
জাপান একদিকে শৃঙ্খলা, প্রযুক্তি আর সম্মানের দেশ! অন্যদিকে কাজের সুযোগ ও উচ্চশিক্ষার বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু সমস্যা একটাই এবং সেটা হলো ভুল পথে গেলে জাপান নয়। এতে বিপদ নিশ্চিত। তাই আজ জানবো সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার নিয়ম। যেখানে থাকবে প্রয়োজনীয় সকল বিস্তারিত তথ্য।
সরকারিভাবে জাপান যাওয়া মানে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় জাপান সরকারের স্বীকৃত ভিসায় বৈধ কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জাপান যাওয়া। যেখানে আপনাকে ভিসিট ভিসায় গিয়ে কাজ বা এজেন্সির গোপন রাস্তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। বলে রাখা ভালো সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার মূলত ৪টি বৈধ পথ আছে।
জাপানে কাজ করতে চাইলে জাপান ওয়ার্ক ভিসার কোনো বিকল্প নেই। এই ভিসাগুলো সরকারিভাবে Specified Skilled Worker (SSW), Technical Intern Training Program (TITP), Engineer / Specialist in Humanities দ্বারা৷ স্বীকৃত। আর এক্ষেত্রে কনস্ট্রাকশন, কেয়ারগিভার, ফ্যাক্টরি, কৃষি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেক্টরে কাজের বেশি সুযোগ রয়েছে। যেখানে থাকবে সরকারিভাবে চুক্তি, ন্যূনতম নির্ধারিত বেতন নির্ধারিত, দালাল ছাড়াই কাজের সুযোগ!
জাপান ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার ২ নাম্বার পথ হলো সরকারি স্কিল্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম বা TITP। এটা মূলত বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের যৌথ প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট ট্রেনিং, জাপানে কাজের অভিজ্ঞতা, পরে SSW ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ পাবেন। আর এখানে আবেদন করতে দরকার BMET, অনুমোদিত সরকারি চ্যানেল এবং সরকারি সার্কুলারের মাধ্যম!
এবার আসি যারা পড়াশোনার মাধ্যমে জাপান যেতে চান তাদের ব্যাপারে। আপনারা চাইলে স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যাওয়ার ট্রাই করতে পারেন। জাপানের স্বীকৃত Language School বা College এ ভর্তি হলেই এই ভিসা পাওয়া যাবে। যেখানে থাকবে Student Visa, পার্ট টাইম কাজের সুযোগ, বৈধ কাজ এবং ভবিষ্যতে ওয়ার্ক ভিসায় কনভার্ট করা যায় সরকারিভাবে তার নিরাপদ পথ!
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার নিয়ম হিসাবে সবশেষে রইলো জাপান সরকার প্রদত্ত স্কলারশিপ বা MEXT। সবচেয়ে সম্মানজনক এই স্কলারশিপে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ ফ্রি টিউশন, মাসিক ভাতা, বিমান টিকিট এবং সরকারিভাবে জাপানে পড়াশোনার সুযোগ।
এবার আসি যোগ্যতার ব্যাপারে। সব ভিসার ক্ষেত্রে কিছু কমন শর্ত থাকে। ঠিক তেমনই সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার জন্য সাধারণ যোগ্যতা হিসাবে আপনার থাকতে হবে:
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার খরচ বলতে এখানে খরচ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, কোনো দালাল ফি নেই! আবার চুক্তিভিত্তিক খরচ দিলেই হবে। সবমিলিয়ে এক্ষেত্রে দশ থেকে পনের লাখ টাকা হলেই হবে। যারা ওয়ার্ক ভিসায় যাবেন তাদের বলে রাখি এসবে যাওয়ার খরচ অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকারীরাই বহন করে থাকে। তবে দুই তিন লাখে কেউ জাপান পাঠাতে বললে ভাববেন ব্যাডায় পুরাই ফ্রড।
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজের কথা বিশ্বাস করবেন না। পাশাপাশি আপনাকে ফেসবুক গ্রুপের গ্যারান্টি জব অফার এড়িয়ে চলতে হবে। আর হ্যাঁ সরকারি সার্কুলার ছাড়া টাকা দেবেন না প্লাস ভিসার ক্যাটাগরি না বুঝে আবেদন করবেন না। মনে রাখবেন জাপান সরকার কাগজে খুব শক্ত। যার কারণে একবার ভুল হলে, ভবিষ্যত বন্ধ।
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার ব্যাপারে সবশেষে বলবো প্রোগ্রাম সরকারি ওয়েবসাইটে আছে কিনা, চুক্তি ও অফার লেটার জাপানি কোম্পানির কিনা, টাকা দেওয়ার রিসিট ও প্রসেস স্বচ্ছ কিনা সবকিছু চেক করে নেবেন। ঠিক পথে গেলে জাপান শুধু বিদেশ না বরং আপনার একটি নতুন জীবন হতে পারে।