জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনবেন যেভাবে: টাকা বাঁচান, ভবিষ্যৎ বাঁচান

জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনবেন যেভাবে: টাকা বাঁচান, ভবিষ্যৎ বাঁচান

প্রবাস প্রতিদিন
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনবেন যেভাবে: টাকা বাঁচান, ভবিষ্যৎ বাঁচান

জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনবেন যেভাবে: টাকা বাঁচান, ভবিষ্যৎ বাঁচান.jpg

জাপান যাওয়ার স্বপ্ন অনেকের। আর এই স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে আছে একদল মানুষ… যারা জাপান নয়! বরং সরাসরি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে যেতে চায়। আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ দালালের কাছে ধরা খায় অশিক্ষিত হওয়ার জন্য না। বরং অতিরিক্ত বিশ্বাসী হওয়ার জন্য। তাই আমি আজ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো দালাল চিনবেন কিভাবে!

দালাল আসলে কারা?

বাংলাদেশে আসলে দালাল মানে শুধু গলির কোণে বসে থাকা লোক না। আজকের দালাল ফেসবুকে সুন্দর সুন্দর পোস্ট লেখে, হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস নোট পাঠায়, আপনাকে ভাই বলে ডাকে, মাঝে মাঝে স্যার হিসাবেও ডাকে! কিন্তু দিনশেষে আপনাকে বলবে ভিসা না হলেও টাকা ফেরত নেই না ভাই, রুলস এইটাই!

জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনবেন কিভাবে?

১. জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনতে হলে আপনাকে জানতে হবে গ্যারান্টি শব্দটাই রেড ফ্ল্যাগ! মানে যদি কেউ বলে গ্যারান্টি জব, গ্যারান্টি ভিসা, শতভাগ নিশ্চিত, কাজ না হলে টাকা ফেরত তখন মনে করবেন ঘাবলা আছে। সবসময় মনে রাখবেন জাপানের ভিসা দেয় জাপান এম্বাসি! আপনার ফেসবুকের অমুক কিংবা তমুক ভাই না।

২. অন্যদিকে মাঝেমধ্যে এমন কেসও দেখা যায় যেখানে অফিস নেই, কিন্তু গল্প অনেক! বাংলাদেশে দালালদের অফিস সাধারণত ভাড়া বাসা, কফিশপ এসব জায়গায় হয়ে থাকে। সবচেয়ে ভালো কথা বলার আগে অফিসের ট্রেড লাইসেন্স, BMET লাইসেন্স, অফিস অ্যাড্রেস জেনে নেওয়া! দেখবেন কথার গতি কমে আসবে।

৩. এরপর আমি ক্যাশের ব্যাপারে। জাপান যাওয়ার নামে দালাল চেনার আরেকটি উপায় হলো ক্যাশ টাকা চাইছে কিনা তা জানা! সরকারিভাবে কাজ হলে তারা কিন্তু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করবে বা মানি রিসিট নিয়ে কাজ করবে অথবা লিখিত চুক্তি হবে আপনাদের মাঝে।

৪. ভিসার ক্যাটাগরি ঘুরিয়ে বললে সাবধান! দালালরা অনেকসময় ট্যুরিস্ট ভিসা আগে, গিয়ে কনভার্ট হবে, সবাই এভাবেই যায় এসব বলে থাকে। মানে ঘুরানো কথাবার্তা আরকি। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে জাপানে ট্যুরিস্ট ভিসা কনভার্ট করে কাজ করা অবৈধ। আর যদি করেনও ধরা পড়লে ডিপোর্ট এবং ব্ল্যাকলিস্টেড হয়ে যাবেন। দেখবেন ভবিষ্যৎ শেষ!

৫. আবেদন করার সময় সরকারি সার্কুলার দেখাতে না পারলে বিশ্বাস করবেন না। কারণ সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার প্রোগ্রাম হলে আপনি তা অটোমেটিক সরকারি ওয়েবসাইটে দেখতে পাবেন। BMET নোটিশ বা দূতাবাসের ঘোষণা তো থাকছেই!

ইতি কথা

তবে হ্যাঁ জাপান যাওয়ার নামে দালাল চিনতে গিয়ে ভুলে গেলে চলবে না যে সব এজেন্টই খারাপ না। একটু লক্ষ্য রাখলেই তা বুঝতে পারবেন। বিশেষ করে ভালো এজেন্ট চুপচাপ কাজ করে, আর দালাল মাইক নিয়ে ঘোরে। অন্যদিকে ভালো এজেন্ট সময় নিয়ে কথা বলে। আবার ঝুঁকির কথাও বলে। মোটকথা তারা ভিসা না হলে দায় নেয় না। কিন্তু মিথ্যাও বলে না। মনে রাখবেন শর্টকাট মানেই শর্ট লাইফ। কম খরচ মানেই কম নিরাপত্তা। তাছাড়া দালাল ভয় পায় সচেতন মানুষকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ