর একটি হলো ফ্রিল্যান্সিং। আপনি যদি কোনো স্কিল জানেন, তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। আর এসব জনপ্রিয় কাজগুলির মধ্যে রয়েছে:
প্রথম কয়েক মাস শেখার পেছনে সময় দিলেও পরবর্তীতে এটি নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে এসব সেক্টর!
অনেক প্রবাসী বর্তমানে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভালো আয় করছেন। আপনিও তাদের মতো অনলাইনে তৈরি করতে পারেন ব্লগ, ভিডিও, তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট, ট্যুর কনটেন্ট বা প্রবাস জীবন বিষয়ক কনটেন্ট! কারণ প্রবাসে আপনার অভিজ্ঞতা অনেক মানুষের জন্য মূল্যবান হতে পারে।
আপনি যদি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাহলে ইউটিউব হতে পারে দারুণ একটি সুযোগ। আপনি প্রবাস জীবন, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রবাসে খরচের হিসাব, প্রবাসে কাজ করে সঞ্চয়ের কৌশল, ভ্রমণ বা ইসলামিক জীবনধারা এসব নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন! সবকিছু ঠিক থাকলে এই একটি সফল ইউটিউব চ্যানেল ভবিষ্যতে বড় আয়ের উৎস হতে পারে।
অনেকেই ভাবেন ব্লগিং শেষ হয়ে গেছে। বাস্তবে এখনো লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য খুঁজতে গুগল ব্যবহার করেন। আপনি যদি লেখালেখি পছন্দ করেন, তাহলে একটি ব্লগ শুরু করতে পারেন। আর আপনার ব্লগিংয়ের বিষয় হতে পারে প্রবাস জীবন, ক্যারিয়ার, শিক্ষা
প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা! মনে রাখবেন ধৈর্য ধরে কাজ করলে ব্লগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিতে পারে।
বর্তমানে ছোট পরিসরে অনলাইন ব্যবসা শুরু করা আগের চেয়ে অনেক সহজ। কারণ এই কাজ প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় করা যায়। আপনি চাইলে যে দেশে আছেন সেদেশের বাংলাদেশীদের কাছে নিজের প্রোডাক্টগুলি সেল করতে পারেন। আর তা যদি না পারেন ড্রপশিপিংও শুরু করা যায়। কারণ ড্রপশিপিংয়ে আপনাকে নিজ থেকে কোনো প্রোডাক্ট স্টোর করতে হবে না!
আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হন, তাহলে সে বিষয়ের উপর অনলাইন ক্লাস নিতে পারেন। বিশেষ করে বর্তমানে গ্লোবালি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, কুরআন শিক্ষা, কম্পিউটার দক্ষতা বা বিভিন্ন ভাষা এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
আপনার যদি কোনো বিশেষ স্কিল থাকে, তাহলে সেটি শেখানোর জন্য কোর্স তৈরি করতে পারেন। একবার ভালো মানের কোর্স তৈরি করতে পারলে সেটি দীর্ঘ সময় আয় এনে দিতে পারে। মানে অনলাইন কোর্স রেডি করে তা অনলাইনে নিয়মিত সেল করলেন!
বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটা বিজনেসের অনলাইন উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO), ইমেইল মার্কেটিং এসব দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আপনিও চাইলে আজ থেকে কাজ শিখে মাঠে নেমে পড়তে পারেন!
অনেক প্রবাসী বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাকে আয়ের উৎসে রূপান্তর করতে পারেন না। আপনি আপনার অভিজ্ঞতা দিয়ে ই-বুক লিখতে পারেন, ভালো গাইড তৈরি করতে পারেন, প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, পরামর্শমূলক কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন দেখবেন আপনার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য মূল্যবান পরামর্শে পরিণত হচ্ছে!
মোটকথা প্রথম ৩ মাস যেকোনো একটি স্কিল শিখে পরের ৩ মাস বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা নিন! ৬ মাস পরে ছোট আয়ের সুযোগ খুঁজুন! আর ১ বছর পরে সেটিকে নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত করুন! অনেক সফল মানুষ ঠিক এভাবেই শুরু করেছিলেন। আর দেরি না করে আজ থেকেই পরিকল্পনা শুরু করুন। হয়তো আগামী এক বছর পর আপনি শুধু একজন চাকরিজীবী নন, বরং একাধিক আয়ের উৎসের মালিক হবেন।
আর হ্যাঁ! প্রবাস জীবন, অনলাইন আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সঞ্চয় এবং আর্থিক সফলতা নিয়ে আরও বিস্তারিত ও বাস্তবধর্মী গাইড পেতে আমাদের ব্লগ ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।